Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

সৌদির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা

Published:2018-10-26 18:56:19    

বাস ডেস্ক : সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব পাস করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পাস হয়।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পাস হওয়া প্রস্তাবের আইনগত ভিত্তি নেই। ইইউয়ের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাস হওয়া প্রস্তাব মানার ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে না।

তুর্কি বাগদত্তার সাথে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি।

শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি আরব জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুল কসন্যুলেটে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুইদিন পরই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সেসময় সৌদি আরব দাবি করে যে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় উত্তেজিত খাশোগি চিৎকার করতে থাকলে তা বন্ধ করতে মুখ চেপে ধরা হয় এবং এর ফলে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সৌদি আরব।

খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাসের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,‘সৌদি আরবের দেয়া ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।’

বিবৃতিতে ইইউ আরো বলে, খাশোগির হত্যাকাণ্ড মূলত সৌদি আরবে মানবাধিকারকর্মী, নারী অধিকারকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক ও ব্লগারদের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়নের অংশ।

এ ঘটনায় সৌদি আরববিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট সন্দেহভাজনদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের মতো পৃথক পৃথক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ সৌদি আরবকে কঠিন বার্তা পৌঁছে দেবে।

ডাচ এমপি মারিয়েতজ শ্যাকে বলেন, ‘সৌদি কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা প্যারিসে কেনাকাটা করতে পারবেন না, পাশাপাশি ইউরোপের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে পাঠাতে পারবে না।’

অবশ্য কয়েকদিন আগেই প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় জার্মানি। রোববার চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল বলেন,‘খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা সম্ভব না।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিকট থেকেই সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রয় করে থাকে সৌদি আরব।

জার্মানি ছাড়া অন্য দুই দেশই খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি আরবের সমালোচনা করেছে। তবে এখনও জার্মানির মতো অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়নি তারা।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক দফতরের মতে, সৌদি আরবের কাছে গত বছর ১৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে তারা। বাস্তবে এই অঙ্কের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। অন্যদিকে ফ্রান্স বিক্রি করেছে ১৪৭০ কোটি ডলারের অস্ত্র।

ইইউয়ের এই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পাশের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে- দুজনই সৌদি আরবের বাদশাহর সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি বাদশাহকে খাশোগি হত্যার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো। ফ্রান্স বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে।

এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টও বলেছিলেন,আমরা যেমন ঘটনা শুনছি তা যদি সত্য হয়ে থাকে তবে সেটা আমাদের মূল্যবোধবিরোধী। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। তবে ফ্রান্স কিংবা যুক্তরাজ্য অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেনি।

 

আরও সংবাদ