Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

পুরো পার্বত্যঅঞ্চলে স্থিতিশীলতায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে রোহিঙ্গা সঙ্কট

Published:2017-11-01 18:30:58    

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সঙ্কটটি পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। রোহিঙ্গা ইস্যু উগ্রবাদী ঝুঁকি বাড়াবে বলে মনে করছে বলে ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। সংস্থাটির গবেষণা বলছে, এ পর্যন্ত স্মরণকালের ভয়াবহতম অনুপ্রবেশে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত ৩ লাখ ১৩ হাজার জন নিবন্ধিত হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভবিষ্যত বিবেচনায় আমরা ঝুঁকি দেখতে পাচ্ছি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক যদি বছরের পর বছর ত্রাণ-নির্ভর হয় তাহলে সেটা কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

বুধবার ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানজনিত সমস্যা ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত টিআইবির সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেয়া হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। সমীক্ষা তুলে ধরেন গবেষক গোলাম মহিউদ্দিন।

সমীক্ষায় বলছে, এ সংকটের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগসাজশের ঝুঁকি রয়েছে। রোহিঙ্গারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে উল্লেখ করে টিআইবি বলছে, শুধু ত্রাণকেন্দ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে না। এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। আন্তর্জাতিকভাবেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। কূটনৈতিক চাপে এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ সামর্থ্য রাখে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই ব্যাপারে সরকারের অবন্থা ইতিবাচক ও সব মহলে প্রশংসার। অল্প সময়ে সাময়িকভাবে সমাধান করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে টেকসই হবে না। ওখানে স্থানীয় জনগণের তুলনায় অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ। তিনি বলেন, এটা নতুন সমস্যা নয়। আন্তর্জাতিক সমস্যা। আমাদের কূটনীতিকে সুদৃঢ় করতে হবে।

ড. জামান বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে সরকার বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ মানবিকতার প্রশংসা করছেন বিশ্ব নেতারা।


রোহিঙ্গা সঙ্কটে ভারত ও চীনের মতো পরাশক্তিরা দায়ী উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণেই রোহিঙ্গাদের উপর এ জাতিগত নিধন। এটি একটি গণহত্যা। ভারত ও চীন বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। এ দুটি দেশকে বোঝানোর ব্যাপার বাংলাদেশের। মিয়ানমারের উপর প্রয়োজনে সামরিকসহ সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি রাখে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা হলে ক্যাম্পগুলোতে নানাবিদ অপরাধ এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে, যা ইতোমধ্যেই লক্ষণীয়। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক নানাবিধ অপরাধে রোহিঙ্গাদের জড়িত করার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাংগঠনিক ক্ষমতা কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যা শুরু থেকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হবে বলেও তিনি মনে করছেন।

আরও সংবাদ