Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সংঘাত উসকে দিতে চায় সরকার : মির্জা ফখরুল

Published:2018-09-26 21:09:06    

বিশেষ প্রতিবেদক:

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রতারণামূলক মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার সঙ্ঘাতকে উসকে দিতে চায়। কারণ ক্ষমতাসীন দলের নেতা নাসিম সাহেব বলেছেন অলিতে-গলিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আটকে দিতে। আর নানক সাহেব বলেছেন হাত-পা ভেঙে দিতে। এই হচ্ছে তাদের গণতন্ত্রের ভাষা। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কারা শুরুতে সঙ্ঘাত সৃষ্টি করে? সংঘাতকে উসকে দিতে চায়?

বুধবার দুপুরে দলের নেতৃবৃন্দে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সারাদেশে গায়েবি মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটা স্পষ্ট- বর্তমান সরকার আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে যেসব কথা মুখে বলছে সেগুলো সবই জনগণের সাথে তাদের প্রতারণা। এমনকি বিদেশে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী বলছেন তারা একটি ইনক্লুসিভ ইলেকশন দেখতে চায়, সকল দল আসুক সেটা তারা দেখতে চান। তার নমুনা হচ্ছে যে তিন লক্ষ লোকের বিরুদ্ধে মামলা, তার নমুনা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা। তার নমুনা হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে আবার একটা মামলায় সাজা দেয়ার চেষ্টা করা। আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মিথ্যা মামলাগুলোকে আবার তরান্বিত করা হচ্ছে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলের এক যৌথসভা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ‘গায়েবী’ মামলার দায়ের ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সারাদেশে গায়েবী মামলার উৎসব চলছে। কে কতগুলো দিতে পারে, কিভাবে দিতে পারে সেই উৎসব চালাচ্ছে এখন সরকার। এমন একটা ইউনিট নেই বাংলাদেশে বিএনপির সেখানে একেবারে সভাপতি থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত মামলা দেয়া হয়নি। আমাদের হিসেবে এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের উপরে মামলা হয়েছে। নাম দিয়ে আসামী করা হয়েছে সোয়া তিন লাখ উপরের মানুষের বিরুদ্ধে। আমরা এ কথা বিশ্বাস করি যে, গুম-খুন, নিপীড়ন-নির্যাতন, হত্যা-নির্যাতন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। জনগণই এর জবাব দেবেন। এবারো জনগণ তার জবাব দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি বলেছেন বিএনপি নাকি এখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে এবং আন্দোলন নাকি কারাগারে। আন্দোলন তো কারাগারেই হবে। গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। সেই কারাগারকে ভেঙে ফেলার জন্য দেশে আন্দোলন হবে। অবশ্যই এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ এ দেশেকে মুক্ত করবেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে।

আগামী শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ওই জনসভা থেকে আমরা আমাদের নীতিনির্ধারণী বক্তব্য দেবো আমাদের ভবিষ্যতের কর্মপন্থা, ভবিষ্যতের কর্মসূচি- এগুলো আসবে।

শনিবারের জনসভার পুলিশি অনুমতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জনসভা করতে চেয়েছিলাম ২৭ তারিখে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো যে, ২৭ তারিখ করা ঠিক হবে না। শনিবার ২৯ তারিখ ছুটির দিন সেদিন করেন, সোহওরায়ার্দী উদ্যানে করেন। সেজন্য আমরা ২৯ তারিখে জনসভা করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন বলা হচ্ছে না। সেদিন নাকী আওয়ামী লীগের কোনো একটা মতবিনিময় সভা আছে আমি ঠিক জানি না। এটা মহানগর নাট্যমঞ্চে সম্ভবত আছে। বহু দূরে এই মতবিনিময় সভা। তার সাথে আমাদের জনসভার সম্পর্কটা কোথায়, বিরোধ কোথায় সেটা তো আমরা বুঝতে পারছি না।

মির্জা ফখরুল বলেন, নাসিম সাহেব এক সভায় বলেছেন, রাজপথে গলিতে যেখানে পাবা সেখানে আটকিয়ে দাও। সেখান থেকে যেন বিএনপি বেরিয়ে আসতে না পারে। আর জাহাঙ্গীর কবির নানক বলছেন, হাত-পা ভেঙে দাও। এই তো হচ্ছে তাদের গণতন্ত্রের ভাষা। জনগণ বিবেচনা করবেন এই সংঘাত সহিংসতা কারা শুরু করে? ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর কারা লগি-বৈঠা দিয়ে সেদিন ২৭ জন তরুণকে হত্যা করেছিলো এটা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। দুর্ভাগ্য এটা যে আমাদের মিডিয়া কেনো জানি এসবকে সামনে তুলে নিয়ে আসে না।

শনিবারের জনসভার অনুমতির জন্য আবেদন করবে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভাই অনুমতির আবেদন-টাবেদন না। ইট ইজ দেয়ার রেসপনসেবেলিটি। এটা তারাই ঠিক করবেন কী করবেন? জনসভা কী ২৯ তারিখ হবে প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, আজকে আমরা যৌথ সভা করেছি ২৯ তারিখের জনসভার জন্য। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও যুক্তফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময় হলেই সব জানতে পারবেন। যৌথ সভা থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানেরও দাবি জানানো হয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা রায় আগামী ১০ অক্টোবর দেওয়া হবে বলে বলা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই রায়কে কেন্দ্র করে পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন রকম কথাবার্তা আসছে। এই মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতাকে এখানে জড়িত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সাজা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের চক্রান্ত দেশের মানুষ কখনো মেনে নেয়নি, নেবেও না।

তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের নেতারা কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। বিশেষ করে তারেক রহমানের নাম এখানে জড়ানো হচ্ছে প্রতিহিংসা কারণে। এই মামলাটি করার পরে তিনজন তদন্ত কর্মকর্তাকে বদল করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তাদের পছন্দমত একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় খালেদা জিয়া ঢাকায় ছিলেন না উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তখন খালেদা জিয়া ঢাকার বাইরে কুমিল্লা বা নোয়াখালীতে ছিলেন। এই ঘটনা শোনার পরে তিনি তার সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার সুধাসদন বাসায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই দিন ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দিয়ে বাধা সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে যেতে দেননি।

আরও সংবাদ