Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon July 16 2018 ,

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ,যে কোন সময় আদেশ

Published:2018-02-25 17:26:56    
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গ্রেফতার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। নিম্ন আদালতের নথি পাওয়ার পর আদালত এ ব্যাপারে আদেশ দেবেন।
 
আজ রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
 
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী এবং রাষ্ট্রপষ্ট্রে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম।
 
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ আজ রোববার দুপুর ২টা ১২ মিনিটে এজলাসে আসেন বিচারকদ্বয়। কিন্তু আইনজীবীদের অতিরিক্ত উপস্থিতির চাপে তারা বাদী-বিবাদী দু’পক্ষকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ১০ মিনিট সময় দিয়ে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে আবার শুনানি শুরু হয়।
 
এদিকে, অসুস্থতাজনিত কারণে দীর্ঘদিন দীর্ঘদিন আদালতে হাজির না থাকলেও আজ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আদালতে আসেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতে দাঁড়াননি।
 
আজ দুপুর ২টায় শুনানির সময় ধার্য থাকলেও দুপুর ১টা থেকেই শতশত আইনজীবী ও সাংবাদিকের উপস্থিতিতে আদালত কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এজলাসের বাইরেও অপেক্ষায় থাকেন বহু আইনজীবী।
 
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন চাওয়া হয় আবেদনে।
 
গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী আপিল গ্রহণের জন্য আবেদন জানালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য দুই ঘণ্টা সময় চান। আদালত তখন দুপুর ১২টায় শুনানি শুরুর আদেশ দেন।
 
দুপুরে শুনানির পর আদালতে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী জামিনের নথি উপস্থাপন করে বক্তব্য দেন। এ সময় আদালত খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন গ্রহণ এবং জরিমানা স্থগিতের কথা জানান। পাশাপাশি আদালত ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতের কাগজপত্র জমা দিতে বলেন।
 
সেদিন আপিল গ্রহণের শুনানির পর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন চাইলে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিরোধিতা করে সময় চান। তিনি বলেন, মামলার নথি পর্যালোচনার জন্য সময় প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ রোববার দুপুর ২টা সময় নির্ধারণ করেন।
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আরো চারজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
 
পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে পরিশোধ করতে বলা হয়।
 
প্রায় ১০ বছর আগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকার সময় এই মামলাটি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
 
সেখানে অভিযোগ করা হয়, এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে পাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দেয়া হলেও, তা এতিম বা ট্রাস্টের কাজে ব্যয় করা হয়নি। বরং সেই টাকা নিজেদের হিসাবে জমা রাখার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
 
কিন্তু আসামিপক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে বর্তমানে ওই অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদে-আসলে বেড়ে ছয় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
 
দুর্নীতি দমন কমিশনের তখনকার উপ সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ (বর্তমানে উপ-পরিচালক) এ মামলার এজাহারে খালেদা জিয়াসহ মোট সাতজনকে আসামি করেন।
 
বাকি ছয়জন হলেন- খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক (ইকোনো কামাল), সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়ীদ আহমেদ।

আরও সংবাদ