Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

দীর্ঘতের হচ্ছে নিখোঁজের তালিকা ।। দায় নিচ্ছে না কেউই

Published:2017-10-31 08:44:51    

মোঃ কামরুজ্জামান: 

সাংবাদিক উৎপলের জন্মদিন ছিলো ৩০ অক্টোবর।  সাংবাদিকদের আড্ডার জায়গা একুশের গলিতে প্রতি বছরই তাকে নিয়ে হতো নানা আয়োজন। তবে গতকালের চিত্র ছিলো ভিন্ন।গম্ভির পরিবেশ।জন্মদিনের কেক কাটা হয়নি। এসবের পরিবর্তে সবার দাবি ছিল উৎপল ফিরে আসুন। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও সরব ছিল উৎপলের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে। তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন উৎপল।

গত ১০ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডিনিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক উৎপল দাস।


এভাবেই একের পর এক নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। ২০১৬ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ১১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৩৪ জনকে অপহরণ-পরবর্তী গুম করার অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ১১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচজন ফিরে এসেছেন এবং ১৮ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার দেখিয়েছে। বাকিদের কোনো হদিস নেই। তারা বেঁচে আছে, নাকি খুন হয়েছে তা-ও কেউ জানে না। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য দিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালে চলতি বছরের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৫০০ জন অপহৃত হয়েছে। এদের মধ্যে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৭৪ জনের। অপহরণের পর ছেড়ে দিয়েছে কিংবা ফেরত এসেছে ৪৮ জন। এ ছাড়া অপহরণের অভিযোগের পর র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে আজকের পরিসংখ্যানে। 

নিখোঁজদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও সর্বশেষ সাংবাদিকও নিখোঁজ হলেন। প্রতিটি ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি বা মামলা দায়ের হলেও উদ্ধার হচ্ছেন না নিখোঁজ ব্যক্তিরা। এ দিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে সর্বক্ষণই উদ্বিগ্ন তাদের পরিবার। 

দিন, মাস, বছর গড়ালেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাঝেমধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কারো কারো লাশ উদ্ধার হয়। তবে সেই হত্যার রহস্যও অজানাই থেকে যাচ্ছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেই আটকের অভিযোগ উঠছে, তবে সেই অভিযোগেরও কোনো সুরাহা হয় না।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, গত ১০ বছরে  ৫৩৭ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ৩৩২ জনের এখনো খোঁজ মেলেনি। ২০১৬ সালের প্রথম সাত মাসে নিখোঁজ ৬০ জনের মধ্যে ৩২ জনের এখনো হদিস মেলেনি। বাকি ২৮ জনের মধ্যে সাতজনের লাশ পাওয়া গেছে। তিনজন ফিরে এসেছেন এবং ১৮ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। গত বছর নিখোঁজ হয় ৫৫ জন। তাঁদের মধ্যে আটজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, ফিরে এসেছেন পাঁচজন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৫ জন।

আরেক মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গুম হয়েছেন ১৬৪ জন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ৫৩, ২০১৪ সালে ৩৯ ও ২০১৫ সালে ৩৮ জন গুম হয়েছেন। চলতি বছরের ১১ মাসে নিখোঁজ হয়েছেন ৭০ জন, যাঁদের মধ্যে ৩৪ জনকে গুম করার অভিযোগ আছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছে, পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্য সংস্থাগুলো ঘটনার কার্যকর তদন্তই করে না। এ অবস্থায় আজ শনিবার (১০ ডিসেম্বর) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এ প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধারের ঘটনার সুরাহা না হওয়া চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা, জবাবদিহির অভাব, মানবিক বিপর্যয়সহ অনেক খারাপ দিক সামনে চলে আসছে, যা মানবাধিকার ও অপরাধের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনা তদন্তের সুপারিশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 সাংবাদিক উৎপল দাস (২৯) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার থানাহাটি এলাকার চিত্ত দাসের ছেলে। তিনি রাজধানীর ফকিরাপুল ১ নম্বর গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১০ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে পূর্ব-পশ্চিম অফিস থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। ওই দিন থেকে তার ব্যবহার করা মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার সন্ধান চেয়ে ২৩ অক্টোবর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পূর্ব-পশ্চিম কর্তৃপক্ষ। ওই দিন তার বাবাও একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন।


রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গত আগস্টের ২২ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে নিখোঁজ হন পাঁচ ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এলেও বাকি চারজনের কোনো হদিস নেই। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম দণি বিএনপির সহসভাপতি ও এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাদাত, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান, বেলারুশের অনারারি কনসাল অনিরুদ্ধ রায় ও কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশরাক আহমেদ।
গত ২২ আগস্ট বনানী ফাইওভারের নিচ থেকে অপহৃত হন সাদাত আহমেদ। গাড়ি থেকে নামিয়ে সাদা পোশাকের কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়।


২৭ আগস্ট রাতে নিখোঁজ হন কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান। ওই রাতে তিনি ও ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া একসাথে পার্টি অফিস থেকে বের হন। দল দু’টির অফিস একই ভবনে। দু’জন গল্প করতে করতে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে আসেন। এরপর যে যার বাড়ির দিকে যান। ওই রাত থেকেই নিখোঁজ আমিনুর রহমান। এখনো তার কোনো হদিস মেলেনি।


ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়কে গুলশান অ্যাভিনিউ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ২৭ আগস্ট। সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে বের হন অনিরুদ্ধ রায়। রুপালি রঙের একটি মাইক্রো বাস সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। মাইক্রো বাস থেকে তিনজন বেরিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়।


গত ২৬ আগস্ট ইশরাক বন্ধুদের নিয়ে ধানমন্ডির স্টার কাবাব এলাকায় খেতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। আর ফেরেননি। সে থেকেই খোঁজ নেই ইশরাকের। তিনি কানাডায় পড়ালেখা করতেন। ইশরাক জুনে ছুটি কাটাতে দেশে আসেন। 
এর প্রতিটি ঘটনায়ই সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একই বক্তব্যÑ খুঁজে দেখা হচ্ছে। উৎপল দাস নিখোঁজের ব্যাপারে দু’টি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। মতিঝিল থানার ওসি বলেছেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উৎপল দাসকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।


গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সাইদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি ঢাকা ওয়াসার একজন কর্মচারী বলে জানা যায়। তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম স্বামীকে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।


প্রায় প্রতি মাসেই এভাবে দু-চারজন নিখোঁজ হচ্ছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকজনকে তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে তুলে নেয়ার কয়েক দিন পরে জানা যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরূপ আরো কিছু ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এসব তরুণদের কারো বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা জিডিগুলোর তদন্ত কাজ থেমে রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিখোঁজদের ফেসবুক প্রোফাইল ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই-বাছাই করেছে। গত ৩ জুন বনানী থেকে একই দিনে চার যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা তিনটি জিডির তদন্তের কোন কুল কিনারা হয়নি।

 
অন্যদিকে, গত ১ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে একযোগে চার যুবক তরুণ নিখোঁজ হয়। তারা হলেন- সাফায়েত হোসেন, জায়েন হোসেন খান পাভেল, সুজন ঘরামি ও মেহেদী হাওলাদার। এদের মধ্যে সাফায়েত ও পাভেল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল মেহেদী হাওলাদার ও ২৮ মে সুজন ঘরামি ফিরে আসেন। তাদের ফিরে আসার বিষয়টিও রহস্যজনক। তারা কিভাবে ফিরে এসেছেন, এতদিন কোথায় ছিলেন, কারা তাদের ধরে নিয়েছিল-এমন সব প্রশ্নের সদুত্তর পরিবারের কাছ থেকে মিলেনি।  ঐ বছরের ৩০ নভেম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার মাটিকাটা এলাকা থেকে কেয়ার মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান ফরহাদ ও ৫ ডিসেম্বর বনানী এলাকা থেকে সাঈদ আনোয়ার খান নিখোঁজ হন। এদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।
 
গত বছরের ১৯ অক্টোবর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রহরী মেহেদী হাসান (১৮) নিখোঁজ হয়ে যান। মেহেদীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, মেহেদী নাটোরে কাদিরাবাদ সেনানিবাসে সৈনিক পদে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ঢাকা থেকে ছুটি নিয়ে রাজশাহী আসছিল। সর্বশেষ বিমানবন্দর রেলষ্টেশনে তার বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এরপর থেকে মেহেদীর আর হদিস মিলেনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি জিডি করেন।
 
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মারগুর তৌহিদ শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, জিডির তদন্ত আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেস্টা করেছি। রহস্যের বিষয় হলো যে ছেলেটি বিমানবন্দর রেলষ্টেশনে ট্রেনে ওঠার আগে বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। ঐ দিন বিমানবন্দর এলাকায় বা বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত কোন অজ্ঞাত লাশও উদ্ধার হয়নি।
 
