Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আদালতে নিজেই শুনানি করেন মাহমুদুর রহমান

Published:2017-07-16 21:07:05    

আদালত প্রতিবেদক:

দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গাড়ি পোড়ানোর একটি মামলার আসামি তালিকা থেকে তার নাম খারিজ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছেন।

আজ রোববার ঢাকার নিম্ন আদালতে চার্জ গঠনের জন্য নির্ধারিত এই মামলার শুনানি মাহমুদুর রহমান নিজেই করেন।

ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জসিম উদ্দিনের আদালতে মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে অংশ নিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাকে হয়রানি করার জন্যই সম্পূর্ণ উদ্যেশ্যমূলকভাবে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ মামলার এজাহারে বাদী কোথাও তার নাম উল্লেখ করেননি। মামলার দু’জন স্বাক্ষীও এ মামলায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো স্বাক্ষ্য দেননি। এরপরও পুলিশ চার্জশিটে ‘সন্ধিগ্ধ’ আসামি হিসেবে তার নাম অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তিনি বলেন, কোনো আসামির নাম ‘সন্ধিগ্ধ’ হিসেবে এনে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার কোনো বিধান আইনে নেই।

তিনি বলেন, এই মামলায় আমাকে নয় নম্বর আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমার নামও ভুল লেখা হয়েছে। অন্য আসামির পরিচয়, রাজনৈতিক পদবি ইত্যাদি উল্লেখ করা হলেও চার্জশিটে উল্লেখিত মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের কোনো পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। আমার নাম মাহমুদুর রহমান। মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান আমি নই।

২০১৩ সালে যখন মামলাটি দায়ের হয় তখন আমার বয়স ছিলো ৬০ বছর। কিন্তু চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে মুহাম্মদ মাহমুদর রহমানের বয়স ৫৭। তিনি আদালতের উদ্দেশে বলেন, এই মাহমুদুর রহমান আমি কোনো অবস্থাতেই হতে পারি না। কারণ আমার পরিচয় রয়েছে। আমি সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা ছিলাম, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলাম এবং বর্তমানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক। আমি বুয়েট থেকে পাশ করা একজন প্রকৌশলী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ। আমার এতগুলো পরিচয় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমার কোনো পরিচয় উল্লেখ করেনি।

তিনি আদালতের উদ্দেশে বলেন, আমাকে চার্জশিটে বলা হয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামি। আমি এ মামলায় গ্রেফতার হইনি। আমাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় আমার অন্যায় রিমান্ড মঞ্জুর করার আট মাস পর রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়বার যখন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় তখন আমাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। অথচ হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কোনো আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করতে হলে তাকে আদালতে হাজির করা আবশ্যক। 
এসময় তিনি তার যুক্তির পক্ষে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের তিনটি নির্দেশনা আদালতে দাখিল করেন এবং তাকে হয়রানিমূলক এ মামলা থেকে অব্যহতি দিয়ে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেন।

এসময় মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডকোটে সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেসবাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরীসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানি করেন সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি)।

আরও সংবাদ