Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

কাতার প্রবাসীদের জন্য দারুণ সুখবর

Published:2018-10-29 20:23:21    

বাস ডেস্ক : কাতারে অবস্থানরত বিদেশী শ্রমিকদের ভিসা নিয়ে একটি একটি নতুন আইন পাশ করেছে দেশটির নীতি নির্ধারনী পরিষদ। এই আইনের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি শ্রমিকরা মালিকের অনুমতি ছাড়াই চাইলে দেশ ত্যাগ করতে পারবে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইটারে জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ১৩ নং আইনটি প্রবাসীদের কাতারে অবস্থান ও প্রস্থান সম্পর্কিত আইন যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।

কাতার গত সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করেছিল তারা দেশটির ভিসা প্রক্রিয়া সংশোধন করবে। আগের ভিসা পদ্ধতিতে বিদেশি শ্রমিকদের একজন ‘কাফালা’ বা জামিনদারের মাধ্যমে দেশটিতে অবস্থান করতে হতো। যা অনেকটা অধুনিক যুগের দাসত্বের সামিল বলে মনে করা হয়।

নতুন আইনের ফলে কোন কোম্পনীর পাঁচ শতাংশ কর্মী যারা সবচেয়ে সিনিয়র তার কোন ধরণের পূর্বানুমতি ছাড়াই ছুটি নিতে পারবেন।

এছাড়া প্রবাসীরা যেকোন কারণে দেশত্যাগ করতে চাইলে কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন এবং উক্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সেই অভিযোগর ব্যাপারে ফয়সালা দিতে হবে বলে জানিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাথে তিন বছর মেয়াদী চুক্তি করে কাতার। এর পরই দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক আইন সংশোধন করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। যা কাতারের মতো দেশে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য অনেক বড় ঘোষণা।

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্পন্ন করার জন্য বর্তমানে কাতারে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। যার ফলে দেশটিতে বিদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাপের মুখে কাজ করানো হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে আসছিল।

একটি গবেষণা সংস্থার প্রকাশ করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাতার সরকার কতৃক গত বছরে এক চতুর্থাংশ শ্রমিকদের দেশত্যাগের ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। কাতারে ২০ লাখের মতো বিদেশি শ্রমিক রয়েছে।

 প্রবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেবে কাতার

আলজাজিরা ও ডেইলি সাবাহ; 

 

 

দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করা প্রবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেবে কাতার। প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির জারি করা নতুন আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ১০০ জন বিদেশীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়া হবে। ওই আইনে প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়োগকর্তার অনুমতি বা এক্সিট ভিসা ছাড়াই নিজের দেশে ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কাতারের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন আইন জারি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নতুন আইনে কাতারের নাগরিক এমন মায়ের সন্তান ও ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কাতারে বসবাস করা বিদেশীরা অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া মূল্যবান কর্মদতাও বিবেচনায় নেয়া হবে। দেশটিতে প্রায় ২৭ লাখ বিদেশী বসবাস করে।

স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া বিদেশীরা দেশটির নাগরিকদের মতোই সমান সামাজিক সুরা পাবেন। এই সুবিধার মধ্যে থাকবে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি স্কুলে শিার সুযোগ। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতেও অগ্রাধিকার পাবেন তারা। নতুন আইন অনুযায়ী কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতেও কাজ করার সুযোগ পাবেন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া প্রবাসীরা।

স্থায়ী অধিবাসী হিসেবে অনুমতি পাওয়া প্রবাসীদের এখন কাতারে ব্যবসা শুরু করতে সেদেশের কোনো নাগরিককে আর বাধ্যতামূলকভাবে অংশীদার করতে হবে না। এ ছাড়া নতুন আইন অনুযায়ী নিজেও সম্পত্তি কিনতে পারবেন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া প্রবাসীরা। নতুন আইন কার্যকর হলে স্থায়ী অনুমতি পাওয়া প্রবাসীরা নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই কাতার ত্যাগ ও প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই অনুমতি না পাওয়াদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক থাকবে। কাতারের সেনাবাহিনীতে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করা সুদানের এক নাগরিক আলজাজিরাকে বলেছেন, স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার একটি আবেদনপত্র দেয়া হয়েছে তাকে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’ এর অংশ হিসেবে নতুন এই আইন জারি হয়েছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দশ বছরের মধ্যে স্থিতিশীল ও আধুনিক এক কাতার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

আরও সংবাদ