Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

আওয়ামী লীগের ইতিহাস একটা ‘ক্রাইম স্টোরি’ ছাড়া আর কিছুই নয়’

Published:2018-10-29 20:18:30    

নিস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন,  মূলত: আওয়ামী লীগের ইতিহাস একটা ‘ক্রাইম স্টোরী’ ছাড়া আর কিছুই নয়।  আজ সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুধু বিরোধী দলই নয়, সরকারবিরোধী সমালোচনায় দলনিরপেক্ষ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিপাকে ফেলার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। দেশের জননন্দিত নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে বন্দী করে রাখা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি-এখন চলছে প্রতিবাদী বিশিষ্টজনদের ওপর স্টীম রোলার। সরকারের পক্ষে কোন জনমত নেই বলেই ভোটারবিহীন সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বন্দুকের জোরে আদালতকে কব্জায় নিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দন্ড দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কর্মসূচী মোতাবেক আগামী শুক্রবার (০২ নভেম্বর) বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় (ভিআইপি রোড) জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। 

রিজভী বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। আর গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত সারবস্তু হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় কাটে বিরোধীদের প্রতি বিদ্বেষ প্রদর্শন করে, অবিরাম কুৎসিত অসংযমী বাক্য বিলাসে। অন্যদিকে সন্ত্রাসের পরিচর্যা ও বিস্তার আওয়ামী লীগের চারিত্র্যধর্ম বলে মন্তব্য করেছেন ।

 

তিনি আরো বলেন, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেফতারের পরও হয়রানি ও নির্যাতনের তীব্রতা হ্রাস পায়নি। এখন চলছে প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ওপর হানাদারি আক্রমণ। ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের জানমালের ওপর চলছে সরকারি ক্যাডারদের বেপরোয়া আগ্রাসন। তার গড়া প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনগণের, তারপরও এই প্রতিষ্ঠানের জায়গা-জমি দখল করতে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে দলীয় মাস্তানদের। বিনা অপরাধে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিমনের ওপর আওয়ামী ক্যাডারদের কাপুরুষোচিত শারীরিক আক্রমণের দ্বারা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তার হাত-পা।

রিজভী বলেন, ঢাকার আশুলিয়ায় মির্জানগরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ ভবনে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট, কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাসভবন, ছাত্রী হোস্টেল ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে হামলা একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, এটি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই হয়েছে।

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিতকারিদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। বরং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় একাধিকবার মামলা করতে যাওয়া হলেও মামলা নেয় হয়নি। সরকারের অপশাসনের সমালোচনা করার জন্যই ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে। নির্ভিক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ভয় দেখানোর জন্যই এই বর্বরোচিত হামলা, বিএনপি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত দুস্কৃতিকারিদের অবিলম্বে শাস্তি দাবি করছি।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, সৌজন্যবোধহীন এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর অধীনে কোনো সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কিছুই নয়। শেখ হাসিনা নিজের মত ছাড়া জনমতকে এক পয়সা দাম দেন না। সেজন্য আমরা দেখতে পাচ্ছি-সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে তড়িঘড়ি করে আরপিওতে ইভিএম এর বিধান সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রিজভী বলেন, সারাবিশ্বে যে ইভিএম প্রত্যাখ্যাত, যে ইভিএম-এর বিরুদ্ধে জনসমাজের প্রতিনিধিত্বকারি অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণী-পেশার সংগঠন ও মানুষ সোচ্চার তাদের অমতে ইভিএম সংযুক্ত করে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে তাতে যে সরকার নির্বাচন নিয়ে একটা চূড়ান্ত কারসাজি করবে সে বিষয়টা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। চূড়ান্ত ভোট ডাকাতির জন্যই আরপিও-তে ইভিএম এর বিধান নিয়ে আসা হচ্ছে।

