Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

শ্রীলঙ্কায় চরম উত্তেজনা, ভয়াবহ রক্তবন্যার শঙ্কা

Published:2018-10-30 21:04:51    

বাস ডেস্ক: আরিফ বিল্লাহ:

শ্রীলঙ্কায় সৃষ্ট রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে দেশটিতে রক্তবন্যা বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে পার্লামেন্টে শিগগিরই সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া না হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সোমবার সতর্ক করেছেন তিনি।

দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহের অনুগত সংসদ সদস্যরা রাজধানী কলম্বো দখলে নিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানানোর পর স্পিকারের এই সতর্কবার্তা এল। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমা সিংহেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে; এমন অভিযোগ এনে রাজধানীতে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার কারু জয়সুরিয়া। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শ্রীলঙ্কার এই স্পিকার বলেন, ‘আমরা পার্লামেন্টে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি...যদি এই সঙ্কটকে আমরা রাস্তায় নিয়ে যাই, তাহলে ভয়াবহ রক্তবন্যা শুরু হবে।’

ক্ষমতাচ্যুত এক মন্ত্রীর দেহরক্ষীর গুলিতে একজনের প্রাণহানির ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করছে। এটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের দেশ ও অর্থনীতিকে পিছিয়ে নিয়ে যাবে।

এদিকে, দেহরক্ষীর গুলিতে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সরকারি এক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা অবরোধের হুমকি দেয়ার পর মন্ত্রী অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে সোমবার পুলিশি জিম্মায় নেয়া হয়েছে। তবে এই মন্ত্রী বলেছেন, অফিসে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়। এসময় দেহরক্ষী উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়েন।

ভারত মহাসাগরে অবস্থিতি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা চলতি সপ্তাহে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহেকে ক্ষমতাচ্যুত ও পার্লামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন তিনি। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে তার ক্ষমতার সময়।

প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালার এই সিদ্ধান্তের জেরে দেশটিতে নজিরবিহীন সাংবিধানিক সঙ্কট শুরু হয়। সংসদ সচল করতে দেশীয় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মাইথ্রিপালা।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমা সিংহের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) সদস্য পাতালি চাম্পিকা রানাওয়াক বলেন, সোমবার পার্লামেন্টের ২২৫ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১২৬ জন স্পিকারের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠিতে তারা পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্ট অধিবেশন ডাকার জন্য সোমবার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার ওপর চাপ বেড়েছে। তিনি শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত ও আকস্মিকভাবে পার্লামেন্টে অধিবেশন স্থগিত করার পর দেশটিতে তীব্র সঙ্কট শুরু হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক এই সঙ্কট সহিংসতায় রূপ নিয়েছে এবং এতে একজন প্রাণ হারিয়েছে। খবর এএফপি’র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রোববার শ্রীলঙ্কায় চলমান সাংবিধানিক সঙ্কট নিরসনে আইনপ্রণেতাদের সুযোগ দেয়ার জন্য ‘অবিলম্বে পার্লামেন্ট অধিবেশন ডাকার’ আহ্বান জানিয়েছে।

সিরিসেনা বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। তার এই পদক্ষেপ শ্রীলংকাকে রাজনৈতিক জটিলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিক্রমাসিংহে ও তার দল সিরিসেনা কর্তৃক তাকে বরখাস্তের বিষয়টি বেআইনি ঘোষণা করতে আদালতের প্রতি আবেদন জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ও আঞ্চলিক শক্তি ভারত পার্লামেন্ট অধিবেশনের ডাক দেয়ার জন্য সিরিসেনার ওপর চাপ দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

বিক্রমাসিংহে (৬৯) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকার করেছেন। তার সমর্থকরা বাসভবনে তাকে চারপাশ থেকে বেরিক্যাড দিয়ে রেখেছে এবং বাইরে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীসহ ১ হাজারের বেশি সমর্থক সমাবেশ করছে। এরা তার পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে বেআইনীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিনি পার্লামেন্টের একটি জরুরি অধিবেশন চান। যাতে করে তিনি পার্লামেন্টে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন।

পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া রোববার বিক্রমেসিংহের বরখাস্তকে অবৈধ বলার পর তিনি তার অবস্থান ধরে রাখতে জোর পান।

পার্লামেন্টে অপর প্রার্থী নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ না করা পর্যন্ত স্পিকার প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিক্রমাসিংহের সকল সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানান।

এদিকে রাজধানী কলম্বোতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সকল পুলিশের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিক্রমাসিংহের সমর্থক কয়েকজন আইনপ্রণেতা অবিলম্বে পার্লামেন্ট অধিবেশন ডাকা না হলে রাজপথে সহিংসতার হুমকি দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জনতা বিক্রমাসিংহের সমর্থক জ্বালানীমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেটার অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে আটক করতে গেলে তার একজন দেহরক্ষী জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে একজন নিহত হয়।

এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা রাজাবারোথিয়াম সাম্পানথান অবিলম্বে পার্লামেন্ট অধিবেশন ডাকতে স্পিকার জয়সুরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

রনিলের প্রতি স্পিকারের সমর্থন ক্ষমতা-বাসভবন ছাড়তে অস্বীকার

এনডিটিভি

 

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করলেও তিনি গতকাল রোববার প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি বাসভবনে অবস্থান করেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তিনি ‘ক্রাইসিস মিটিংয়ে’ বসেন। এ সময় তার বাসভবনের সামনে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়।

 

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার বিরুদ্ধে দেয়া প্রেসিডেন্টের আদেশ অবৈধ এবং তিনি পার্লামেন্টের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানাচ্ছেন। বিক্রমাসিংহে বলেন, পার্লামেন্টে তিনি প্রমাণ করবেন যে, তার পক্ষে এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে। রনিল বিক্রমাসিংহের দাবি উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রায় তিন সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন। এ অবস্থাকে দেশটির কোনো কোনো পত্রিকা ‘সংবিধানিক ক্যু’ বলে মন্তব্য করেছে। রাজাপাকসের সাথে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে ভারত।

 

এদিকে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার বলেছেন, মাহিন্দ রাজাপাকসে নন, রনিল বিক্রমসিংহেই তার দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। পার্লামেন্ট বাতিল করলে রাজনৈতিক সঙ্কট আরো তীব্র হবে মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকেও সতর্ক করেছেন তিনি। সিরিসেনাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বলেন, ‘আপনার উচিত গণতান্ত্রিক এবং যুক্তিসংগত আচরণ করা।’

 

সূত্র : আলজাজিরা।

 

আরও সংবাদ