Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

নারায়ণগঞ্জে পরিবহণ শ্রমিকদের তান্ডব: পুলিশ নিরব দর্শক

Published:2018-10-28 21:34:23    

নারায়ণগঞ্জ সংবাদাতা : নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-সিলেট-চট্রগ্রাম মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে তান্ডব চালিয়েছে সরকার দলীয় পরিবহণ শ্রমিকরা। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘটের অংশ হিসেবে শ্রমিকরা রবিবার সকালে রাস্তায় টায়ার জ্বেলে ধর্মঘট কর্মসূচী শুরু করে। সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে সারা দেশে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকেই শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান করে যেকোন ধরনের পরিবহন চলাচলে বাধা প্রদান করছে। এথেকে রেহাই পায়নি প্রধানমন্ত্রীর পিএসের সরকারি গাড়িও কয়েকটি রুগীবাহী এ্যাম্বুলেন্সে। এছাড়া রিক্সা, মটর সাইকেলসহ সকল প্রকার পরিবহন চলাচলে বাধা প্রদান করে। পুলিশ ছিল নিরব দর্শক।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে গণপরিবহন, বিশেষ করে বাসের অপেক্ষায় সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় হাজারো যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সকাল ছয়টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। চলবে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত। দাবি আদায় না হলে ৩০ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। আজ ধর্মঘট শুরুর দিনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিভিন্ন এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রবিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-সিলেট-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলে গিয়ে দেখা গেছে গাড়ি না পেয়ে অনেকেই হেঁটে রওনা দেন গন্তব্যস্থলের উদ্দেশে। কেউ বেশি ভাড়ায় রিকশা অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাচ্ছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০টি স্পটে অবস্থান নিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তারা কোনরকম যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না। অ্যামাবলেন্সও চেক করছেন তারা। অ্যাম্বলেন্স আটকে দিচ্ছেন। এমনকি মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যানগাড়ি দিয়ে চলাচল করতে দিচ্ছে না। সকাল থেকে শ্রমিকরা মোটরসাইকেল, রিক্সা, ভ্যানসহ যেকোন ধরনের পরিবহণ দেখলেই ময়লা কাদা বা আলকাত্রা লাগিয়ে দিচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছে। এমনকি সাংবাদিকদেরও কোনরকম ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।
সিদ্ধিরগঞ্জে কর্মরত একটি পত্রিকার সাংবাদিক আরিফ জানায়, সকালে ধর্মঘটের খবর পেয়ে শিমরাই মোড়ে আসি। এসে কর্তব্য পালনের সময় ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক আমার ক্যামেরায় আলকাতরা লাগিয়ে দিতে চায় এমনকি ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিতে চায়। পরে আমি কোন রকমে ওই স্থান থেকে চলে আসি। রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিমরাইল মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ি আটকে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে গাড়িটি উদ্ধারে সক্ষম হোন । শুধু তাই নয়, পুলিশের গাড়িও আটকে দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সংসদে পাসকৃত ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর বিভিন্ন ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। শনিবার বিকালে সংগঠনটির সভাপতি ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলা শ্রমিক সমাবেশ থেকেও এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শ্রমিক ফেডারেশনের দাবি, সড়ক পরিবহন আইনে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা ও পরিপন্থী উভয় ধারা রয়েছে। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে, অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন পাস করা হয়েছে। আইনে শ্রমিকরা সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় অপরাধী হয়ে ফাঁসির ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনি অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পেশায় দায়িত্ব পালন করা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সমাবেশে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সড়ক আইন সংশোধন করে পঞ্চম শ্রেণিতেই লাইসেন্স, মামলা জামিনযোগ্য করাসহ ৮ দফা দাবিতে সারা দেশে ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা।

গাড়ি বের করার শাস্তি মুখে-শরীরে পোড়া মবিল : নারায়ণগঞ্জ নিরাপদ সড়ক আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন চেয়ে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি করছে পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় তারা দলবেঁধে ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। গাড়ি বের করার অপরাধে তাদের শরীরে ও মুখে পোড়া মবিল ঢেলে দিচ্ছেন।
ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ছাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালকদের ওপরও চড়াও হচ্ছেন শ্রমিকরা। এমনকি শ্রমিকদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাংবাদিকরাও।
সাংবাদিকরাও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন। শিমরাইল মোড়ে রিপন মাহমুদ আকাশ জানান, রোগীবাহী এম্বুল্যান্স, মোটর সাইকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবাহী গাড়ী, রিক্সা, ভ্যান কেউ রেহাই পাচ্ছেন না আন্দোলনকারীদের হাত থেকে । সকালের দিকে কিছু দুস্কৃতিকারী বিআরটিসির ২টি গাড়ী আটকিয়ে ক্যাশ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে । নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের এ অবস্থায় মানুষ অসহায় হয়েছে । গুরুত্বপূর্ণ এ পথে একজন এস আইসহ ৫/৭ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন অসহায়ের মত । শ্রমিকরা শরীরে-মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেন। সংঘবদ্ধ শ্রমিকরা বেসরকারিভাবে চলাচলকারী গাড়ি আটকে দিচ্ছেন। ফলে চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মস্থলগামী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পরিবহন না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই চলতে গন্তব্যস্থলে রওনা দেন। কেউ কেউ ভ্যান রিকশা করে কর্মস্থলে ছুটছেন। এদিকে চিটাগাং রোড, সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সকল পরিবহনের কাউন্টার গুলো বন্ধ করে রেখেছে কাউন্টারের সামনে নেই কোনো যাত্রী।

আরও সংবাদ