Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা অব্যাহত

Published:2017-10-22 23:24:36    
 
 
অর্থনীতিক প্রতিবেদক:  সাইবার হ্যাকিং-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পাচারকৃত অর্থের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার ও ফেরত আনতে তদন্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আইনগত বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। 
ইতিমধ্যে পাচারকৃত ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে সর্বমোট আনুমানিক ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিলিপাইনের আদালতের আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ আরও জানানো হয়, এই অর্থ ফেরত আনতে ফিলিপাইন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতাসহ সবধরনের সহযোগিতা করছে। 
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুইফট এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভার সূত্রে একটি ত্রিপক্ষীয় স্টেটমেন্ট জারী করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশের চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। 
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকিং এর মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক, এপিজি, এগমন্ট গ্রুপ, ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। 
বিভিন্ন পক্ষের তদন্ত এবং ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত প্রদানে ফিলিপাইনের আদালতের আদেশে সাইবার হ্যাকিং এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন, শ্রীলংকাসহ বাংলাদেশে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সাথে বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের তদন্তকারী সংস্থার তদন্তাধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও বাংলাদেশে তদন্ত কার্যμম সম্পন্ন হলেই শুধুমাত্র অপরাধী সনাক্তকরণসহ সকল তথ্য যথাসময়ে প্রকাশযোগ্য হবে।
বাংলাদেশের পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধের সূত্রে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বর্তমানে বাংলাদেশকে সকল ধরনের আইনী সহায়তা প্রদান এবং ফিলিপাইনের আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে সরকারী আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থ ফেরতে সহায়তা করছে।
এছাড়া ফিলিপাইনের রিজ্যাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরবিসি) বাংলাদেশ ব্যাংককে ০.০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হ্যাকিং এর অব্যবহিত পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই ফেরত প্রদান করে। 
হ্যাকিং-এর মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থের অবশিষ্ট অংশ দ্রুত উদ্ধার এবং তা ফেরত আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন আইনী কার্যμম বর্তমানে ফিলিপাইনে চলমান রয়েছে। ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ফিলিপাইনের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিং-এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস দায়ের করা হয়েছে। রিজার্ভ চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট মূল দুইজন সন্দেহভাজনকে চীনের পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে। এবিষয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সোলেয়ার’ নামক ক্যাসিনোতে যে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানান্তরিত হয় তা ফিলিপাইনের আদালত ফ্রিজ করে এবং এ বিষয়টি বর্তমানে ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 
ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং- এর দুইজন কর্মচারীর হিসাবে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমান অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং ফিলিপাইনের আদালত ‘এ্যাসেট প্রিজারভেশন অর্ডার’ জারী করেছে অর্থাৎ এ অর্থ আদালতের আদেশ ছাড়া সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে কোন পক্ষই উত্তোলন করতে পারবে না। এ পরিমান অর্থ বাজেয়াপ্তকরণপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত প্রদানের বিষয়টি ম্যানিলার রিজিওনাল কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মানি রেমিটেন্স কোম্পানী ‘ফিলরেম’এর নিকট ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রক্ষিত রয়েছে মর্মে বিভিন্ন পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে পরিলক্ষিত হয়েছে। এ পরিমান অর্থ ‘ফিলরেম’এর নিকট থেকে উদ্ধারের জন্য ফিলিপাইনের ‘এ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল’ কর্তৃক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রμিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ‘ফিলরেম’এর স্বত্ত্বাধিকারীদের সম্ভাব্য বাজেয়াপ্তকরণযোগ্য স্থাবর বা অস্তাবর সম্পদ ‘এ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল’ নিরূপন করেছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব হতে অর্থ চুরির বিষয়ে রিজ্যাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরবিসি)-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে এ ব্যাংকের দায় রয়েছে। 

আরও সংবাদ