Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

হাওরে কৃষকের হাহাকার

Published:2017-04-21 10:04:10    
ঘরে খাবার নেই, পাহাড়ি ঢলে জমির ধান নষ্ট হয়েছে আগেই। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের শেষ পথটিও বন্ধ। টনে টনে মাছ মরে ভেসে উঠছে।
 
সিলেট, সুমানগঞ্জ থেকে শুরু করে সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে ভেসে ওঠা পচা মাছের দুর্গন্ধ। তবে মড়ক ঠেকাতে সরকারের কিছু কিছু উদ্যোগ চোখে পড়ছে।
 
হাওর পারের মানুষের দীর্ঘশ্বাসে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। চারদিকে এমন হাহাকারের মধ্যেই এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে হাওর অঞ্চলের নিঃস্ব মানুষগুলোর কাছে।
 
ত্রাণ সহায়তা নিয়েও নানা অভিযোগ। মোহনগঞ্জসহ হাওর পারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এনজিও প্রতিনিধিদের ভয়ে এক গ্রামেরই ছয়টি পরিবারের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তাদের বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
 
যুগান্তর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) : সরেজমিন ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরে ৪০০ টন মাছ মরে গেছে। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নষ্ট হওয়ায় উপজেলার কৃষিনির্ভর শতাধিক গ্রামে চলছে হাহাকার। সরকারিভাবে ৫ হাজার ২০০ কৃষককে কিছু ত্রাণ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ২০০ কৃষকের ভাগ্যে কোনো সহায়তা জোটেনি। আবার ওই নিঃস্ব কৃষকের ওপর কিস্তি আদায়ে এনজিওগুলোর ‘অমানবিক’ তৎপরতায় অতিষ্ঠ অনেকেই।
 
চলতি সপ্তাহে ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরের ৪০০ টন মাছ মরে গেলেও মোহনগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা অবশ্য ২০০ টন মরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়ে অক্সিজেনের অভাবে মাছগুলো মারা যাচ্ছে। মাছের অব্যাহত মড়ক পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ কয়েক দফা হাওর অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন।
 
মোহনগঞ্জ কৃষি বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এবং অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় এখানে ১১৪ কোটি টাকার বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম নাফিস জানান, উপজেলার ১৮ হাজার ৪০০ কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে ৪৮ টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, জনপ্রতি ১৫ কেজি হারে ৩ হাজার ২০০ কৃষককে চাল এবং ২ হাজার কৃষকের মধ্যে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। এখনও ১৩ হাজার ২০০ কৃষক কোনো সহায়তা পাননি।
 
১৮ এপ্রিল সরেজমিন সিয়াধার গ্রামে যাওয়ার পর কথা হয় সালেহা, রিনা, পুষ্প, শান্তু মিয়া, সাজেদা, বিলকিস, রহিমা, রেখা, বিউটি, ববিতার মতো আরও অনেকের সঙ্গে। তারা সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে এই প্রতিবেদককে জানান। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মোহনগঞ্জের সিয়াধার গ্রামের মধ্যপাড়ায় এ প্রতিবেদকের দেখা হয় এনজিও আশার ঝিমটি শাখার লোন অফিসার মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি অকপটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণ আদায়ের কথা স্বীকার করেন।
 
কৃষকের ওই দুঃসময়ে ঋণের কিস্তি আদায়ে মেতে ওঠা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কিস্তি বাবদ রিনার কাছ থেকে ৮০০, নাছিমা ৪৫০, সালেহা, রুমেলা ও পুষ্পের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে সিয়াধার পূর্বপাড়ায় এনজিও ডিএসকের এসও এনামুল হককে ঋণের কিস্তি আদায় করতে দেখা গেছে।
 
তিনি কিস্তি বাবদ সমলার কাছ থেকে ৩ হাজার ৯৯১ টাকা, আফছারের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮৪৯ টাকাসহ আরও ১২ জনের কাছ থেকে কিস্তি আদায় করেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বীকার করে বলেন, কিস্তি দিতে না পেরে কালাম, শাহিনুর, মালা, আজেদা, রিক্তা ও রাহেলা ওই গ্রাম থেকে অন্যত্র চলে গেছেন।
 
এদিকে ঘরে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় কেউ কেউ দুপুরের খাবার বাদ দিয়েছেন। দিনে দু’বার অনেকে একবার রুটি খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদেরই একজন বিলকিছ। প্রতিবন্ধী স্বামী তাজুলের স্ত্রী বিলকিছ বলেন, সকালে রুটি খেয়েছি। দুপুরের খাবার ঘরে নেই। রাতে খাবার জুটবে কিনা জানি না। মোহনগঞ্জের ওই সিয়াধার গ্রামের মতো উপজেলার শতাধিক গ্রামে প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।
 
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় ৪নং মাঘান-সিয়াধার ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক, ৩নং তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মুরাদ এবং ১নং বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে। তারা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। তারা বলেন, এনজিওর কিস্তি বন্ধসহ নতুন করে ঋণ প্রদান, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বছরব্যাপী চালু রাখা, সরকারি ত্রাণ সহায়তায় বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচি চালু করা ছাড়া অন্য উপায় নেই।
 
বালাগঞ্জ (সিলেট) : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া পরবর্তী বোরো ফসল কাটার আগ পর্যন্ত ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সিলেট বিভাগসহ আরও দু-একটি জেলা বন্যা আক্রান্ত হয়ে ফসলহানি হয়েছে। সারা দেশে আশাতীত ফসল উৎপাদন হয়েছে।
 
