Widget by:Baiozid khan

একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ

Published:2017-07-16 21:14:48    
বিশেষ প্রতিবেদক:
সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নীরিক্ষাসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিউটের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের আগের দেড়বছরের এই রোডম্যাপ তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। এসময় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশাবাদ ব্যক্ত করে ভোটের আগে প্রশাসসিকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সব ধরনের কাজের তদারকি শুরু হবে বলেও জানান তিনি। 
নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঞ্চালনায় রোডম্যাপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ে সংসদ নির্বাচন করতে দৃঢ়তার সঙ্গে ও সুচিন্তিত পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সার্বিকভাবে দেশে জাতীয় নির্বাচনের একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ইসি কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে অংশীজন, গণমাধ্যম, দলসহ সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপন করে সবার মতামত নেবে। সবার মতামতের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে ইসি বিশ্বাস করে।’
রোডম্যাপ প্রকাশকালে সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘এটি একটি সূচনা দলিল। নির্বাচনের পথে কাজের জন্য এ কর্মপরিকল্পনাই সব নয়। সংযোজন-পরিমার্জন করে সবার মতামত নিয়ে আমরা কাজ করে যাব।’ বৃহস্পতিবার রাতে জেএসডি নেতা আ স ম রবের উত্তরার বাসায় এক 'চা-চক্র' অনুষ্ঠানে রাজনীতিক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ কয়েকজন একত্রিত হয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে পুলিশি বাধার অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার আগে সরকারি কর্মকান্ডের হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার ইসির নেই। এটা সরকারের বিষয়। আমরা তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ বজায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এখন সরকারের কাছে কোনো অনুরোধ থাকবে না। 
নির্বাচনকালীন সরকার কি ধরনের হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিন নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী ইসি কাজ করবে। এই মুহুর্তে সরকার কীভাবে পরিচালনা হবে ও রাজনৈতিক কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো ইসির এখতিয়ারে নয়। সরকারের কর্মকাণ্ডে এখনই কমিশন হস্তক্ষেপ করবে না। 
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দায়িত্ব ইসির কিছু আছে। সরকারেরও কিছু আছে। পল্টন বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করতে পারবে কী পারবে না এটার দায় আমাদের না বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, সরকার কেন, যেকোনো প্রভাবমুক্ত হয়ে আমরা আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে পারবো। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে এখন আমাদের করণীয় কিছুই নেই।
জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তবে ইভিএম চালুর দরজা একেবারে বন্ধ হয়নি। এটি নিয়ে সংলাপের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইসির ৭-৮টি ইভিএম মেশিন রয়েছে, সেগুলো ৫-৬ বছরের পুরনো প্রযুক্তির। জাতীয় নির্বাচনে মোট আড়াই লাখ ভোট কেন্দ্রের জন্য ইভিএম লাগবে। এখানে সরকারেরও আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্ন রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে ইভিএম বিষয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু সরকার কেন, রাজনৈতিক দল বা যে কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থা প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পারব আমরা। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে  সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে জানিয়ে আসন্ন সংলাপে রাজনৈতিক দলসহ সব ধরনের অংশীজনের সুপারিশের পাশাপাশি সবার সহযোগিতাও চান সিইসি।
 

আরও সংবাদ