Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu July 19 2018 ,

মৌচাক-মালিবাগ ফ্লাইওভার উদ্বোধন

Published:2017-10-26 21:08:55    

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর ভোগান্তির পর অবশেষে খুলে দেয়া হলো মৌচাক-মালিবাগ-মগবাজার ফ্লাইওভার। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এ ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেন। 

প্রায় ৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারটি কাকরাইল-মালিবাগ, রাজারবাগ-মৌচাক, রামপুরা- মৌচাক এবং মৌচাক-ইস্কাটনকে সংযুক্ত করবে।
প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর গণভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ফ্লাইওভারটির উদ্বোধন করেন।

এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা। যার ৭৭৬ কোটি টাকা প্রদান করেছে সৌদি সরকার। বাকী অর্থ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এবং ওপেক ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট’র (ওএফআইডি)।
রাজধানীর ৮টি মোড় এবং ৩টি লেভেল ক্রসিংকে অতিক্রম করে তৈরী হয়েছে এই ফ্লাইওভারটি।
ফ্লাইওভারটির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল বলেই আজকে এটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের শেষে যে নির্বাচন হবে তাতে জয়লাভ করে আবার ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো শেষ করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের গতিকে আরো ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই রাজধানীতে ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে যেগুলো ব্যবহারে মানুষের চলাচলে স্বচ্ছন্দ্য আসার পাশাপাশি কর্মঘন্টাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সরকারের গ্রহিত প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ’৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর পরই আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নে অনেকগুলো প্রকল্প গ্রহণ করে কিন্তুু ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারায় বিএনপি-জামায়াত সে সব প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছিল।’
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। সৌদি দূতাবাসের হেড অব ইসলামি ডিভিশন সাদ আল খাতানি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ওসমান গণি, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এ সময় বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে বলেন, একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে যখন দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই আমাদের দেশের উন্নয়নের চাকা থেমে গিয়ে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়ে দেশে একটা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেই জাতির পিতার আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং দেশ প্রথমবারের মত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।
তিনি বলেন, সে সময় ৫টি বছর মাত্র আমরা হাতে সময় পেয়েছিলাম। উন্নয়নের যে কাজগুলো তখন আমরা সারাদেশব্যাপী শুরু করেছিলাম দুর্ভাগ্য সেটাও থেমে যায় ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর। হত্যা, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই সৃষ্টি, লুটপাট ও দুর্নীতি- এছাড়া আর কোন উন্নয়ন তারা (বিএনপি-জামায়াত) করতে পারেনি।
সে সময় বাংলাদেশের টানা ৫ বার দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখলের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অবস্থায় দেশকে তারা একটি অরাজকতার দিকে নিয়ে যায়। ফলে দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকে এবং এই ৭ বছর দেশের উন্নয়ন সম্পূর্ণরূপে থেমে গিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে পুরনো উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো পুনরায় চালুর সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করে।
তাঁর সরকারের আমলে দেশের জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখছি যারা আগে একটা গাড়ি ব্যবহার করতো তারাই এখন একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছে।
এরফলে কিছুটা যানজট বৃদ্ধি পেলেও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি মানুষের সেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সূচক বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, যত উন্নয়ন হবে ততই মানুষের সবকিছু ব্যবহারের সক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।
ঢাকা শহরের যানজট প্রশমনে তাঁর সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিজয় সরণি ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছি। হাতির ঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণের কাজও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি একটি দীর্ঘ ফ্লাইওভার। আমি মনে করি এটি রাজধানীর যানজট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের জীবন যাত্রা আরো সহজ হবে এবং মানুষের সময় বেঁচে গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য আরো বৃদ্ধি পাবে কারণ এতে তিনটি লেভেল ক্রসিং পার করা হয়েছে তাই গাড়িগুলো খুব দ্রুত চলতে পারবে।
তিনি ফ্লাইওভার নির্মাণে সম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে বিভিন্ন সময় ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী এর নকশাতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন।
প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইওভারগুলেকে জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারেও যতœবান হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘যারা এগুলো ব্যবহার করবেন, প্রত্যেকটি রাস্তা-ঘাট, ফ্লাইওভার যাই ব্যবহার করবেন তারা এর প্রতি যতœবান হবেন। ট্রাফিক আইন সকলে মেনে চলবেন। যেটা একান্তভাবেই প্রয়োজন। এই সম্পদটা জাতিয় সম্পদ জনগণের সম্পদ সেই কথাটা মনে রেখে সকলে যার যার দায়িত্ব পালন করবেন। সেটাই আমি আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ায় তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকার পুণব্যাক্ত করে বলেন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সন্মানজনক অবস্থায় আছে। সমগ্র বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি রোল মডেল। আর এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নেয়ায় সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকা জরুরি এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই যে উন্নয়ন গতিশীল হয়। সেটা নিশ্চয়ই আপনারা দেখতে পাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর যেসব উন্নয়ন কর্মকান্ড গ্রহণ করেছিলাম সেগুলো একে একে আমরা শেষ করে আনছি। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম বলেই আজকের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হতে পারলেই এই উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত হবে।
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ফ্লাইওভারের তিনটি অংশের মধ্যে প্রথম অংশ অর্থাৎ তেজগাঁও-সাত রাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশটি নির্মাণের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। এরপর ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মগবাজার মোড় থেকে ওয়্যারলেস গেট পর্যন্ত অংশ এবং ১৭ মে ২০১৭ তারিখে এফডিসি থেকে কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত অংশের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় তা পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেয়া হয়।

আরও সংবাদ