Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun June 24 2018 ,

রাজনীতি এখন মাঙ্গনি কামলাদের দখলে

Published:2018-03-01 23:33:59    

দেশের রাজনীতি এখন আর দাদাদের কাছে নেই। আসলে রাজার নীতি রাজনীতি নাকি নীতির রাজা বলে রাজনীতি কিনা এর মীমাংসা আমাদের জানা নেই। তবে এই না জানার মধ্যেই রাজনীতি এক সময় রাজা রেখে প্রজাদের কাছে চলে আসে। প্রজারাই হয়ে পড়ে রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রা। আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতি যার কাছে আছে কে চালাচ্ছে এবং দেশ কোন দিকে যাচ্ছে এর কোনটাই স্পষ্ট নয়। প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী বর্তমানে কারাগারে। তাকে একটি বিশেষ মামলায় সাজার রায় দিয়ে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। এতিমখানার মামলা না কি বাদী-বিবাদী এতিমদের মামলা এবং পরিকল্পিত রায় না কি, কল্পিত রায় এই বিতর্কের মধ্যেই দুই দল তাদের রাজনীতির স্বার্থে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং পরিক্ষিত অপোষহীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারী জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনোল্লখ্য একটি মামলায় কারাগারে যাবেন এমনটি দেশের মানুষ খুব একটা ভাবেননি। কিন্তু ভাবার আগেই তাকে কারাগারে যেতে হলো। তাকে কারাগারে পৌঁছাতে পেরে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল ধারণ খুশি। ‘বাজাও তালিয়া হাতে ধুথু মাখিয়া’। মানের আনন্দে তালি বাজাতে বাজাতে ক্ষমতাশীন নেত্রী এবং তার চারপাশের অণ্ডমণ্ড জ্ঞানীগুণি গণ্ডমুর্খরা কখন যে কি বলছে তার হিসেব নেই। বলতে বলতে কখন নিজেই বিবস্ত্র সে দেখারো সময় পাচ্ছে না তারা। দু’দলের প্রধান এবং প্রায় প্রধান নেতারা এক নেত্রী কারাবাস নিয়ে তাদের জনপ্রিয়তা জনসম্মুক্ষে প্রকাশ করছেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করায় প্রতিদিন তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে ১০ লাখ’ অপরদিকে আওয়ামী লীগের নেতামন্ত্রী এমন কি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলছেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করায় তাদের প্রতিদিন ভোট বাড়ছে ১০ লাখ’ এর সহজ হিসাবটা হলো দু’দলেরই জনপ্রিয়তা বাড়ানো এবং কমানোর মালিক বেগম খালেদা জিয়া। সম্পাদকের ছেলে সম্পাদক এক সময়ের রাজনীতিবিদ এবং দেশের এক জটিল সময়ের সংবিধান বর্হিভূত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন ব্যারিষ্টার মাইনুল হক। তিনি সে সময় এক ফর্মুলা দিয়ে বলেছিলেন দেশের রাজনীতিকে ঠিক করতে হলে এবং রাজনীতিকে বিশেষ পরিবার থেকে বের করতে হলে অতপর দেশকে দুর্নীতি করার ইচ্ছা থাকলে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। যার শিরোনাম ছিল মাইনাস টু ফর্মুলা। দেখা গেল সেই ফর্মুলা বাস্তবায়নের আগেই তিনি মাইনাস ওয়ানে পড়ে গেলেন এবং লোভাতুর কথিপয় সেনা এবং আমলাদের সেই অসৎ তৎপরতা বন্ধ হয়ে গেলো। দুই নেত্রীকেই আবার তাদের রাজনীতিতে ফিরে আনতে বাধ্য হয়েছিল সেই মাইনাস টু ফর্মুলার মুর্খ পণ্ডিতরা। এবার নতুন করে বর্তমান সরকার প্রধান বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর পরামর্শে মাইনাস ওয়ানের চেষ্টায় খালেদা জিয়ার কারাবাসকে শিরোনামবিহীন আইনের নামে কারারুদ্ধ করেছেন কিনা এটা ভাববার পূর্ণ সময় এখনো আসেনি। তবে বিষয়টা যে সে দিকে যাচ্ছে তা আইনমন্ত্রীর বেআইনী কথাবার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছে। তিনি বলছেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দী হয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আইন না জানার কারণে। তার অর্থ হলো তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি বলতে পারেন পিতার