Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed April 21 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

চালের দামে সুখবর আসছে শিগগিরই

Published:2020-12-21 07:18:32    
শাহাদাত স্বপন:
দুই মাস ধরেই চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সব ধরনের চালে কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। বিগত যে কোনো সময়ে মোটা চালের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এবার সমানতালে বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। ফলে নিম্নআয়ের মানুষকে পড়তে হয়েছে বিপাকে। একদিকে করোনা-পরবর্তী হন্যে হয়ে কাজের সন্ধান করতে হচ্ছে। অপরদিকে বাড়ছে জীবন পরিচালনায় অত্যাবশ্যকীয় খরচের খাতগুলো সামলে রাখার চাপ। তাছাড়া নিম্নধ্যম আয়ের মানুষের সন্তানদের শিক্ষা খরচ মিটিয়ে বাড়তি দামে চালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ক্রয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
 
বিষয়টি শুরু থেকে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে প্রচার হলেও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখীই রয়ে যাচ্ছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে। দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের চেয়ে তারা বেশি দায়ী করছেন মিল মালিকদের। মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রেই মিল মালিক চাল সরবরাহ করতে চান না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি লাভের আশায় বসে থাকেন। এমন প্রেক্ষাপটে চালের বাজারে মনিটরিং বা অভিযান- কোনোটাই অনেক ক্ষেত্রে কাজে আসে না। তবে মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বাড়ায় চালের দাম বাড়ছে। আর দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির পরামর্শ দিচ্ছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এখন আমন মৌসুমে মিলগুলো ধানের দাম বৃদ্ধির কথা বলে চালের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন। কিছু মিল সঠিকভাবে চাল সরবরাহ না করে পাইকারদের জানাচ্ছেন তারা ধান পাচ্ছেন না। এসব কারণে বাজারে চালের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। চালের এই দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উচিত শিগগিরই মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে চাল আমদানির সুযোগ দেওয়া। দাম নিয়ন্ত্রণে এসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
 
মিল মালিক আব্দুর রহমান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, মিল মালিকদের বিরুদ্ধে চাল আটকে রেখে দাম বৃদ্ধির যে অভিযোগ করা হচ্ছে এটা সঠিক নয়। মিল পরিচালনা করাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিল মালিকদের মধ্যে এত বেশি টাকার মালিক খুব কম, যারা অনেক টাকার চাল-ধান আটকে রেখে বেশি দাম পাওয়ার আশায় টাকা বন্ধ করে রাখবে। যারা দোকান মালিক অথবা পাইকারি ব্যবসায়ী, তারা আমাদের টাকা আটকে রাখে। তাদের কারও কাছে আমাদের ৪০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বকেয়া পড়ে আছে। ফলে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া সাধারণত উত্তরবঙ্গে বেশি চাল উৎপাদন হয়। দেশের এসব প্রান্তিক পর্যায়ে থেকে ধান আনতে খরচের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এজন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে চালের দাম বেশি পড়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, কাজের বিনিময়ে খাদ্য-কাবিখা প্রকল্পে আগে কাজের বিনিময়ে চাল বিতরণ করা হতো। বর্তমানে এই প্রকল্প কাজের বিনিময়ে টাকা কাবিটা অর্থাৎ টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের গুদামে অনেক চাল মজুদ রয়ে গেছে। এই চাল কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছলে চালের দাম এতটা বাড়ত না।
 
তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ ও সরবরাহ অণুবিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত সচিব মো. তাহমিদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি আমরা চালের বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিশেষ করে শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও বেশকিছু দফতরের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে সভা করেছি। চালের দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে সব ধরনের উদ্যোগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে চাল আমদানি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে চাল আমদানি করা সম্ভব হয়, এজন্য আমরা ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি চাল আমদানি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম কমে যাবে।
 
দাম কমাতে চাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ জাফর উদ্দীন বলেন, শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি। এক্ষেত্রে বিষয়টি যেহেতু খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখে সেক্ষেত্রে তারা যদি কোনো প্রস্তাব পাঠায় আমরা তখন ভেবে দেখতে পারব। চাল আমদানির ওপর ডিউটি কমানোর কোনো প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও ভেবে দেখা হবে। তবে এ ধরনের প্রস্তাব আসলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
 
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৬ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫৪ থেকে ৬০ টাকা। এখন বাজারে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে মাঝারি মানের চাল, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা এবং দুই সপ্তাহ আগে ৪৮ থেকে ৫০ ছিল। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা ছিল, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত এক সপ্তাহে মিনিকেট ও নাজিরশাইল বা সরু চালের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর মোটা বা স্বর্ণা ও চায়না ইরি চালের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আরও সংবাদ