Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

ইউএনএইচসিআরকে রোহিঙ্গাদের তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ

Published:2018-11-02 23:57:11    

বিশেষ প্রতিবেদক:

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় মিয়ানমারের রাখাইনে যে রোহিঙ্গাদের পাঠানো হবে, তার তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজনকে স্বেচ্ছায় পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে ফেরার বিষয়ে সচেতন করার বিষয়ে ইউএনএইচসিআর যাতে কাজ শুরু করতে পারে, সে জন্য ওই তালিকা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রথম দলকে রাখাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একতরফাভাবে নিয়েছে।

জাতিসংঘের এ অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক আজ শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, জাতিসংঘের এ অভিযোগ ঠিক নয়। কারণ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যেসব রোহিঙ্গাকে পাঠানোর বিষয়ে একমত হবে, তাদের তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে দেওয়ার কথা। এ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সে অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা কয়েক দিন আগে ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া হয়েছে, যাতে রাখাইনের ওই সব লোকজনকে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটিতে যাওয়ার বিষয়ে সংস্থাটি কাজ করতে পারে। তিনি জানান, প্রথম দফায় যে ৪৮৫টি রোহিঙ্গা পরিবারকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, ওই তালিকাটি ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রথম ধাপে ৪৮৫টি পরিবারের ২ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় জেডব্লিউজির বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নভেম্বরের মাঝামাঝিতে রাখাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে সোমবার ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোসহ ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক। ওই আলোচনার পর জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসনের জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে সরকার চিঠি দিয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে কর্মরত ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিরাস আল-খতিব প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ সরকার আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

ফিরাস আল-খতিব জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া আর স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের আদি নিবাসে ফেরাটা নিশ্চিত করা, যাতে প্রত্যাবাসন টেকসই হয়। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় কি না, সে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ সরকার আমাদের কাজ শুরু করতে বলেছে।

এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কক্সবাজারের শিবিরে গিয়ে সরকারের কর্মকর্তারা কথা বলতে শুরু করেছেন। ঢাকায় গত মঙ্গলবার জেডব্লিউজির বৈঠকের অন্তত মাসখানেক আগে থেকেই সরকারি কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছেন। মূলত বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে মিয়ানমার যাদের নিতে রাজি হয়েছে, তাদের সঙ্গেই কথাবার্তা হয়েছে। এ ধরনের আলোচনায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ ফেরার ব্যাপারে নিজেদের অনীহার কথা তুলে ধরে। পরে যখন তাদের রাখাইনের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, নিজেদের পূর্বপুরুষের জায়গায় ফিরে যাওয়াটা রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি। আর রাখাইনে ফিরে যাওয়ার পর নাগরিকত্বসহ রোহিঙ্গাদের অন্যান্য মৌলিক অধিকারের জন্যও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশের। এরপর অধিকাংশ রোহিঙ্গাই ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

 

আরও সংবাদ