Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat June 06 2020 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

‘সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিচয় দিতে লজ্জা হয়’

Published:2020-05-05 17:04:24    

মোঃ রায়হান আলী (বগুড়া): ‘কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি করেন? উত্তরে বলি আমি কলেজে চাকুরী করি। কিন্তু সরকারি কলেজ বলতে লজ্জা লাগে। কারন সরকারি কলেজের একজন শিক্ষকের গায়ে রংচটা জামা, পায়ে ছেড়া জুতা থাকার কথা নয়। তারা তো বুঝবেনা আমরা সরকারি কলেজের বেসরকারি নন-এমপিও অনার্স শিক্ষক। যারা কোন বেতন পাইনা, কবে পাবো তাও জানি না।’

মঙ্গলবার বাংলাসংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিনিধিকে এভাবেই কথাগুলি বলেন লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার সদ্য জাতীয়করণ হওয়া সরকারি কলেজের অনার্স শিক্ষক মোঃ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন।

২০১৬ সাল হতে সরকারি কলেজ বিহীন উপজেলাগুলোতে একটি করে সরকারি কলেজ করার লক্ষে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ২০১৮সালের ১২ই আগস্ট প্রথম ধাপে ২৭১টি ২৭ আগস্ট ৫টি ও ১২ই সেপ্টেম্বর ১৪টি সহ মোট ৩০৩টি কলেজকে সরকারি ঘোষণা করা হয়। জিও জারির পর হতে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষকদের অভ্যন্তরিন বেতন সহ সকল ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে শুধু এমপিও চালু আছে।

অন্যদিকে জিও জারির পূর্বে অনার্স ননএমপিও শিক্ষকরা যে সম্মানী/বেতন পেত সরকারি করনের প্রজ্ঞাপণের পর তাও বন্ধ করে দেয় এসব প্রতিষ্ঠানের অধ্যরক্ষরা। কিছু কলেজ সিমিত আকারে চালু রাখলেও যাদিয়ে তাদের জীবন-যাপন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে তাদের নুন আনতে পানতা ফুরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারি করোনা যেন বেতন বিহীন এসব শিক্ষদের মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী পুঠিয়া বানেশ্বর সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, বেতন না থাকায় আমরা খুব কষ্টে আছি। এমপিও শিক্ষকরা যেখানে উৎসব ভাতা পাচ্ছেন আর আমারা তাদেরই একজন কলিগ হয়েও অসহায় জিবন-যাপন করছি। তিনি বলেন তাই এসব শিক্ষককে বাঁচাতে অতিদ্রুত মন্ত্রণালয় হতে তাদের পরিবারের ভরণপোষণের মতনির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানীর বিষয়ে একটি নিদর্শনা দেওয়া উচিত যেন কলেজ হতে সম্মানীর বিষয়ে হয়রানি হতে না হয়। দয়া করে সদ্য সরকারিকৃত কলেজের শিক্ষক সমাজকে বাঁচান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

রাজশাহী তানোর সদ্য আব্দুল করিম সরকারি কলেজের এমপিও শিক্ষক মোঃ আব্দুল কারিম বলেন, আমাদের কলেজ অংশের সুবিধাদি বন্ধ হয়ে গেছে যা চালুর দাবি যানাচ্ছি। নিয়োগের শর্তানুসারে নন-এমপিও শিক্ষকদের কলেজফান্ড থেকে শত ভাগ বেতন ভাতা প্রদানের কথা। কলেজে পর্যাপ্ত ফান্ড থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা মানছে না। তাদের দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।

