Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon June 18 2018 ,

শীতে জমেনি গরম কাপড়ের বাজার

Published:2017-01-09 08:02:48    
মৌসুমের শেষদিকে ঢাকাবাসী শীতের তীব্রতা কিছুটা টের পেলেও তাতে তাতেনি শীত নিবারণের কাপড় বেচাকেনা।
এবার জানুয়ারির শুরুতে ঢাকায় গরম কাপড়ের প্রয়োজন অনুভব করে অনেকে বাজারমুখী হলেও কাপড় কেনার তাগাদা নেই খুব একটা।
 
চাহিদা কম থাকায় দামে স্বস্তি থেকে ঘুরতে এসেও কেউ কেউ কিনছেন শীতের কাপড়। তবে তাতে মন ভরেনি বিক্রেতাদের, তার ওপর শুরু হওয়া মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা অভিমুখে ক্রেতাদের আগ্রহে আশা হারিয়েছেন তারা।
 
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দেরিতে শীত আসায় গরম কাপড়ের কেনার প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ নেই।
 
‘অল্প কয়েকদিনের’ জন্য আর কিনে কী হবে, বছরের শুরুতে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাখাতে বাড়তি খরচে অভিভাবকদের এদিকে আগ্রহ কম বলে মনে করছেন তারা।
 
শনিবার রাজধানীর গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, পল্টন, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেইটের পাইকারি ও খুচরা কাপড়ের বাজার ঘুরে তেমন ভিড় দেখা যায়নি।
 
গুলিস্তানের বিভিন্ন বিপণীবিতান ও ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে নানা শীতের কাপড়। নারী-পুরুষ ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ‌১০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা দামের পর্যন্ত।
 
গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে কয়েকজন মেয়েদের চাদর সাজিয়ে বসলেও ক্রেতা হাতেগোনা।
আমিনুল নামে একজন বিক্রেতা বলেন, “ফুটপাতের দোকান বলে দাম কম। কিন্তু এবার ক্রেতা কম বলে বেচাকেনাও কম।
 
“এইগুলো চায়না চাদর। দোকানে গেলে ৪০০ টাকার কমে পাইবেন না। কিন্তু বেচাবিক্রি কম দেইখা আমরা দুইশ টাকায় দিয়া দিসি।”
 
ছেলেদের হুডি নিয়ে বসেছেন সাগর নামে আরেকজন। তিনি বলেন, ক্রেতা না থাকায় ৫০০ টাকার হুডি এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
 
“শীততো নাই। ব্যবসা হইব ক্যামনে? এজন্যই দাম কমাইয়া দিসি।”
 
গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে একটি স্যুয়েটার কিনে খুশি নবাবগঞ্জের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন।
 
“এবার দাম বেশিও না, কমও না। দাম ঠিকই আছে,” বলেন তিনি।
 
গুলিস্তান এলাকায় সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষ কেনাকাটা করেন জানিয়ে সেখানকার ফুটপাতের ব্যবসায়ী আবদুল মোতালেব বলেন, “মানুষের কাছে মনে অয় টাকা নাই। বাচ্চাগো স্কুলে ভর্তি, বইখাতা কিন্নাই তো বেবাক টাকা খরচ অইয়া যায়। শীতের পোশাক কিনবে ক্যামনে?”
এলিফ্যান্ট রোডের আল্পনা প্লাজায় শীতের কাপড় কিনতে এসেও ফিরে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম। একটি দোকানে ঢুকে স্যুয়েটার দেখেন। দাম বেশি মনে হওয়ায় তা আর কেনা হয়নি।
 
“এবার তো শীতই লাগে না। শীতের কাপড়ের প্রতি আগ্রহও তাই কম। কিনলেও হয়, না কিনলেও চলে,” বলেন তিনি।
 
ওই বিপণিবিতানের ‘ফ্রি হিট’ নামের একটি দোকানের মালিক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এবার ব্যবসায় খুব ‘লস’ যাচ্ছে তাদের।
 
“একে তো শীত কম। আবার বাণিজ্যমেলা শুরু হয়েছে। লোকজন সব ওই দিকে ছুটছে। এই দিকের মার্কেট ফাঁকা।”
 
এ মার্কেটের তুলনায় নিউ মার্কেটে ভিড় কিছুটা বেশি হলেও দাম নিয়ে স্বস্তির কথা বললেন কয়েকজন ক্রেতা। সামিউন নাহার বৃষ্টি নামে একজন বলেন, “ঢাকায় তো শীতের কাপড় তেমন দরকারই পড়ে না। তাই কেনা হয়নি। আজ ঘুরতে আসলাম। পছন্দ হয়ে যাওয়ায় কিনে ফেললাম।”
মিরপুর সড়কের নূরজাহান প্লাজা থেকে জ্যাকেট আর হুডি কিনেছেন মাসুম বিল্লাহ নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, শীতের পোশাকের দাম নাগালের মধ্যেই।
 
“দাম খুব বেশি না, রিজনেবল। শীত তো নাই। এজন্য মানুষই আসে না। চাহিদা থাকলে তো দাম বাড়ত।”
 
ঢাকার পাইকারি বাজারেও শীতের পোশাকের বেচাকেনা কম বলে বঙ্গবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান। তারা বলেন, প্রতি বছর অক্টোবরের শুরু থেকেই তাদের ওখানে শীতের কাপড়ের বেচাকেনা শুরু হয়, নভেম্বর- ডিসেম্বর হয়ে তা জানুয়ারি পর্যন্ত চলে।  এবার প্রথম দিকে কিছুটা বেচাকেনা হলেও ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কমে গেছে।
 
বঙ্গবাজার ও এনেক্সকো মার্কেট ঘুরে তাদের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। দোকান ভর্তি শীতের কাপড় থাকলেও নেই ক্রেতার ভিড়।
 
এনেক্সকো মার্কেটে জ্যাকেট কিনতে এসেছিলেন যশোরের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ঢাকায় তেমন শীত না থাকলেও যশোরে অনেক শীত।
“যশোরে তো বেশ শীত। ঢাকায় আসছি, ভাবলাম একটা জ্যাকেট কিনে নিয়ে যাই। দুই হাজার টাকায় কিনলাম। দাম ঠিকই আছে।”
 
তিনি যে দোকান থেকে জ্যাকেটটি কেনেন, সেই এবি সিদ্দিক অ্যান্ড সন্সের বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুম শেষ হতে চলায় কাপড়ের দামও কমে গেছে।
 
“এই জ্যাকেট গত মাসে তিন হাজারের কমে বেচি নাই। কিন্তু শীত চলে যাচ্ছে তাই বেচে দিচ্ছি। এখন শীত বাড়লেও বেচাকেনা আর বাড়বে না। ১০-১৫ দিনের জন্য কেউ শীতের কাপড় কেনে না। আমাদের মার্কেটে বেচাকেনা যা হয় তা শীতের শুরুতেই হয়ে যায়।”
 
এই মার্কেটের কম্বলের দোকান ‘ব্র্যান্ড কালেকশন’র মালিক কবির হোসেন বলেন, এবার কম্বলও বিক্রি হয়েছে কম। মার্কেটের গলি দেখিয়ে তিনি বলেন পাইকার নাই বাজারে। এই সপ্তাহেই দোকান থেকে কম্বল সরিয়ে নেবেন বলে জানান তিনি।
 
“দেখেন মার্কেট খালি। পাইকার থাকলে তো বেচাকেনা হবে। তারা বেচতে পারলে আমাদের এখান থেকে মাল কিনবে। আর দুদিন পরই এগুলো গুছিয়ে অন্য মাল দোকানে তুলব।”

আরও সংবাদ