Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu September 20 2018 ,

পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের প্রত্যাশা

Published:2017-04-02 12:51:46    
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা: পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টা সর্বসাম্প্রতিক নয় বরং তা দীর্ঘ দিনের এবং দীর্ঘ পরিসরের। এ বিষয়ে সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলোর দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। এমনকি পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকেও বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। কিন্তু তাদের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্নটাও বেশ জোড়ালো। মুখে কথামালার ফুলঝুড়ি দেখা গেলেও বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। পরমাণু শক্তিধর এক দেশ অন্যদেশকে নিরস্ত্র করতে চায়। কিন্তু নিজেরাই থাকতে চায় সর্বাধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত। তাই বিষয়টি নিয়ে এ পর্যন্ত কোন উদ্যোগই ফলবতী হয়নি। আসলে পরাশক্তিগুলো যদি এ বিষয়ে তাদের সনাতনী দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন না করে তাহলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই থেকে যাবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না। আর সহসাই এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে তা আপাত মনে করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।
অনেকটা আশা-নিরাশার দোলাচলেই গত বছরের এপ্রিলে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হয়েছিল পরমাণু নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলন। পরমাণু অস্ত্রের বিস্তাররোধ ও পরমাণু অস্ত্রমুক্ত নতুন বিশ্ব গড়ার প্রত্যাশায় আরও ছয় বছর আগে প্রথম ওয়াশিংটনে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকও ছিলেন নবীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেই আয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরমাণু অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্বের রূপরেখা বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন বারাক হোসেইন ওবামা। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই তাই গত বছরের শীর্ষ সম্মলনই ছিল ওবামার শেষ শীর্ষ সম্মেলন।
গত বছরের শীর্ষ সম্মেলনে ‘সন্ত্রাসীরা একটি পরমাণু হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এদের সেই পরিকল্পনা সফল হলে আমাদের এই পৃথিবী বদলে যাবে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই আশঙ্কা ব্যক্ত করে বিশ্বে পরমাণু বোমা ও পারমাণবিক উপাদানগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসির এই সম্মেলনে পরমাণু নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সন্ত্রাসীদের পরমাণু হামলার তৎপরতায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ডের আশঙ্ককায়ও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের বিষয়টি স্থান পায়নি বরং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদানগুলো যাতে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর হাতে না যায়নি সেদিকেই তিনি অঙ্গলী নির্দেশ করেন।
সম্মেলনে ৫০টির বেশি দেশ যোগ দেয়। অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি এবং সম্মেলনে রাশিয়ার অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার বিষয় দু’টি নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ওয়াশিংটনে আয়োজিত এই সম্মেলনে যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ছাড়া লাহোরে ভয়াবহ বোমা হামলার পর দেশে ফিরে যান পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী মিয়া নওয়াজ শরীফ। ফলে এই শীর্ষ সম্মেলন কিছুটা হলেও জৌলুশহীন হয়ে পড়ে।
বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে গত বছর বৈঠকে বসেছে শতাধিক দেশ। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে কিছু পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র। জাতিসংঘের ১২৩টি রাষ্ট্র ২০১৫ সালের অক্টোবরে ঘোষণা দিয়েছিল যে, আইন করে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা করতে তারা জাতিসংঘে একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে। গত বছরের ২৭ মার্চ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান দফতরে এ লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। এ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সুইডেন নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু প্রাপ্তির খাতাটা শুণ্যই থেকে গেছে।
এছাড়াও বিশ্বের শতাধিক বেসরকারি সংস্থা উদ্যোগের প্রতি তাদের জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা বলছে, পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের টানাপড়েন এবং নতুন মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত অস্পষ্টতার কারণে বিশ্বে পরমাণু সংঘাত বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে পরমাণু অস্ত্রধর অনেক দেশ এই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। চীন, ভারত এবং পাকিস্তান এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ ইহুদিবাদী ইসরাইলও পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। ফলে সমস্যা যেখানে ছিল সেখানেই থেকেছে।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে বিশ্বপরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্বপরিস্থিতির পালে নেতিবাচক হাওয়া লেগেছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও বেশ সংঘাত মুখর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং আদালতে তা বাতিল হওয়ার পর চরম অস্বত্ত্বিতে পড়েছে মার্কিন প্রশাসন। ইতোমধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গণপদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পতনের সম্ভবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল। যা চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করবে বলেই মনে করছেন কুটনৈতিক মহল। 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একের এক এক বিতর্কিত ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই উত্তাল হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে বড় বড় বিক্ষোভ-সমাবেশ হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাসীর মনে প্রশ্নে এসে গেছে, হয়তো অনতিবিলম্বেই প্রেনিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা হরাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) প্রাক্তন বিশ্লেষক এমন দাবিই করছেন। তিনি বলেছেন, যেকোন সময় পতন ঘটতে পারে ডোনাল্ড  ট্রাম্পের। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে যে তদন্ত চলছে, এর মাধ্যমেই শেষ হতে পারে ট্রাম্পের ক্ষমতা। ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন তিনি। 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন শিন্ডলার মনে করছেন, 'প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার জন্য তার টিম রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাত করেছিল- তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেলে এবং এতে ট্রাম্প অভিযুক্ত হলে তার ক্ষমতার ইতি ঘটতে পারে। সিবিসি রেডিওর সঙ্গে কথা বলার সময় শিন্ডলার বলেন, তার (ট্রাম্প) লোকজন ছাড়া প্রেসিডেন্ট নিজে যদি এই অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তখন এটি হবে পরিবর্তন এনে দেওয়ার মতো ঘটনা।
এদিকে দিন দিন কমতে শুরু করেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। এই পর্যন্ত সবচেয়ে কম জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে হয় তাও হারাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে হ্রাস পেয়ে এখন ৩৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। গ্যালোপ পোলের মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাত্র দুই মাস পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪৫ শতাংশ থেকে নেমে ৩৬ শতাংশ এসে ঠেকেছে। ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যনীতি বাতিলে ব্যর্থ হওয়ার পর এ মতামত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অন্যদিক ট্রাম্পের তৎপরতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশকারীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ১৫০০ মার্কিন নাগরিকের ওপর টেলিফোনে চালানো সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে গ্যালোপ।
মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তাই এ বিষয়ে ইতিবাচক কিছু করতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই উদ্যোগী হতে হবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে যে লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব বিস্তার এবং ইতিবাচক কিছু করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। ইতোমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুটনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখী হয়েছে। তাই পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হলেও অন্য পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তাতে সায় দেবে এমনটা মনে করার যৌক্তিক কোন কারণ আছে বলে মনে হয় না। আর দেশটি পারমাণু কর্মসূচী পরিহার করবে এমনটাও আশা করা যায় না। 
আর বাস্তবতাও সেদিকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সম্প্রতি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নেতৃত্বে এ ইস্যুতে আয়োজিত জাতিসংঘের বৈঠক বর্জন করছে অন্তত ৪০টি রাষ্ট্র। গত অক্টোবরে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করতে একটি বৈশ্বিক চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর নীতিগত উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘের ১২৩টি সদস্য দেশ। গত ডিসেম্বরে এ বিষয়ে সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হয়। আলোচনা শুরুর পক্ষে ভোট দেয় ১১৩টি দেশ। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় ৩৫টি দেশ। অপর ১৩টি দেশ ভোট প্রদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ সব দেশ। ডিসেম্বরের ভোটে প্রস্তাবে বিরুদ্ধে ভোট দেয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইসরায়েল, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। 
অন্যদিকে পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ চীন, ভারত ও পাকিস্তান ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে। এমনকি পারমাণবিক হামলার শিকার একমাত্র দেশ জাপানও এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। গত ২৭ মার্চ জাতিসংঘের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই বৈঠক বর্জনের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নিক্কি হ্যালি জানান, মার্কিন প্রশাসনের নেতৃত্বে ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরায়েলসহ অন্তত ৪০টি দেশ এ বৈঠক বর্জন করছে। তিনি বলেন, আমি একজন মা হিসেবে আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব চাইতেই পারি। কিন্তু আমাকে বাস্তবতা বুঝতে হবে। এটা নিষিদ্ধের প্রস্তাব পুরোপুরি অবাস্তব। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োজন। 
কেননা আপনি কখনোই শত্রু দেশকে বিশ্বাস করতে পারবেন না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির প্রস্তাবে রাজি হবে, এটা কি কেউ বিশ্বাস করতে পারেন? তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে এ আলোচনায় অংশ নেয়া থেকে আরো অন্তত ৪০টি দেশ বিরত থাকতে রাজি হয়েছে। যদিও ১২০টির বেশি দেশ এখনো এ আলোচনা শুরুর বিষয়ে আশাবাদী। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ শক্তিশালী দেশগুলোর বৈঠক বর্জনের কারণে এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। 
মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির কারণেই বিশ্ব পরিস্থিতি আবারও অশান্ত হয়ে উঠছে। বেড়ে যেতে পারে পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতাও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়াও একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কারণ, অভ্যন্তরীণ অশান্ত পরিস্থিতে তাদের বৈশ্বিক কাজে মনোনিবেশ করা সম্ভব নয়। আর ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন শক্তির জন্য পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত হওয়াও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শান্তিপ্রিয় বিশ্ববাসী অনেকটাই আশাহত। সর্বসাম্প্রতিক ঘটনাবলী সেদিকেই অঙ্গলী নির্দেশ করে। তাই পরমাণু অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব শুধুই কল্পনার ফানুস ছাড়া কিছু নয়। বাস্তবতাটা শুধু অন্তসারশুণ্যই বলতে হবে। 
 
লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক। 

আরও সংবাদ