বগুড়া, শিবগঞ্জ সদ্য সরকারি এম এইচ কলেজের প্রাণিবিদ্য বিভাগের নন-এমপিও অনার্স শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, সরকারিকৃত কলেজের নন-এমপিও ও অনার্স শিক্ষকগণের জন্যে মানবতা নাই, মানবতা লজ্জা পেয়ে পালিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ঘোষণাকৃত কলেজগুলো আজ অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আপনি মানবতার মা, আপনার একটি নির্বাহী আদেশ ও নিদের্শনা জাতীয়করনকৃত কলেজসমূহের অনার্স ও নন-এমপিও শিক্ষকগণকে লজ্জিত হওয়ার হাত থেকে বাচাঁতে পারে। আমরা দেশের সর্বোচ্চ ক্লাসের শিক্ষক হয়ে ত্রানের লাইনে দাড়াঁতে পারি না। বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও শিশু সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জিবন-যাপন করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, মাননীয় সচিব মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন জাতীয়করনকৃত অনার্স শিক্ষকগণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক অফিস আদেশ জারী করে অভাব ও লজ্জার হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক অনার্স শিক্ষকের বেতন বিষয়ে আহাজারি দেখা যায়। কুষ্টিয়া খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ জাহিদ হাসান বলেন জিও জারির পর থেকে আমরা কোন বেতন পাচ্ছি না জিবন কিভাবে চলে। বড়াই গ্রাম সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ বুলবুল আহমেদ বলেন, আমরা নন-এমপিও শিক্ষকরা কলেজ হতে কোন বেতন/সম্মানী পাইনা।

রংপুর পীরগঞ্জ সরকারি শাহ আব্দুর রউফ কলেজের প্রভাষক মোঃ হাসান কাজি বলেন আমি বিএম শাখার নন-এমপিও প্রথম পদে থেকেও জিওজারির কারনে এমপিও বন্ধ কোন বেতন পাচ্ছিনা চলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রংপুর গঁঙ্গাচরা সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ আব্দুল হাকীম বলেন, আত্তীকরণে দেরি হলে আমাদেরকে এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হোক যাতে কলেজে ‘ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা’ হয়ে থাকতে না হয়, কলেজে হেয় প্রতিপন্ন হতে না হয়, অধ্যেক্ষ স্যারদের কাছে ভিক্ষার পাত্র হতে না হয়। ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ মমিনুর রহমান বলেনন নন-এমপিও শিক্ষকদের মরতে করোনা লাগবেনা এরা এমনিতেই মরবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ-বাসকশিপ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহাব উদ্দিন বলেন- ১৭মাসে ৪৪টি কলেজের যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হলে বাকি কলেজের কাজ শেষ করতে কয়েক বছর লেগে যাবে।

ততে শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের উদাসীনতা ও অবহেলাই প্রকাশ পেয়েছে। নতুন এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তালিকায় এসেই এমপিও পেয়ে গেলেন, আর আমরা সেই ২০১৬সাল থেকেই সরকারিকরনের তকমা গায়ে নিয়ে এমপিও তো দূরের কথা কলেজ অংশের বেতন-ভাতাই এখনো হাতে পেলাম না।

তিনি বলেন- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বাসকশিপকে সম্প্রতি মুঠোফোনে দেয়া আপনার প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান দেশের সদ্য সরকারিকৃত কলেজ সমূহের চির বঞ্চিত নন-এমপিও শিক্ষকেরা। ঈদের আগেই কলেজ অংশের বেতন ভাতা পেতে তারা অধীর আগ্রহে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।

বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ-বাসকশিপ এর সাধারণ সম্পাদক ফারুক মৃধা বলেন, পদসৃজন ও অ্যাডহক নিয়োগ আটকে রেখেছে শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কতিপয় কর্মকর্তা। তারা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে কৌশলে আটকে রেখেছেন বছরের পর বছর। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন সদ্য সরকারিকৃত কলেজের নন-এমপিও শিক্ষকরা।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আমাদের কথা হয়েছে তিনি বলেছেন ঈদের আগেই আপনাদের বিষয়ে সুখবর পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। তাই শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ দ্রুত এবিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হোক। প্রয়োজন হলে কলেজগুলোর ফান্ড হতে টাকা মন্ত্রণালয়ে নিয়ে সেখান থেকে হলেও নন-এমপিওদের বেতন চালু করা সহ এমপিওদের পূর্বের সুবিধাদি চালু করা হোক। তাছাড়া নন-এমপিও শিক্ষকরা করোনার এই মহামারীর সময়ে না খেয়ে মারা যাবে। 

সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ কলেজের নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। করোনার ক্রান্তি কালে জনজীবন স্থবির। নন-এমপিও শিক্ষকরা বিপাকে পড়েছেন। তাই তাদের বেতন/সম্মানী বিষয়ে দ্রুত একটি নিদের্শনা জারির দাবি করেন তিনি।

আরএ/এসএস

 

 

আরও সংবাদ