করে যাওয়া মামলার শেষ অংশটি সরকারের সহায়তায় শেষ করে যা থেকে দায়মুক্ত করা ছাড়া আর কোনো মামলার উল্লেখযোগ্য উকালতি তিনি করেছেন এমনটি দেশের মানুষ জানে না। হঠাৎ করেই তিনি তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩২ ধারা বাতিলের দাবিকে খন্ডন করতে গিয়ে বললেন ৩২ ধারায় সাংবাদিকের কোনো ক্ষতি হলে তারা নির্যাতিত হলে তিনি বিনা পয়সায় মামলা করে দিবেন। গ্রামের বাড়িতে কিছু কামলা আছে কোনো কাজ পায় তবে এরা ‘মাঙ্গনি’ কামলায় সঙ্গ দেয়। বিনিময়ে দু বেলা পেট ভরে খাবার খায়। আইনমন্ত্রী কথা শুনে অনেকের মুখেই এ কথাটি বলতে শুনেছি। খারাপ লাগেনি। মাঙ্গনি কামলার সঙ্গি এখন দেশের উচ্চ আদালতের আছে। আছে সরকারের মন্ত্রিসভায়। বিনাভোটে এমপি, মন্ত্রী অতপর স্বঘোষীত আইন বিশেষজ্ঞ। কোনো সাংবাদিক জীবনে কখনো তার কাছে মামলা নিয়ে যাবেন আমি অন্তত এটা মনে করি না। কারণ অতীতে কেউ যায়নি তার কাছেও না তার বাবার কাছেও না। তবে তার পিতা সাধারণ আইনের একজন বিশেষ পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। বলছিলাম দেশের রাজনীতি যাচ্ছে কোথায়? এক পক্ষ কারাগারে আরেক পক্ষ নির্বাচনী তৎপরতায় দেশজুড়ে। দু’পক্ষকেই আদালতে যেতে হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীনেতাকে লক্ষ মামলায় প্রতিদিন আদালতে যাওয়া আসা করাতে বর্তমান সরকারি দল কি মনে করছেন এটাও আমার জানা নেই। বলা আছে পথ পথিক সৃষ্টি করে। ইংরেজ শাসন আমল শুরু করে এ দেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাশীনরা কে কৌশলে সুউচ্চ চূঁড়ায় বসে জন নির্যাতন করে সেই ধারা স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ আশা করে না। দুর্ভাগ্য এ জাতির। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে তার কন্যা শেখ হাসিনা পর্যন্ত সবাই একইভাবে প্রতিপক্ষকে নির্যাতন করে দেশ শাসন করেছেন। কেউ বেশি কেউ কম। আর বর্তমানে তা অতীতের সব সীমাকে লঙ্ঘণ করেছে। রাজনীতির দু’পক্ষ বিশেষ করে দু’দলের সম্পাদক সেসব রাজনীতির কথা বলেন এক পক্ষ আরেক পক্ষকে যা বলেন আমার মনে হয় নিজেরা কখনো ভেবেও দেখেন না তারা কি বলছেন। তাদের কথার মূল সুর হলো দেশ এখন রাজনীতি শাসন করছে না। চলছে রাজনীতির নামে হঠকারীতা, মিথ্যা বলা, গীবত করা এবং শিষ্টাচারের মধ্যে নিজেকে কখনোই না রাখার ভাষণের শিরোনামে অশ্রাব্য গালিগারাজ করা। মাঝে মাঝে মনে হয় এরা লেখাপড়ারাই জানে না। অথচ এরা দু’জনই সুশিক্ষিত মানুষ। একজন এক সময় সাংবাদিক ছিলেন আরেক ছিলেন শিক্ষক। মহান পেশায় থাকা এ দুটি মানুষ যেসব ভুল এবং নষ্ট কথায় বক্তৃতা দেন এটা ভবিষ্যৎ বংশধরকে শোনাতেও ভালো লাগে না। আমি জানি না এই দু’জন এবং উভয়ের পাশে হাসান, রিজভী এবং হানিফরা যেসব কথাবার্তা বলে মনে হয় এরা দেশকে রাজনীতিহীন করতে চায়। এরা ওই ভুয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাইনাস টু ফর্মুলার মতো মাইনাস রাজনীতির পথে উন্নিত করতে চায়। উপসংহারে ছোট করে বলতে চাই, দেশের রাজনীতি সচেতন কোনো মানুষ এই দু’পক্ষের অনেক কিছুকেই সমর্থন করে না। কথা হচ্ছে বাকি যারা আছেন, তাদের অবস্থা এই আন্ডারস্যারাইন যে, মানুষ রাজনৈতিক চিন্তায় নিজেকে চালাতে গিয়ে এই দু’দলের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। অনুগ্রহ করে প্রতিদিনের ভাষণ চর্চা বন্ধ করুন। স্বাধীনতার চেতনায় চলতে গেলে স্বাধীন দেশ উপযোগী কথা বলতে হবে। ভারত পাকিস্তান, আমেরিকা এবং লন্ডন কিংবা সৌদি আরব কারো পক্ষ সমর্থন করে নিজেকে আদালা করা যাবে না। আমি আলাদা ভাষায়, চিন্তায়, যুদ্ধে এবং সত্যাশ্রয়ী জীবন ব্যবস্থায় অতপর সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং মুক্তভাবে চলায় এবং বলায়। 
 

লেখক: বীরমুক্তিযোদ্ধা,

জৈষ্ঠ সাংবাদিক, রাজনৈতিক কলামিষ্ট
ruhulamin_akm@yahoo.com, 01973628822

আরও সংবাদ