Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

পাবলিক প্লেসে ধূমপান এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র

Published:2016-12-05 15:40:41    
২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করে সরকার। ওই আইনে সংজ্ঞায়িত পাবলিক প্লেসে ধূমপানে জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই আইন শুধুই ছাপার অক্ষর ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা, এই আইনের কোন কার্যকারিতা বা প্রয়োগ আমাদের সাধারণ নাগরিকদের চোখে পড়ছে না। শুধু তাই নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও দেদারসে চলছে ধুমপান।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি লোক সমাগমের জায়গা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। এটি বাংলাদেশের প্রধান রেল স্টেশন। প্রতি দিন হাজার হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায় এবং আসে এ স্টেশন দিয়েই। ট্রেন ছাড়ার আগে ও পরে বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম হয় এ স্টেশনে। ছেলে-বুড়ো, শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ সব বয়সের ও শ্রেণী পেশার মানুষ এখানে আসেন কিছু সময়ের জন্য হলেও। ট্রেনে ওঠার আগে যথারীতি প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করেন। কিন্তু এই জনকোলাহলযুক্ত জায়গাটি স্বাস্থ্য সম্মত নয়। যত্রতত্র বিড়ি-সিগারেট ফুঁকছেন ধুমপায়ীরা। সিগারেটের ধোঁয়ায় চারপাশ গন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শিশু ও নারীরা কষ্ট পাচ্ছে খুব কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। শুধু ধুমপান নয়, বিড়ি সিগারেটের যাবতীয় আয়োজন বেচা-বিক্রি চলছে প্ল্যাটফর্মেই। বসার জায়গায় রীতিমত আসন পেতে দোকান খুলে বসেছেন পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানিরা। নিজেরাও দেদারসে সিগারেট টানছেন, ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। সেই সঙ্গে পানের পিক আর নানা রকমের গন্ধে অধুমপায়ীদের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি অবস্থা।
স্টেশন কর্তৃপক্ষের যে এসব নজরে আসে না, এ কথা বলাই বাহুল্য। বরং বলা যায়, তারা দেখেও দেখেন না। টিকিট ছাড়া কটা যাত্রী আসলো কি গেল, তাদের কাছ থেকে জরিমানা বা অর্থ আদায়ে খুব তৎপর আনসার-পুলিশ থেকে শুরু করে স্টেশন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। কিন্তু ততটা তৎপরতা নেই পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য।
প্ল্যাটফর্মে ধুমপানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া তো দূরে থাক, অনেক পুলিশ সদস্য এবং সাদা পোশাকের রেল কর্মীদেরও দেখা যায় প্রকাশে ধুমপান করতে। আইনের ৭ এর ১ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পাবলিক প্লেসের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক উহাতে এবং কোনো পাবলিক পরিবহনের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক উহাতে ধূমপানের জন্য স্থান চিহ্নিত বা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন। কিন্তু কমলাপুর রেল স্টেশনে ধুমপায়ীদের জন্য এমন আলাদা কোন জায়গাও চোখে পড়েনি।
গেল ফেব্রুয়ারি মাসে আইন অনুসারে জনসমক্ষে ধূমপান বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, সরকারকে জানাতে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। তখন স্বাস্থ্য সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সে রুলের জবাব তাঁরা কি দিয়েছিলেন তা জানা নেই। তবে সাধারণ নাগরিক হিসেবে এতটুকু দাবি করা নিশ্চয়ই অযৌক্তিক হবে না যে, পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তাহলে মানুষের ভোগান্তি একটু হলেও কমবে।
সাজিদ রাজু
সংবাদকর্মী

আরও সংবাদ