Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

ট্যানারি স্থানান্তর: নদী দূষিত করলে ব্যবস্থা

Published:2017-04-09 17:06:29    
হাজারীবাগে অবস্থিত ট্যানারি গুলোকে করা দৈনিক ১০ হাজার টাকা এবং বকেয়া প্রায় ৩১ কোটি টাকা মওকুফ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে জরিমানাকৃত টাকা মওকুফ করলেও প্রত্যেক ট্যানারিকে (১৪২টি ) ১৫ দিনের মধ্যে এককালীন ৫০ হাজার টাকা শ্রম-সচিবের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। 
 
যে টাকা ট্যানারি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করবেন শ্রম সচিব। রবিবার (০৯ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত এক রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ।
 
আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। অপর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
 
এছাড়া সাভারে স্থানান্তরিত কারখানা গুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ (আদালতের আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর) দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি সাভারের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিসিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
অন্যদিকে হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরের পর ওইসব কারখানার মালিকরা যদি হাজারিবাগের জায়গা ভিন্ন কোন কাজে ব্যবহার করতে চায় তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে। ছাড়পত্র অনুযায়ী সেখানে গ্যাস, বিদুৎ, পানির সংযোগ দেওয়া যাবে বলেও নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
 
এছাড়াও হাজারীবাগের বর্জ্য দিয়ে ধলেশ্বরী নদী দূষিত  করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন আদালত। গত ০২ মার্চ হাজারীবাগে থেকে যাওয়া ট্যানারি গুলোর ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া জরিমানা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
 
এ আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আবেদন জানায়। গত ১৯ মার্চ চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন।
 
এছাড়া আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজারীবাগে ট্যানারি চালু রাখায় গত বছর ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে মালিকরা এ আদেশের রিভিউ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানান।
 
দু’টি আবেদনই শুনানির জন্য ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় আসার পর আদালত বলেছেন, ট্যানারি ক্লোজ ডাউন করে আসার পর ০৯ এপ্রিল দুটি আবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে। এর মধ্যে ০৮ এপ্রিল হাজারীবাগে থাকা ট্যানানি গুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপরই আজ আদালত এ আদেশ দেন।

আরও সংবাদ