Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

আন্দোলনের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে

Published:2018-10-07 20:25:40    

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারা বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই সরকার সংবিধান, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম বিরোধী নতুন কালাকানুন করছে। সাংবাদিক সমাজ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো ধারা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এ আইন আমরা মানব না। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে। নেতৃবৃন্দ এ আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ১১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আবারো অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। আরো বক্তৃতা করেন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে সিনিয়র সহসভাপতি নূরুল আমিন রোকন, সহসভাপতি মোদাব্বের হোসেন, সিনিয়র সহকারী মহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, ডিইউজের সহসভাপতি শাহীন হাসনাত, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক অর্থ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান  প্রমুখ। 
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করে আসছি। তারপরও দেশ ও বিদেশের সবার মতামতকে উপেক্ষা করে এ আইন কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা সাংবাদিক সমাজ এ আইন মানি না, মানবো না। বর্তমানে যারা এ আইনের পক্ষে অবস্থান করছেন তারাও এ আইন থেকে রেহাই পাবেন না। তিনি আরো বলেন, যে সরকারের আমলে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, বাক-স্বাধীনতা থাকে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। এখন ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারকে বিতাড়নের সময় এসেছে। আসুন আমরা সবাই এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। এ সময় তিনি নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন। 
শওকত মাহমুদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি রাষ্ট্রপতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। হয়তো কার্যকরও করা হবে। আমরা এ আইনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছি। দেশবাসীসহ বিশ্বের অনেকেই এ আইনের বিরোধিতা করছে। তারপরও এ আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ এ আইন মানে না, মানবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এ আইন বাতিল করতে হবে। এ আইন বাতিলের দাবিতে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং যত দিন বাতিল না হবে তত দিন রাজপথে থাকব। 
এম আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বারবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বাক্ষর না করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারপরও তিনি স্বাক্ষর করেছেন। আমরা তা আশা করিনি। হয়তো ২-১ দিনের মধ্যে কার্যকরও করা হবে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এ আইনে যারা জড়িত তারা সবাই সংবিধান লঙ্ঘন করে মৃত্যুদণ্ডের মতো অপরাধ করেছে। আদালতে গেলে তাদের সবার সর্বোচ্চ সাজা হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ আইন বাতিল করুন। তা না হলে সরকারের করুণ পতনের মধ্য দিয়ে এ আইন বাতিল হবে। 
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আমরা এ আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলন করছি। তারপরও অবৈধ সরকার গায়ের জোরে এ আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা সাংবাদিক সমাজ এ আইন ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই এ আইন বাতিল করা হবে। 
শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে ফ্যাসিবাদ সুরক্ষার যে আইন পাস করা হয়েছে সাংবাদিক সমাজ এই কালো আইন মানবে না। শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সাংবাদিকসহ সবার বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য এ আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই এ আইন বাতিল করতে বাধ্য করা হবে।

আরও সংবাদ