গত ১৯ মে মাদারীপুরের মাদারীপুরের কালকিনির রায়পুরা গ্রাম থেকে সোয়েব শেখ ওরফে সোয়ায়েব (৩২) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক নিখোঁজ হয়ে যায়। সোয়েবের স্ত্রী রিনা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধরে নিয়ে যেতে পারে। সোয়েব শেখ গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার  রেডিয়্যান্ট সোয়েটার নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় স্যুইং শাখার লিংক ইন পদে চাকরি করতেন। ঐ কারখানায় রিনা বেগমও চাকরি করেন।
 
র্যাব সূত্র জানায়, গত বছরের ৩১ মে র্যাব তেজগাঁও বেগুনবাড়ি পোস্ট অফিস এলাকা থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদী বইসহ জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন মফিজুল ইসলাম ওরফে তুষার ওরফে তাওহীদ (২৯), রকিবুল ইসলাম ওরফে রকিবুল  মোল্লা (২৫) ও ইলিয়াছ আহমেদ (১৯)। ঐ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় সোয়েব শেখকে পলাতক আসামী হিসাবে দেখানো হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য, সোয়েবকে তারা খুঁজছে।
 
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার আগে ও পরে যারা নিখোঁজ হচ্ছেন তাদের সবাই জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নয়। আবার নিখোঁজদের কারো কারো ব্যক্তিগত প্রোফাইল, ফেসবুক ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করে জঙ্গি সন্দেহ উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর আগে দেখা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে কোন কোন যুবক র্যাব-পুলিশের জঙ্গি অভিযানে নিহতও হয়েছেন। আবার অনেকে আত্মগোপনে থেকে ‘নিখোঁজ’ নাটক সাজায়।’
গত ৩ জুন বনানীর সি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৬৭/এ, মোস্তফা ম্যানসনের ৫ম তলায় জিয়াউল হকে মালিনকানাধীন ইন্টারকম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও টেলেক্স লিমিটেড নামে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ইমাম হোসেন (২৭), তাওহীদুর রহমান (২৬), কামাল হোসেন (২৪) ও হাসান মাহমুদ (২৬)। এদের মধ্যে ইমাম হোসেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ত্রিপল-ই বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। কামাল হোসেন নিউ ইস্কাটনের দিলু রোডের জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস সম্পন্ন করে ঐ প্রতিষ্ঠানে বিপনন কর্মকর্তা হিসাবে চাকরি করতেন। হাসান মাহমুদ ঐ প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার পদে কর্মরত ছিলেন। আর ইমাম হোসেন ঐ প্রতিষ্ঠানের ছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। নিখোঁজ তাওহীদুর রহমানের বাসা মহাখালীতে। তার বাবা মহাখালী এলাকার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। নিখোঁজ চার জনের মধ্যে তাওহীদুর রহমান বাদে বাকি তিন জন চট্টগ্রামে একই পরিবারে বিয়ে করেছেন। নিখোঁজের ঘটনায় বনানী থানায় হাসান মাহমুদের বাবা আব্দুর রহিম, কামাল হোসেনের মামা রশিদ আলম ও ইমাম হোসেনের বাবা বিল্লাল হোসেন বনানী থানায় ৩ টি জিডি করেন।
 
হাসান মাহমুদের বাবা আব্দুর রহিম ইত্তেফাককে বলেন, তিনি সিলেটে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষা দেন। হাসান মাহমুদ একটি মাদ্রাসা থেকে পড়াশুনা করে বনানীর ঐ প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে যোগ দেয়। হাসানের সঙ্গে আরো দুই জন নিখোঁজ হয়েছে। তার ছেলে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নয়।
 
অপরদিকে, গত বছরের ১৪ জুলাই বনানী রেলস্টেশনের সামনে থেকে  বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ইয়াসিন আলী (৪৫) নিখোঁজ হয়ে যান।  ইয়াসিনের বাসা মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায়। ইয়াসিনের মা ডা. সুরাইয়া পারভীন অভিযোগ করেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। 
 
একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার আগে নিবরাস ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় যে মামলা হয়েছিল সেই মামলায় ইয়াসিনের নামও রয়েছে। 

আরও সংবাদ