Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Sat July 22 2017 ,

বাণিজ্যের জন্য স্থল নৌ আকাশ পথ উন্মুক্ত করতে হবে: ইনু

Published:2017-03-04 10:58:46    
আঞ্চলিক বাণিজ্যের ‘সব সুবিধা পেতে হলে’ বাংলাদেশের স্থল, নৌ ও আকাশ পথ উন্মুক্ত করে দিতে হবে বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
 
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার বাণিজ্যে আন্তঃদেশীয় সংলাপ বিষয়ে একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
 
‘ক্রস বর্ডার বিজনেস ডায়লগ অন সাসটেইনেবল কনটেক্সট অ্যান্ড ভেরিয়াস ট্রেড অপারচুনিটিজ’ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
 
‘বিআইআইডি এক্সপো অ্যান্ড ডায়লগ-২০১৭’র অংশ হিসেবে এটি আয়োজন করা হয়। সম্মেলন কেন্দ্রের সীমানার ভেতরেই বিভিন্ন স্টলে নানা প্রযুক্তির প্রদর্শনী চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে শনিবার নাগাদ।
 
বাণিজ্যে ‘শত্রু শত্রু খেলা’র দিন শেষ মন্তব্য করে হাসানুল হক ইনু বলেন, “লেট আস ফরগেট দ্য পাস্ট, লুক ফরওয়ার্ড ফর এ প্রো ট্রেড, প্রো ইন্ডাস্ট্রি, প্রো কো-অপারেশন ফরেন পলিসি...। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নকে সামনে রাখছেন। দ্বিপক্ষীয় সমস্যা দ্বিপক্ষীয় টেবিলে সমাধানের পরামর্শ দিচ্ছেন।
“চীনারা বলে, দ্বিপক্ষীয় সমস্যা থাকলে ওইটা আপাতত ফ্রিজে থাক। আসুন মানুষের প্রয়োজনে সামনের দিকে তাকাই, সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি।”
 
বাংলাদেশকেও নিকট প্রতিবেশী, এশিয়া ও বিশ্বের সঙ্গে বহুমাত্রিক শান্তিপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে বলে মনে করেন জাসদ নেতা ইনু।
 
তিনি বলেন, “সেটা না থাকলে শান্তিও হবে না। স্থল পথ, নৌ পথ, আকাশ পথ নির্বিঘ্ন করতে পারবেন না।
 
“আমাদের মনটাকে উদার করতে হবে। বাংলাদেশের স্থল পথ, নৌ পথ, আকাশ পথ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এখানে কোনো রকম রাজনীতির খেলা চলবে না। আমরা আমাদের গভীর সমুদ্র বন্দর এখানে করছি, এটা কেবল বাংলাদেশের জন্য না। এই অঞ্চলের জন্য।”
 
বাংলাদেশের শুধু অর্থনীতির নয়, পররাষ্ট্র নীতিরও দিনবদল বলে মনে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
 
সালমান এফ রহমান সালমান এফ রহমান বর্তমান বিশ্বে শিল্পোন্নত দেশগুলোর বাইরে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশের নেতৃত্বে যে উত্থানপর্ব চলছে তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “এদের পরে যে ১১টি দেশ সমৃদ্ধি অর্জন করছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে।
“সেদিক থেকে আমরা মনে করছি, ১৯৪টা দেশের মধ্যে উন্নত বিশ্বের বাইরে বাংলাদেশ একটা চমৎকার অবস্থানে রয়েছে।”
 
বড় অর্থনীতির পাশের দেশ হিসেবে একটি বাড়তি সুবিধা থাকে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “চীন ও ভারতের পাশের বাংলাদেশ, যদি যোগাযোগটা ঠিকমত করতে পারি, তাহলে উন্নয়নের জন্য এর সুফল আমরা পাব।
 
“দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোও আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই মুহূর্তে চীন বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্র। তারা কেবল আমাদের বাণিজ্য সহযোগীই না, তারা এখানকার অবকাঠামো, জ্বালানিসহ আমাদের জাতি গঠনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।
 
গোলাম দস্তগীর গাজী গোলাম দস্তগীর গাজী “সেদিক থেকে আমরা মনে করি, এখন পুরো বিষয়টা মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। যদিও আমরা চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতিতে আছি, কিন্তু এটা পূরণ করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। এই মুহুর্তে আমাদের স্বীকার করে নিতে হবে, আমাদের স্থল-নৌ পথ এবং আকাশ পথকে নির্বিঘ্ন করতে হবে। আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যে এই তিন পথকে শান্তিপূর্ণ রাখা একটা পূর্ব শর্ত।”
বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি গোলাম দস্তগীর গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজের চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও সংবাদ