Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি

Published:2016-10-16 19:04:57    
আপনারা জানেন যে, আর কিছুদিন পরই (আগামী ৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্র, যেহেতু দেশটির প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে ব্যাপক ক্ষমতা -- ব্যাপক ক্ষমতা বলতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একইসঙ্গে দেশটির সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ। কংগ্রেসের যে কোনো আইনকে অনুমোদন ও বাতিল করা, মন্ত্রিসভা গঠন ও উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে তার রয়েছে একচ্ছত্র ক্ষমতা। তাছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি চাইলে বিশ্বব্যবস্থায় আনতে পারেন ব্যাপক পরিবর্তন। তাই স্বভাবতই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সেদিকে আমাদের সবার নজর রয়েছে। সঙ্গত কারণেই দেশটির নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কেও আমরা জানতে চাই। কিন্তু যেহেতু দেশটি পরিপূর্ণভাবে গণতন্ত্র চর্চা করে তাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি কিছুটা জটিল। তবে একটু মনোযোগ দিয়ে বুঝলে/শুনলে জটিল মনে হবে না।
আমরা জানি, প্রতি চার বছর পর পর অনুুষ্ঠিত হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনের পূর্বে প্রথমে প্রার্থীদেরকে দলীয় মনোনয়ন পেতে হয়। সবার শেষে জাতীয় সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে দলীয় প্রার্থী মনোনীত হয়। এরপর ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান প্রার্থীর মধ্যে তিনটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নভেম্বরের ২ থেকে ৮ তারিখের মাঝের মঙ্গলবার। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা প্রতিনিধি সভা এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ এবং ইলেক্টরাল কলেজের সদস্যরা নির্বাচিত হয় এ দিন।
এখানে একটু বলে নেই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২ নং ধারা অনুসারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেক্টরাল কলেজের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হলো-- এই ইলেক্ট্ররাল কলেজের সদস্য কারা? তার আগে বলে নেই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সিনেটের ১০০ সদস্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্য নির্বাচিত হয়। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ দুই বছর মেয়াদি। তারা একেকটি জেলা/আসনের প্রতিনিধিত্ব করে। উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্যরা ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। প্রতি দুই বছর অন্তর সিনেটের এক তৃতীয়াংশের নির্বাচন হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে দু’জন করে সিনেটর থাকেন। এই যে, প্রতিনিধি সভার ৪৩৫ জন, সিনেটর ১০০ জন এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আরও ৩ জন--মোট ৫৩৮ জনের সমান ইলেক্টরাল কলেজের সদস্য নির্বাচন করা হয়। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টরাল ভোট পেতে হবে। নির্বাচনের পূর্বে প্রত্যেক প্রার্থী নিজের অথবা তার দলের পছন্দ অনুযায়ী ইলেক্টর মনোনয়ন দেন। মেইন ও নেব্রাস্কা ছাড়া বাকি সব ক’টি অঙ্গরাজ্যে যে প্রার্থী বেশি পপুলার ভোট পান, সে রাজ্যে তার মনোনীত ইলেক্টোরাল কলেজের সবাই জিতলেন বলে বিবেচিত হন। কোনো প্রার্থী ইলেক্টরাল কলেজের প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোট না পেলে প্রেসিডেন্ট নির্র্বাচনের দায়িত্ব চলে যায় কংগ্রসের হাতে। তখন নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে।
নির্বাচনে একজন ভোটার নিজের পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিলেও মূলত ভোটাররা ইলেক্টর নির্বাচনের জন্যই ভোট দেন। কারণ এই ইলেক্টরদের ভোটেই নির্বাচিত হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তাই দেখা যায় পপুলার ভোট বা মোট ভোট বেশি পেয়েও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। যেমন, ২০০০ সালের নির্বাচনে ইলেক্টোরাল ভোট কম পাওয়ায় ডেমোক্রেট প্রার্থী আল গোর জর্জ ডব্লিউ বুশের চেয়ে ১০ লাখ বেশি পপুলার ভোট পেয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজের ভোট পেতে হবে।
পপুলার ভোটের ভিত্তিতে না হয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতিতে কেন প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়? এর কারণ হলো--
আমরা জানি, জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি রাজ্যের জন্য ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্য নির্ধারণ করা হয়। নিউইয়র্ক ও ক্যালির্ফোনিয়ার মত রাজ্যে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। এখন যদি প্রেসিডেন্ট শুধুমাত্র বড় কয়েকটি রাজ্যের পপুলার ভোট পেয়েই নির্বাচিত হয়ে যান তাহলে তিনি পুরো দেশের জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়েই ক্ষমতায় চলে যাবেন, যা মার্কিনীদের মতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিপরীত। তাই পুরো দেশের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্যই ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়। অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কিছুটা হলেও পরোক্ষ নির্বাচন।

আরও সংবাদ