Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat October 19 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

আবারো বাংলাওয়াশ

Published:2018-10-26 22:30:40    

ক্রীড়া প্রতিবেদক: জিম্বাবুয়েকে টানা তৃতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সহজে জয় তোলে নেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে হোয়াইট সুযোগটা হাত ছাড়া করেনি মাশরাফি বাহিনী। শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ২৮৩ রানের বড়ধরণের টার্গেট দিলেও হেসে খেলেই সে বাধা টপকে যায় বাংলাদেশ। ৪৩ ওভারের প্রথম বলেই জয় তুলে নেয় মুশফিক। ৪৭ বল হাতে রেখই ৭ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ।

সিরিজের বাকী ‍দুই ম্যাচের মতোই লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে নামেন। প্রথম বলেই লিটন বিদায় নিলে শুরুতেই হোচট খায় বাংলাদেশ। কিন্তু সৌম্য-ইমরুল জুটিতেই নিজেদের পরাজয়ের আভাস বুঝে নেয় সফরকারীরা।

এসময় ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারের জুটি নতুন রেকর্ড গড়ে। দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি এটিই।

কিন্তু ৯২ বলে ৯ চার আর ৬ ছক্কায় ১১৭ করে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। এরপর সেঞ্চুরি করেন ইমরুল কায়েস। তিনি ১১২ বলে ১০ চার আর ২ ছক্কায় ১১৫ রান করে বিদায় সাজ ঘরে ফেরেন।

পরে মুশফিকের ৩৯ বলে ২৮ আর মিথুনের ১১ বলে ৭ রান বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন সৌম্য সরকার।  আর ম্যান অব দ্যা সিরিজ হয়েছেন ইমরুল কায়েস।

শন উইলিয়ামসের সেঞ্চুরি আর ব্রেন্ডন টেইলরের হাফ সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রামে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ দাড় করিয়েছে জিম্বাবুয়ে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৮৬ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা শন উইলিয়ামস খেলেছেন অনবদ্য ১২৯ রানের ইনিংস। তার ১৪৩ বলের ইনিংসে ছিলো ১০ চার ও একটি ছক্কা।

শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জোড়া উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট হারায় মাসাকাদজার দল। ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারেই জিম্বাবুয়ের ওপেনার চেফাস ঝুয়াওয়েকে তুলে নেন টাইগার স্কোয়াডের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন। রানের খাতা খোলার আগে তাকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাইফউদ্দিন। পরের ওভারে আরেকটি আঘান হানেন সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা পেসার আবু হায়দার রনি। তিনি ফেরান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসকাদজাকে। মাত্র দুই রান করা মাসাকাদজার স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেন রনি।


তবে তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলে জিম্বাবুয়ে। ব্রেন্ডন টেইলর ও শন উইলিয়ামসের জুটি ধীরে ধীরে থিতু হওয়ার চেষ্টা করে ক্রিজে। এই জুটিতেই শতরান পার করে জিম্বাবুয়ে। তবে ১৩২ রানের এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন বামহাতি বামহাতি অফস্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। দলীয় ১৩৮ রানের মাথায় ইনিংসের ২৭ওতম ওভারে তিনি আউট করেন জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলরকে। ছক্কা হাকাতে গিয়ে টেইলর বল তুলে দেন আকাশে, যা জমা হয় উইকেট কিপার মুশফিকুর রহীমের গ্লাভসে। টেইলর ৭২ বলে ৮ চার ও ৩ ছ্ক্কায় ৭৫ রান করেছেন। ১৩২ রানের এই জুটিটিই মূলত জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে ফিরিয়েছে।

টেইলর ফিরে গেলেও রানের চাকা ঠিকই সচল রাখেন উইলিয়ামস। চতুর্থ উইকেটে সিকান্দার রাজাকে নিয়ে ৮৪ রানের আরেকটি জুটি গড়েন উইলিয়ামস। এই জুটিতে দুই শ’ পার করে জিম্বাবুয়ে। তবে এবারও টাইগারদের ত্রাতা হয়ে আসেন নাজমুল অপু। ৪০ রান করার সিকান্দার রাজাকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান, জিম্বাবুয়ের স্কোর তখন ২২২। পঞ্চম উইকেটে উইলিয়ামসকে সঙ্গ দেন পিটার মুর। এই জুটির সংগ্রহ ৪৬ রান। ৪৯তম ওভারে ‍মুর রান আউট হয়ে যান।

উইকেটের একপ্রান্ত আগলে থাকা উইলিয়ামস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১২৯ রানে। তার সাথে মিডল অর্ডারের তিনটি জুটিই মূলত জিম্বাবুয়েকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে সহায়তা করে। উইলিয়ামসকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর। পুরো ইনিংস জুড়েই উইলিয়ামস ছিলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। সাহসের সাথে বাংলাদেশী বোলারদের মোকাবেলা করেছেন। আবার বাজে বলকে ঠিক পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে। যার মাধ্যমে তিনি তুলে নিয়েছে সিরিজের প্রথম সেঞ্চুরি। ১২১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। যার মাধ্যমে সিরিজে প্রথম বারের মতো চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়লো সফরকারী দলটি।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে নাজমুল ইসলাম অপু ৫৮ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন।

আরও সংবাদ