Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Thu September 20 2018 ,

আইএমইডি’র প্রতিবেদন কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন

Published:2018-05-06 23:45:36    
বিশেষ প্রতিবেদক: সুনির্দিদষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। ফলে নির্ধারিত সময়ে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লাগছে, তেমনি বাড়ছে ব্যয়। যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। সম্প্রতি বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চিত্র বেশি নাজুক। এগুলো হচ্ছে- ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, অর্থবিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, তথ্য মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ। পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পও রয়েছে এ তালিকায়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। তবে কর্মপরিকল্পনা না করেই কাজ শুরু করা অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করছে আইএমইডি। ৩ ডিসেম্বর (মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক আলাদাভাবে) প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরদিন ৪ ডিসেম্বর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩৫০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তা উপস্থাপন করা হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ বিষয়ে বলেন, এই প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কী করা যায়। তবে এডিপির সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। আইএমইডি প্রকল্পের তদারকি আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়িয়েছে। আশা করছি প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে. মুজেরি  বলেন, যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল কাজই হচ্ছে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। কিন্তু এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, আইএমইডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা না থাকলে কখনই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সুষ্ঠু হবে না। এটা আশা করা দুরাশা ছাড়া কিছুই নয়। তাছাড়া কর্মপরিকল্পনা থাকলে বোঝা যায় কোন কাজটি কখন করতে হবে। কোনটি আগে বা কোনটি পরে। তখন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমন্বয় থাকবে। কিন্তু কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয় তাহলে সময়মতো শেষ হবে না। ব্যয়ও বেড়ে যাবে। প্রকল্প থেকে কাক্সিক্ষত সুফলও আসবে না। আইএমইডি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতু বিভাগের ৬টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৭ হাজার ৯৫৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। নভেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে ব্যয় হয়েছে ৪০৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, আইএমইডি তাদের মতো করে মূল্যায়ন করেছে। প্রতিবেদনটি হাতে না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে যদি কর্মপরিকল্পনাই না থাকে তাহলে টাকা বরাদ্দ পাচ্ছি কোথা থেকে।

অর্থ বিভাগের ৪ প্রকল্পের অনুকূলে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ রয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে ব্যয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। এক্ষেত্রে ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ১০ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ হাজার ৪৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। নভেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প দুটি শুরু করা হয় কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই। বিদ্যুৎ বিভাগের ৯৭ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ২২ হাজার ৪৮১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। চার মাসে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৮২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ বিভাগের আওতায় খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট যৌথ জ্বালানিভিত্তিক সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ঘোড়াশাল-৩ সংস্কার প্রকল্পটি কর্মপরিকল্পনা ছাড়াই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডি সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবেদনটি নিয়ে এখনও কাজ করছি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে পাঠানো হবে। আইএমইডি চায় যাতে করে ব্যয় ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মান বজায় থাকে। এজন্য এডিপিভুক্ত সব প্রকল্পই মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

কর্মপরিকল্পনাহীন বাস্তবায়ন শুরু করা প্রকল্পের মধ্যে আরও রয়েছে- পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের একটি বাড়ি একটি খামার (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। সুরক্ষা সেবা বিভাগের দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা বা স্থানে ১৫৬টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন প্রকল্প। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন ইনফো-সরকার (তৃতীয় পর্যায়) এবং ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টার স্থাপন প্রকল্প। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রথম সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনাহীন প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।

 

আরও সংবাদ