বিষাক্ত গ্যাসে মাছের মড়ক : বালাগঞ্জের হাওরগুলোতে এক সপ্তাহ ধরে মাছের মোড়ক শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ ভেসে উঠেছে। চৈত্রের শেষ দিকে অতি বৃষ্টিতে অকাল বন্যায় হাওরগুলোর কাঁচা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এখন হাওরগুলোতে পানি কমতে শুরু করলেও বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়ে কালচে রং ধারণ করেছে।
 
অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধান এবং মাছ পচা গন্ধে মানুষের মধ্যে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিষাক্ত পানি লাগলেই চুলকানি শুরু হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বণিক জানান, ফসল পচে অ্যামোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হয়ে মাছগুলো বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে।
 
ইতিমধ্যেই গুরাপুর হাওরে ২০ হাজার টাকার চুন ছিটানো হয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ সিংহ জানান, রোগ জীবানু থেকে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগে নদ-নদী, জলাশয় ও হাওরের বিলগুলো রক্ষা করতে চুন ছিটানো হচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে।
 
মড়ক ঠেকাতে নানা উদ্যোগ- গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : সিলেটের গোলাপগঞ্জে দেশের বৃহত্তর হাকালুকি হাওরসহ ছোট-বড় ৩৫টি হাওর ও বিলে মাছ পচে সৃষ্ট দুর্গন্ধ দূর করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন মাছ ধরা ও ভেসে ওঠা মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পানিতে অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহ সৃষ্টিতে পিএইচ বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাওর ও বিলগুলোয় চুন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। হাওর ও বিল ইজারাদার ছাড়াও সুশীল সমাজের সঙ্গেও বৈঠক করেছে প্রশাসন।
 
৩ টন চুন মজুদ রাখার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিদিন ১ টন চুন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলে যুগান্তরকে জানান, দূষিত পানিতে চুন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফনিদ্র সরকার জানান, হাওর ও বিলের দূষিত পানি সায়েন্টিফিক যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে এলে বোঝা যাবে কী কারণে মাছ মরছে।
 
হাকালুকি পরিদর্শনে উচ্চপর্যায়ের টিম- কুলাউড়া : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সৈয়দ মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের সমন্বিত টিম বৃহস্পতিবার হাকালুকি হাওর পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা ৬ ইউনিয়নের মানুষের জন্য ২০ টন চাল ও ৯৫ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
 
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক (রিজার্ভ) মো. রমজান আলী, মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকার্তা আ ক ম শফিক-উজ-জামান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাসুদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও জুড়িসহ মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
 
তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) : শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা গেল না কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের সবচেয়ে বড় জাওয়ার ইউনিয়নের পূর্বজাওয়ার গ্রাম সংলগ্ন হুলিয়ারদাইড় হাওরটি। বাঁধটি হুমকির মুখে ছিল। এটি রক্ষার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। কৃষক মাটি কেটে ও বাঁশ পুঁতে বাঁধটি রক্ষায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন।
 
বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই প্রবল বর্ষণ ও প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় বাঁধটি ভেঙে যায়। শুধু হুলিয়ারদাইড় হাওরই নয়, এক সপ্তাহে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার দামিহা, জাওয়ার, ধলা, রাউতি, দিগদাইড় ও তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের নয়টি হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত এ উপজেলার উলহা হাওর, কাউড়া হাওর, শিমুলাটি বাহারকান্দি, কলমদরি হাওরের বাঁধ ভেঙে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির সঠিক হিসাব এখনও করা সম্ভব হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যে পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
 
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
 
ধান কাটার আগ মুহূর্তে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা এখন দিশেহারা।
 
জাওয়ার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো। ধার-দেনা ও কঠোর পরিশ্রম করে ফলানো এ ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক দিশেহারা।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বলেন, আমি সবক’টি বাঁধ পরিদর্শন করেছি। বাঁধ ভেঙে যাওয়া হাওরের ব্যুরো ফসল সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে গেছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষক সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
 
সচিবের বক্তব্যে ভিন্নমত এমপির- সুনামগঞ্জ : দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেছেন, সুনামগঞ্জকে যারা দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তাদের কোনো জ্ঞানই নেই।
 
দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নামে একটা আইন আছে। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি বলেন, এ আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো এলাকার অর্ধেকের ওপরে জনসংখ্যা মারা যাওয়ার পর ওই এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হয়।
 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিবের এমন বক্তব্য শোনার পর উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, সুধীজন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের লোকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
 
সচিব সভায় বলেন, কিসের দুর্গত এলাকা। একটি ছাগলও তো মারা যায়নি। দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি ও সামর্থ্য রয়েছে। তিনি ৬ মাস কেন, প্রয়োজনে ৬ বছর খাওয়ানোর মতো মজুদ রয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একটি মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না। এ সময় মন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলার দেড় লাখ পরিবারকে তিন ধরনের খাদ্য সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
 
সভায় সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হলে কোনো এলাকার অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা যেতে হবে সচিবের এমন বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেছি।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী শহীদুজ্জমান চৌধুরী বলেন, ‘সচিবের বক্তব্যে ২০১২-এর ২২ ধারা নিয়ে উদ্ভট তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে।
 
 

আরও সংবাদ