Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

অর্থমন্ত্রী-ব্যবসায়ী উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে যা হলো

Published:2017-05-01 10:24:36    
হট্টগোল ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত যৌথ পরামর্শক কমিটির সভা। আগামী অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে ৩৮তম পরামর্শক সভায় নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি সামনে আনেন। সভার প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কড়া ভাষায় তার সমালোচনা করেন। 
গতকাল রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে এই পরামর্শক কমিটির 
 
সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে এটিই ছিল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সর্বশেষ সভা। আগামী ১ জুলাই তিনি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন। গতকাল অর্থমন্ত্রী আসছে বাজেটে ভ্যাট আইন সংশোধন, করমুক্ত আয়ে আরও ছাড়, করপোরেট কর কমানোসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তনের আভাস দেন। সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ আগামী বাজেট উপলক্ষে লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথা অনুযায়ী পরামর্শক কমিটির গতকালের সভায় ব্যবসায়ী নেতারা শুল্ক ও কর কমানোসহ কিছু দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেন। কিন্তু আলোচনার বেশিরভাগ সময়জুড়ে ছিল নতুন 'মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন' বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। 
সভায় এফবিসিসিআইর পরিচালক ও ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু মোতালেব বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের বিষয়ে এনবিআর ও এফবিসিসিআই কিছু কাজ করলেও তার ফলাফল শূন্য। তিনি অভিযোগ করেন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। কিছু লোক দেখানো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ না দিলে চকবাজারের ব্যবসায়ীরা কীভাবে জানবেন ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার কী? তিনি বলেন, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে এফবিসিসিআই যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা মেনে নিতে হবে। তা না হলে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। পাঁচ কোটি টাকার কম টার্নওভারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট আইনের আওতায় আনা হলেও আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি। 
এ সময় অর্থমন্ত্রী তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, আট লাখ নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভ্যাট দেয় মাত্র ৩২ হাজার। আপনারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কতজন ভ্যাট দেন? আবার আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন? এভাবে হুমকি দেবেন না। যদি আপনারা আন্দোলন করেন, তবে আমরা তা দমন করব। অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ শুরু করেন। ব্যবসায়ীদের শান্ত করে এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরেন। আশা করি, সরকার ব্যবসায়ীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবে। আমরা এখনও বাজেট দেখিনি। বাজেটে কী আছে জানি না। সভার সভাপতি এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এ ধরনের পরামর্শক কমিটির সভায় আন্দোলনের হুমকি দেওয়া ঠিক নয়। যথাযথ ভাষা প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি। 
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আবু মোতালেবের বক্তব্য আমার পছন্দ হয়নি। তিনি হুমকি দিয়েছেন। যুদ্ধ বাধিয়ে দেবেন; এমন একটা ভাব। এটা ঠিক নয়। আমরা এখানে আলোচনা করতে বসেছি। তাহলে এ ধরনের কথা কেন? ভবিষ্যতে এটি খেয়াল রাখবেন। যেন এ ধরনের কথা না হয়। এরপর 'আই এম সরি টু সে' বলে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। 
আলোচনায় অংশ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটবের সভাপতি নুরুল কবির সিম সংযোজনের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, ইন্টারনেট ও স্পেকট্রামের ওপর ভ্যাট তুলে নেওয়ার দাবি জানান। বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এ খাতের বিকাশে বাড়তি সুবিধা হিসেবে নগদ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমাদ নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে আগামী বাজেটেও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার উদ্যোক্তা তহবিল বহাল রাখার সুপারিশ করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান প্রমুখ।

আরও সংবাদ