Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed December 19 2018 ,

  • Advertisement

পলিথিনের বিকল্প পাটের ব্যাগ তৈরি করবে বাংলাদেশ

Published:2018-10-02 16:11:23    

পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিনের বিকল্প পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগ তৈরী করবে সরকার। পাটের সুক্ষ্ম সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে এ বিশেষ ধরণের ব্যাগ তৈরি করা হবে।

 

পরিবেশবান্ধব এ ব্যাগ তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি নাগরিক ড. মোবারক আহমেদ খান। 

বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক কোম্পানি ফুটামুরা কেমিক্যাল লিমিটেডের সাথে বিজেএমসির এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী। 

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাটের তৈরি বিশেষ ধরনের এ সোনালি ব্যাগ মাটিতে ফেললে তা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। ফলে এর দ্বারা পরিবেশ দূষণ হবে না। 

এ ব্যাগ ব্যাপকভাবে তৈরি করতে পারলে দামেও সাশ্রয়ী হবে। এর মাধ্যমে পাটের ব্যবহার বাড়লে ন্যায্য দাম পাবেন কৃষকেরা। আমরা পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ইতোমধ্যে ২৮৫টি পাটজাত পণ্য দেশে তৈরি হচ্ছে। 

 

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিদিন শুধুমাত্র আমাদের দেশেই এ ধরণের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫০০ টন। ফলে এ ধরণের ব্যাগ তৈরি করে আমাদের দেশীয় চাহিদা মিটিয়েই অনেক বেশি অর্থ উপার্জন সম্ভব। পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যাগ তৈরি করতে পারলে তা বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। 

অনুষ্ঠানে এ প্রযুক্তির উদ্ভাবনকারী বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমেদ খান বলেন, প্রথমে পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ তৈরির উদ্দেশ্যে পাট থেকে সেলুলোজ আহরণ করা হবে। পরে ওই সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে অন্যান্য পরিবেশবন্ধব দ্রব্যাদির মাধ্যমে কম্পোজিট করে এই ব্যাগ তৈরি করা হবে। 

উৎপাদিত ব্যাগে ৫০ শতাংশের বেশির ভাগ সেলুলোজ বিদ্যমান। তাছাড়া এতে অন্য কোনো প্রকার অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার হয় না বলে এটি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। 

অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ফয়জুর রহমান বলেন, আগে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরাসরি কাচা পাট রপ্তানি করতাম। আর এর থেকে পাটজাত পণ্য তৈরি করে তারা অনেক বৈদেশি মুদ্রা অর্জন করতো। এখন আমরা নিজেরাই পাটজাত পণ্য তৈরি করে রফতানি করছি। আগের মতো আর কাচা পাট রফতানি করবো না। 

ফুটামুরা কেমিক্যাল লিমিটেড এর কারিগরী সহযোগিতায় বিজেএমসি পাট থেকে সেলুলোজ উৎপাদনের মাধ্যমে সোনালি ব্যাগ আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতের কাজ শুরু করতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 

সমঝোতা স্মারকে সই করেন বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির সচিব এ কে এম তারেক এবং ফুটামুরা কেমিকেল লিমিটেড এর পক্ষে কোম্পানিটির জেনারেল ম্যানেজার গ্রিমি কোউলহার্ড। 

সেলুলোজ কী?

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি যে পদার্থটি পাওয়া যায় তা হলো সেলুলোজ। উদ্ভিদের যে কোষপ্রাচীর থাকে (যা প্রাণীদের থাকে না) তা সেলুলোজ দ্বারা গঠিত।  অর্থাৎ উদ্ভিদের যে প্রধান গাঠনিক পদার্থ রয়েছে তার অন্যতম হলো সেলুলোজ। 

সেলুলোজ হলো কঠিন জৈব রাসায়নিক পদার্থ, যার রং সাদা। এদের স্বাদ বা গন্ধ কিছুই নেই। পানিতেও দ্রবীভূত হয়না। 

তুলায় সেলুলোজ বেশি থাকে, যা প্রায় ৯৪%। তৃণলতায় ৩০-৪০% সেলুলোজ থাকে। জৈব বস্তুতে ভরপুর যে মাটি তাতে সেলুলোজ থাকে ৪০-৭০%। 

আরও সংবাদ