Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

বস্তায় বৃদ্ধা

Published:2017-09-11 22:35:39    

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজারের প্রধান সড়কে একটি বস্তার ভেতরে কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। ভিড় দেখে কয়েকজন তরুণ এগিয়ে যান। একপর্যায়ে গোঙানির শব্দ পেয়ে বস্তার মুখ খুলে ওই তরুণেরা দেখতে পান মুমূর্ষু এক বৃদ্ধাকে। 

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল শনিবার দুপুরে ওই বৃদ্ধাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে ওই তরুণেরা এসে তাঁকে নিয়ে যান। ওই তরুণদের একজন মির্জা তানভীর। তিনি বাজারে একটি আসবাবের দোকানে কাজ করেন।

তানভীর বলেন, শুক্রবার বিকেলে তাঁরা চারজন মিলে স্থানীয় মসজিদে আসরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে বাজারের প্রধান সড়কের কাছে খানখানাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ের বারান্দার কাছে মানুষের ভিড় দেখে এগিয়ে যান। পরে তাঁরা বস্তার ভেতর থেকে ওই বৃদ্ধাকে বের করেন। কেউ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। বৃদ্ধার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত দাগ দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের জানান, কয়েক ঘণ্টা আগে বস্তাবন্দী অবস্থায় কে বা কারা ওই বস্তা ফেলে যায়। তাঁদের ধারণা, বৃদ্ধার পরিবারের লোকজনই তাঁকে এভাবে ফেলে রেখে গেছেন।

তানভীর জানান, তাঁরা কয়েকজন গোসল করিয়ে একটি নতুন কাপড় পরিয়ে ওই বৃদ্ধাকে গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। কোনো লোকজন না থাকায় শনিবার সন্ধ্যার পর তাঁরা ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে ফের খানখানাপুর ইউপির বারান্দায় রেখে দিয়েছেন। সেখানে স্থানীয় এক নারীকে টাকা দিয়ে ওই বৃদ্ধাকে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা।

খানখানাপুর ইউপির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘এমন ঘটনা আমি স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।’ 
গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিবন্ধন খাতায় এই বৃদ্ধার বয়স ১০০ লেখা আছে। আজ রোববার কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। শুধু মুখ নড়েছে তাঁর। 
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকি বলেন, যত্ন না নেওয়ায় ওই বৃদ্ধা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বৃদ্ধার শরীরের কয়েক স্থানে ঘা ও ক্ষত হয়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো তাঁর সেবাযত্ন করা।

আরও সংবাদ