Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon November 23 2020 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারকাজ ৭ কার্যদিবসে সম্পন্ন, আসামির আমৃত্যু কারাদন্ড

Published:2020-10-20 12:55:33    
জেলায় সাত কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করার পর আজ চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২-এর বিচারক মো. নূরে আলম।
রায়ে জেলার মোংলা উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় সাতবছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আসামি আব্দুল মান্নান সরদারকে (৫০) আমৃত্যু কারাদন্ড এবং বিশহাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আজ সোমবার দুপুর ১২ টায় জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
একটি ফৌজদারি মামলায় এতো কম সময়ে বিচার কাজ শেষ করার নজির বাংলাদেশে এই প্রথম। গত ১১ অক্টোবর এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ওইদিনই আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরদিন ১২ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করেন। সাত কার্যদিবসে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মাকোড়ডোন গ্রামের ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় পিতৃহারা সাতবছর বয়সী একটি শিশু তার মামার আশ্রয়ে মানুষ হচ্ছিল। গত ৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার শিশুটিকে বিস্কুট খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে ওইদিন রাতেই শিশুটির মামা মোংলা থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ^জিত মুখার্জ্জী তার তদন্তে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা তদন্ত শেষে আসামি আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটি বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে উঠলে বিচারক ওইদিনই (১১ অক্টোবর) মামলাটি আমলে নিয়ে পরদিন ১২ অক্টোবর চার্জ গঠন করেন। আদালত ১৩ অক্টোবর বাদীপক্ষের মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরদিন ১৪ অক্টোবর মামলার সংশ্লিষ্ট সাক্ষী চিকিৎসক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আদালত ১৫ অক্টোবর আসামির আতœপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহন করেন। গতকাল রোববার বাদী-বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আজ সোমবার রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারি কৌসুলি (এপিপি) রনজিৎ কুমার মন্ডল জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুস্পষ্ট বলা আছে কোন ধর্ষণের ঘটনার অভিযুক্ত তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়লে সাতকার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এই শিশু ধর্ষণের মামলাটি তারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, মামলাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে। ঘটনার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা, সাক্ষী হাজির এবং অভিযোগপত্র দাখিল যথাসময়ে করেছে পুলিশ। আইন মেনে ২২ ধারা ও ১৬১ ধারায় ধর্ষিত শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিচারকাজ সম্পন্ন করতে সময়ক্ষেপণ হয়নি।
এপিপি জানান, এতো কমসময়ে দেশের কোন আদালতে এরআগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোন মামলার রায় ঘোষণা হয়নি। এই রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে মানুষের মধ্যে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে যে ধারণা ছিল তা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করেন তিনি।
 

আরও সংবাদ