Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সেনানিবাসের রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তি, মলমূত্র ত্যাগে ২০ হাজার টাকা জরিমানার আইন আসছে

Published:2017-05-15 16:22:17    
 
 
দেশের যে কোনো ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় রাস্তাঘাটে মলমূত্র ত্যাগ, মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি বা জুয়া খেলার শাস্তি হিসেবে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে নতুন আইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 
 
 
খোলা অবস্থায় মাংস বহন এবং অনবৃত করে বিকলাঙ্গতা ও ব্যাধি প্রদর্শনের মত ঘটনাতেও একই শাস্তির বিধান থাকছে প্রস্তাবিত এই আইনে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভায় বৈঠকে ‘সেনানিবাস আইন- ২০১৭’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ১৯২৪ সালের ‘ক্যান্টনমেন্টস অ্যাক্টকে’ পুনর্বিন্যস্ত করে নতুন এই আইন করা হচ্ছে।
 
আগের আইনের ২৯২টি ধারা থেকে কিছু বাদ দিয়ে এবং নতুন কিছু সংযোজন করে মোট ২১৮টি ধারা রাখা হয়েছে এই খসড়ায়। বিভিন্ন অপরাধের জন্য জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে ২০ হাজার ‍গুণ পর্যন্ত।
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকা এক ধরনের পৌর ব্যবস্থাপনার মত। অর্থাৎ পৌরসভা যেভাবে তাদের এলাকা ম্যানেজ করে, এটাও সেভাবে ম্যানেজ করবে। বোর্ডের কার্যক্রম কেমন হবে তা এই আইনে বলা আছে।
 
“৯০ বছর আগে যেসব জরিমানা নির্ধারণ করা ছিল সেগুলোর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ৪৩টি বিষয়ে আর্থিক জরিমানার বিধান বাড়ানো হয়েছে।”
 
>> সেনানিবাস এলাকায় অবৈধ নির্মাণের জন্য আগে ৫০০ টাকা জরিমানা থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে তা কমপক্ষে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> সড়কের সরকারি ভূমি খনন করলে জরিমানা ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।
 
>> জনগণের দৃষ্টির সামনে খোলা অবস্থায় মাংস বহন, বিকলাঙ্গতা ও ব্যাধি অনাবৃত করে প্রদর্শন, মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি, জুয়া খেললে, রাস্তাঘাটে মলমূত্র ত্যাগ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আগের আইনে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল এক টাকা।
 
>> সেনানিবাস এলাকায় বেসরকারি বাজার বা কসাইখানা স্থাপন করলে শাস্তি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর লাইসেন্স ছাড়া বাজার বা কসাইখানা খুললে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। আগে এই অপরাধের শাস্তি ছিল ২০০ টাকা।
 
>> তথ্য দিতে অবহেলা করলে আগে ১০০ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করলে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে দুই হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> আতশবাজি ফোটালে বা গুলি ছুড়লে আগে ৫০ টাকা শাস্তি ছিল। প্রস্তাবিত আইনে এই শাস্তি কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> বসত বাড়ি জরাজীর্ণ থাকলে জারিমানার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> পশুকে আবর্জনা খাওয়ালে জরিমানার পরিমাণ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে এ আইনের খসড়ায়।
 
>> অবৈধভাবে পানি ব্যবহার করলে আগে ৫০ টাকা জরিমানা হত, নতুন আইনে কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
>> ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সরকারি কাজে বাধা দিলে জরিমানা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
 
>> ভবনের কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে বিলম্বে আগে জরিমানার কোনো বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সময়সীমা বর্ধিতকরণের আবেদন তিনবারের বেশি হলে ২০ হাজার টাকা এবং পাঁচবারের বেশি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে।
 
>> ‘অনুচিত উদ্দেশ্যে’ পতিত জমিতে ঘের দিলে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হবে। আগে এ কারণে জরিমানার বিধান ছিল না।
 
>> সিনেমা প্রদর্শনীর জন্য আগের আইনে ২০০ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
 
শফিউল বলেন, কোনো অপরাধ কোনো নির্দিষ্ট ধারায় না এলে আগের আইনে ২০০ টাকা জরিমানা করার সুযোগ ছিল। প্রস্তাবিত আইনে ওই বিধান বাদ দিয়ে বিভিন্ন অপরাধের জন্য জরিমানার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
 

আরও সংবাদ