Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed June 20 2018 ,

আবারো ইনিংসে চার সেঞ্চুরি বাংলাদেশের বিপক্ষে

Published:2017-10-08 09:23:41    

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভুলের খেসারত বেশ ভালোভাবেই দিয়েছে বাংলাদেশ দল। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে কোনো ফায়দা নিতে পারেননি মুশফিকুর রহিমের বোলাররা। মওকা পেয়ে ডু প্লেসিসের ব্যাটসম্যানরা রান করার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠেন। প্রথম দিনই তারা তুলেন ৩ উইকেটে ৪২৮। দ্বিতীয় দিন আর এক উইকেট হারিয়ে যোগ করে আরো ১৪৫ রান। পরে ৪ উইকেটে ৫৭৩ রানে করে ইনিংস ঘোষণা। রান বন্যার উইকেটে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা বেশ ভালোভাবেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছেন।

প্রথম দিন জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন দুই ওপেনার এলগার ও মার্করাম। এলগার ১১৩ ও মার্করাম ১৪৩ রান করে আউট হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিন যোগ হয় আরো দুইটি জোড়া সেঞ্চুরি। এবার নাম লেখান হাশিম আমলা ও দলপতি ডু প্লেসিস। হাশিম আমলা ১৩২ রান করে আউট হলেও ডু প্লেসিস ১৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। এক ইনিংসে চার সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ১৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চমবারে মতো ঘটল। আর টেস্ট ক্রিকেটে ২১তম।

ইনিংসে চার সেঞ্চুরির সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে হয়েছিল ২০০৭ সালে। সে বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুই দলই বাংলাদেশের বিপক্ষে চারটি করে সেঞ্চুরি করেছিল যথাক্রমে ঢাকা ও কলম্বোর এসএসসি স্টেডিয়ামে। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল। সুযোগ পেয়ে ভারতে প্রথম চার ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক (১২৯), ওয়াসিম জাফর (১৩৮), রাহুল দ্রাবিড় (১২৯) ও শচিন টেন্ডুলকার (১২২*) সেঞ্চুরি করেছিলেন। ভারত ৩ উইকেটে ৬১০ রান করে ইনিংস ঘোষণার পর ম্যাচ জিতেছিল ইনিংস ও ২৩৯ রানে। বাংলাদেশের দুটি ইনিংস ছিল যথাক্রমে ১১৮ ও ২৫৩ রানের। একই বছর কলম্বোর এসএসসি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। মাত্র ৮৯ রানে অলআউট হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ৫৭৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। সেঞ্চুরি করেছিলেন ভানডর্ট (১১৭), মাহেলা জয়াবর্ধনে (১২৭), প্রসন্ন জয়াবর্ধনে (১২০*) ও চামিন্দা ভাস (১০০*)।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ২৫৪ রান করলেও ইনিংস হার এড়াতে পারেনি। ইনিংসে ৪ সেঞ্চুরি নয়, ৫ সেঞ্চুরির ঘটনাও আছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ১৯৫৫ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার কলিন ম্যাকডোনাল্ড ১২৭, হার্ভে ২০৪, মিলার ১০৯, আর্চার ১২৮ ও রিচি বেনু ১২১ রান করেছিলেন। ৮ উইকেটে ৭৫৮ রান করে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতেছিল ইনিংস ও ৮২ রানে। ৩৬ বছর পর দ্বিতীয় ঘটনার সাক্ষী হয় বাংলাদেশ। টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির পরের বছরই গিয়েছিল পাকিস্তানে। মুলতানে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ৫৪৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। যেখানে ছিল সাঈদ আনোয়ারের ১০১, তৌফিক ওমরের ১০৪, ইনজামামের ১০৫, মোহাম্মদ ইউসুফের অপরাজিত ১০২ ও আব্দুর রাজ্জাক অপরাজিত ১১০ রান। বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ২৯৪ রানে।

প্রতিপক্ষ চার সেঞ্চুরি করলেই যে ম্যাচ জিতেছে তা কিন্তু নয়। অন্তত ড্র করার রেকর্ড আছে বেশ কয়েকটি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নেই একটিও। দল হিসেবে ভারতের বিপক্ষে হয়েছে সাতবার। চারটি টেস্ট তারা ড্র করতে পেরেছে। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও চারবার আছে এই রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজও দুটি টেস্ট ড্র করতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশ একটিতেও হার এড়াতে পারেনি। ব্লুমফন্টেইন টেস্টের যে অবস্থা তাতে করে ড্র করতে হলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অসম্ভব ভালো কিছু করে দেখাতে হবে! কিন্তু আদৌ কী তা সম্ভব হবে?

আরও সংবাদ