Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun January 24 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

পিকে হালদারসহ পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

Published:2020-12-31 00:29:06    
অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পি কে হালদার) যেকোনো পলাতক, দন্ডিত, বিচারাধীন মামলার আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একাত্তরে সোমবার ২৮ ডিসেম্বর প্রচারিত পি কে হালদারের সাক্ষাৎকার এবং মধ্যরাতে প্রচারিত টকশোর ভিডিও ক্লিপ তলব করেছেন উচ্চ আদালত। ১০ জানুয়ারির মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার বরাবরে জমা দিতে টিভি চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দুদকের আনা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত একটি ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বাসস’কে জানান, পি কে হালদারসহ যে কোনো পলাতক, দন্ডিত ও বিচারাধীন মামলার আসামির বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার-সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ধরনের প্রচার মাধ্যমের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডেরও (আইএলএফএসএল) এমডি ছিলেন।
আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলা করে।
এক পর্যায়ে বিদেশে থাকা পি কে হালদার আইএলএফএসএলের বর্তমান এমডির কাছে তার দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন। আদালত তাতে অনুমতি দিলেও পি কে হালদার না ফেরায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ইতোমধ্যে পি কে হালদারের সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
সোমবার রাতে একাত্তর টিভিতে পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তার যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবার ২৯ ডিসেম্বর আদালতের নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি আদালতে বলেন, ‘সোমবার রাত ১০টায় একাত্তর টিভিতে পলাতক পি কে হালদারের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়েছে। এরপর আবার টক শোতেও ওই আসামিকে লাইভে এনেছে। আমাকেও সংযুক্ত করেছিল। আমি তার (পি কে হালদার) কথা শুনে লাইভ থেকে বেরিয়ে আসি। আমি তো কোনো পলাতক আসামির সঙ্গে টক-শো করতে পারি না।
পি কে হালদার সংযুক্ত থাকবেন এটি অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আমাকে জানাননি।’
খুরশীদ আলম বলেন, প্রথম কথা হল, পি কে হালদার পলাতক। দ্বিতীয় কথা হল তার বিষয়ে এই আদালতে একটা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা বিচারাধীন। খতিয়ে দেখা প্রয়োজন পি কে হালদারের প্রচারিত সাক্ষাৎকারে কী আছে। এই আদালত সেই ভিডিও, সাক্ষাৎকার তলব করে দেখতে পারেন। এরপর প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন। দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে আদালত গতকাল তাকে লিখিত আবেদন করতে বললে আজ বুধবার সেই আবেদন জমা দেয় দুদক।
আবেদনে সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যে কোনো প্রচার মাধ্যমে পলাতক পি কে হালদারের বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার ও সম্প্রচার বন্ধে তথ্য সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। সেই সঙ্গে পি কে হালদারসহ যে কোনো পলাতক আসামির বক্তব্য প্রচার, বিতরণ ও সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশনা চায় দুদক। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ আদেশ দেয় হাইকোর্ট।
গত ১৮ নভেম্বর ‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শীর্ষক গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে তাকে বিদেশ থেকে ফেরাতে এবং গ্রেফতার করতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে ১৯ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশ অনুসারে দুদক গত ২ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক।
পিকে হালদারের গ্রেফতারি পরোয়ানা ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে আগামী ৩ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিনও ধার্য রয়েছে।
গত ২০ ডিসেম্বর দুদক আইনজীবী জানিয়েছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরও সংবাদ