Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed May 23 2018 ,

সুন্দরবন অঞ্চলের ২০ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

Published:2017-11-01 18:39:54    

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার লক্ষ্যে সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যুদের আরো ২০ জনের একটি দল দেশী-বিদেশী ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
আজ পিরোজপুর জেলা স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এসব জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেন।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায় তারা নিজেরাই একদিন চরম বিপদে পড়বে।
বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যু ও বনদস্যুদের উদ্দেশে তিনি বলেন,আত্মসমর্পণ না করলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
বরিশালস্থ র‌্যাব-৮’র অধিনায়ক উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজিবের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ পরবর্তী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মোঃ বেনজীর আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সেখ. পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ালিদ হোসেন, পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জলদস্যুদের গুলিতে একচোখ হারানো মৎস্যজীবী আব্দুল কাইয়ুম তার উপর জলদস্যুদের অমানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এ সময় উপস্থিত অনেকর নীরব কান্না লক্ষ করা যায়।
আত্মসমর্পণকারী ২০ জন জলুদস্যুর মধ্যে রয়েছেন,সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু মানজু বাহিনীর প্রধান মোঃ মানজু সরদার এবং মজিদ বাহিনীর প্রধান মোঃ তাকবির কাগচী ওরফে মজিদ।
জলদস্যুদের জমা দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১১টি বিদেশী একনালা বন্দুক, ৭টি বিদেশী দোনালা বন্দুক, ৫টি পয়েন্ট ২২ বোর বিদেশী এয়াল রাইফেল, ৬টি ওয়ান শ্যুটারগান এবং ৪টি কাটা রাইফেল। এছাড়াও ১হাজার ৩২৯ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গুলি রয়েছে ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনে জনাব বাহিনী, সুমন বাহিনী ও বড় ভাই বাহিনী এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা অবিলম্বে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যারা আত্মসমর্পণ করছেন তাদের প্রত্যেককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা, র‌্যাবের পক্ষ থেকে ২০ হাজার এবং এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার নগদ টাকাসহ একটি করে মোবাইল ফোন, শীতবস্ত্র প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন,হত্যা ও ধর্ষনের মত জঘন্য অপরাধে জড়িতরা বাদে অন্যান্য অপরাধে সংশ্লিষ্ট জলদস্যু ও বনদস্যুদের জামিনে মুক্ত হওয়ার পথ সুগম করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩২জন আত্মসমর্পণ করলেও এর মধ্যে একজন ছাড়া বাকী সকলে জামিনে মুক্ত হয়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি। আমি অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মিয়ানমার গিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে ১০ দফা চুক্তি সম্পাদন করেছি। আশা করছি মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেবেন।’
আসাদুজ্জামান খান বলেন, বর্তমান সরকার শুধু র‌্যাব নয়, পুলিশ এবং কোষ্টগার্ডের আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
বর্তমান সরকার শিল্পপুলিশ, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কোষ্টগার্ডের জন্য ইতিমধ্যেই ২টি জাহাজ এসেছে এবং সমুদ্রে টহল দেওয়ার জন্য আরও দু’টি উচ্চ গতিসম্পন্ন জাহাজ ও স্পীডবোর্ড আগামী ডিসেম্বর মাসে আসবে বলে তিনি জানান।

আরও সংবাদ