Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Tue November 20 2018 ,

  • Advertisement

শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৮৩ রানের হারলো বাংলাদেশ

Published:2017-10-30 02:29:57    

অনলাইন ডেস্ক:  পুরো সফরে একবারও হাসতে পারেনি তিন টাইগার কাপ্তানের কেউই। সফরের শেষ ম্যাচেই বা এর ব্যতিক্রম ঘটবেই বা কেন? সফরের শেষ ম্যাচ; শেষটা ভালো করার ইচ্ছে ছিল সবার মনে। অন্তত একটা জয় তুলে নিয়ে নিরাশার সিরিজে কিছু নিয়ে ফেরার। আগের দিন টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান নিজের ফেসবুক পেজে তো বিজয়ের ডাকই দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কিছুই কাজে এলো না দুর্বার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। শেষটা হলো বরং আরো ভয়ানক সব অভিজ্ঞতায় দিয়ে।

টাইগার বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি করলেন ডেভিড মিলার। নবাগত সাইফ উদ্দিনকে হাঁকালেন টানা ৫ বলে ৫ ছক্কা।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৪ রানের পাহাড় গড়ে প্রোটিয়ারা। শেষ পর্যন্ত জয় ৮৩ রানের। ১৮.৩ ওভারে বাংলাদেশের আত্মসমর্পণ মাত্র ১৪১ রানেই।

টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টয়েন্টি- তিন সিরিজেই বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোববার পচেফস্ট্রুমের পুরো ম্যাচটাই আসলে মিলারময়। ইতিহাসের পাতায় যেখানে নিজের নাম তুলেছেন, সেখানে এই গল্পে পাশ্ব নায়কেরও জায়গা হয় কিভাবে! তাই ৮৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেও আড়ালে পড়ে থাকেন হাশিম আমলা। এ ম্যাচে প্রোটিয়াদের রানের রথে ছোটে চলার শুরুটা যার ব্যাটে। সম্মিলিত বোলিং নৈপুন্যে বাংলাদেশকে মাত্র ১৪১ রানে গুড়িয়ে দিয়েও আলোচনায় আসেন না কোন প্রোটিয়া বোলার। বরং ম্যাচ সেরার সঙ্গে সিরিজ সেরা হয়েও দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজটাই নিজের করে নেন মিলার।

অথচ শুরুটা এদিন মনের মতোই করেছিল বাংলাদেশ। টস জিতলেন সাকিব আল হাসান। সিদ্ধান্ত নিলেন আগে বোলিংয়ের। বল হাতে অধিনায়ক শুরুতেই তুলে নিলেন ২ উইকেট। ফেরান মাঙ্গালিসো মোসেহলি (৫) ও জেপি ডুমিনিকে (৪)। ৩৭ রানে ২ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের দিন সাকিব প্রতিপক্ষকে ১৮০ রানে বেঁধে রাখার কথা বলেছিলেন। তখন সেই স্বপ্ন বাস্তোবোচিত বলেই মনে হচ্ছিল। এবি ডি ভিলিয়ার্স উইকেটে এসে ঝড় তোলার চেস্টা করলেন। কিন্তু ১৫ বলে ২০ রান করে সাইফ উদ্দিনের বলে ফিরে যান ডি ভিলিয়ার্স। ৭৮ রানে ৩ উইকেটে পড়ে প্রোটিয়াদের। গল্পটা ওই পর্যন্তই বাংলাদেশের। এরপরের গল্পটা শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকার। অন্যভাবে বললে ভেভিড মিলারের।

শুরুতে উইকেট হারালেও একপ্রান্তে হাশিম আমলা অবিচল থেকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৮৫ রান করে সাইফ উদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর বোর্ডে জমা পড়েছে ১৫৭ রান। ম্যাচের আসল গল্পটা অবশ্য লেখা হয়নি তখনও। যেটি ডেভিড মিলার লিখলেন ইনিংসের ১৯তম ওভারে। রুবেল হোসেনের বরে শূন্য রানে জীবন পেয়েছিলেন। উইকেটের পিছনে মুশফিক পারেন নি ক্যাপ নিতে। জীবন পেয়ে খেললেন ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এক ইনিংস। ৫ বলে সাইফ উদ্দিনকে হাঁকালেন ৫ ছক্কা। বাংলাদেশের বোলারদের হতাশার ডুবিয়ে ৩৫ বলে করেন সেঞ্চুরি। ৩৬ বলে ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন শেষ পর্যন্ত।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই পথহারা বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার আগের দিনের মতোই শুরু করলেন। বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৪ রানও এলো তার ব্যাট থেকে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের প্রথম পাঁচ জনের মধ্যে বাকি চার জনের ব্যাট থেকে এলো ১৫ রান। ইমরুল কায়েস ৬, সাকিব আল হাসান ২, মুশফিকুর রহীম ২, সাব্বির রহমান ৫ করেন। তাতে ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরে যায় নিজেদের ইনিংসের মাঝ পেথেই। এর পর বলার মতো স্কোর বলতে মাহমুদউল্লাহর ২৪ ও সাইফ উদ্দিনের ২৩ রান। যা টাইগারদের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমাতে সাহায্য করেছে।

দুঃস্বপ্নের সফরে টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। দ্বিতীয় টেস্টে হার ইনিংস ও ২৫৪ রানে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হার যথাক্রমে ১০ উইকেট, ১০৪ রান ও ২০০ রানে। আর প্রথম টি-টুয়েন্টিতে টাইগাররা হেরেছিল ২০ রানে। ৮৩ রানে শেষ টি-টুয়েন্টিতে হেরে ব্যর্থতার চক্র পূরণ বাংলাদেশেল। মুশফিকুর রহীম, মাশরাফি বিন মুর্তজার পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও থাকলেন ব্যার্থ হয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২০ ওভারে ২২৪/৪ (হাশিম আমলা ৮৫, মোসেহলি ৫, ডুমিনি ৪, ডি ভিলিয়ার্স ২০, মিলার ১০১*, বেহারডিন ৬*; সাকিব ২/২২, তাসকিন ০/৪১, মিরাজ ০/৪৬, সাইফ ২/৫৩, মাহমুদউল্লাহ ০/১০)

বাংলাদেশ : ১৮.৩ ওভারে ১৪১ (ইমরুল ৬, সৌম্য ৪৪, সাকিব ২, মুশফিক ২, সাব্বির ৫, মাহমুদউল্লাহ ২৪, লিটন ৯, সাইফ ২৩, মিরাজ ১৩, তাসকিন ৪, রুবেল ১*; হেনড্রিক্স ১/২৮, ডুমিনি ২/২৩, ফ্রাইলিংক ১/৯, প্রিটোরিয়াস ১/২৭, ফাঙ্গিসো ২/৩১, ফেহলাকোয়ায়ো ১/২১)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৩ রানে জয়ী

সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ ব্যবধানে জয়ী

ম্যাচ সেরা : ডেভিড মিলার

সিরিজ সেরা : ডেভিড মিলার

আরও সংবাদ