রিজভী আরো বলেন, শেখ হাসিনা কখনোই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে দিবেন না, তার কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি ক্ষমতার মসনদ থেকে ছিটকে পড়বেন। এই ভয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে জালিয়াতির নির্বাচনেই তিনি উৎসাহী। ইভিএম জালিয়াতির নির্বাচনের প্রমানিত যন্ত্র। সেইজন্য এই জালিয়াতির যন্ত্রই শেখ হাসিনার একমাত্র ভরসা। এ কারণেই দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে ভোটারদের ভোটাধিকারের কবর রচিত হবে। গণতন্ত্র হত্যাকারী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই তা হবে স্বেচ্ছায় গণতন্ত্রের মৃত্যু ডেকে আনা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে প্রকৃত নির্বাচনী পরিবেশ। বেগম জিয়ার নেতৃত্বেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে একতরফা করার জন্যই চলছে সরকারের নানা আয়োজন। এমনও কথা শোনা যাচ্ছে-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি ইউনিটের প্রধানকে নাকি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের পক্ষে সমতল করার জন্য। সেজন্য তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের বলেছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরী করে তা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রেরণের জন্য। এটি এক দূরভিসন্ধিমুলক পরিকল্পনার অংশ। গণতন্ত্রকামী মানুষকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি।

সারাদেশে ফের গ্রেফতার নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, টাঙ্গাইলের যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসুচিতে অংশ নেওয়ায় যুবদল নেতা লেহাজ উদ্দিন, রাসেল ভুইয়া, মোঃ সোহেল, নাসির, সোহেল, শাহিন, শাওন, ময়নাল রুবেল, ফরিদ, সাইদুর, রিপন, কামাল, বাবুল এবং সোহেল, ছাত্রদলের তুষার, সজল ও সজিব।

নাটোর সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের মিজানুর রহমান, যুবদলের মোঃ লিটন হোসেন, চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ে বিএনপির মঞ্জুরুল হক বাহার, আব্দুর রহিম বাহার, মহিউদ্দিন, যুবদলের মাঈন উদ্দিন, জাফর আহমেদ, জাতীয়তাবাদী ফোরাম আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুর নবী করিম বাবলু, চট্টগ্রাম উত্তর ছাত্রদলের মাসুম বিল্লাহ, নাজিম, শাওন, বাবুল, চাঁন্দগাও বিএনপি শরীফ উদ্দিন খান, যুবদলের মনোয়ার হোসেন মানিক, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া বিএনপির এসহাক চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিএনপি নেতা কাউসার হাওলাদার, মোঃ মাহফুজ আলম মুক্তি, যুবদলের তৌহিদুল ইসলাম এবং মোঃ মাসুম মিয়া, সিংগাইর উপজেলার হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

খুলনা মহানগরে বিএনপির মোঃ হাফিজুর রহমান, আব্দুল করিম, যুবদলের মোঃ মিলন, মোঃ বাবু, মোঃ ইসমাইল সহ মোট ৫জন বিএনপি নেতা কর্মী আটক করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির আমজাদ হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, হারুন, ইউনুছ, সোহেল, নজরুল ইসলাম, দোলা সহ মোট ১৭ জন নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নরসিংদীর মনোহরদিতে ছাত্রদলের নাদিম বায়েজিদ, সামমীর রহমান টিপু, সাতক্ষীরার কালগঞ্জে বিএনপি নেতা মো: শওকাত আলীর স্ত্রী মোসা: আলেয়া খাতুন, বিএনপি নেতা মো: হাবিবুর রহমানের স্ত্রী সামসুন নাহারকেও গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর হতে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪২৪৫ টি গায়েবী মামলার এজাহারে ৯৮,৮৭৫ জন জ্ঞাত আসামীর সংখ্যা। অজ্ঞাত ২,৯৩,১৩৭ জনদের আসামী করা হয়েছে। অজ্ঞাত ও জ্ঞাত আসামীদের সংখ্যা ৩,৯২,০১২। এখন পর্যন্ত মোট বিএনপি নেতাকর্মীদের গায়েবী মিথ্যা মামলায় ৫৫৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন রিজভী

 

 

 

আরও সংবাদ