Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Thu November 22 2018 ,

  • Advertisement

ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবধুর নগ্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ

Published:2013-04-22 08:20:30    

#ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা পুলিশের
#অসহায় নারী বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধুকে অপহরন, অতঃপর ধর্ষন এবং ধর্ষনের ভিডিও ও স্থির চিত্র বিভিন্ন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটে প্রচার করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে ।

ওই গৃহবধু থানায় মামলা করার পরেও পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষককে বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতিত গৃহবধুটিকে ঘটনার আপোষ মিমাংসা করতে পুলিশসহ স্থানীয় উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার, নগ্ন ছবি ও ভিডিও উদ্ধারে পুলিশের গাফিলাতিসহ ঘটনার সহিত জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে আজ সোমবার ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের শরনাপন্ন হয়েছেন ওই গৃহবধু।

ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত আজ ওই মামলায় ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে সংশ্লিষ্ট নারীটির জবানবন্দীর ব্যবস্থাকরণসহ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেনুয়া বাজার নামক স্থানে একটি গোডাউন ঘরে ওই এলাকার এক গৃহবধুকে অপহরন করে নিয়ে আসে শফিকুল ইসলাম ও একরামুল নামে দুই বখাটে যুবক। গৃহবধুটির হাত, পা বেধে, শরীরে আগুনের ছেকা দেয় ওই বখাটেরা। গৃহবধুটিকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষন করে এবং নগ্ন ছবি ও নগ্ন ভিডিও ধারন করে ওই বখাটেরা। ছাড়া পেয়ে ওই গৃহবধুর স্বামীসহ পরিবারের লোকজন বিচার চাইতে থানায় যেতে চায়। ওই বখাটে যুবকরাসহ স্থানীয় প্রভাবশালী মহল তাদের থানায় যেতেও বাধা প্রদান করে।
পরে ৬ ফেব্রুয়ারি গৃহবধুটি পীরগঞ্জ থানায় ধর্ষনসহ তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলাটিকে রেকর্ডভুক্ত না করে আপোষ মীমাংসার জন্য চাপ দেয় ওই গৃহবধু আর তার পরিবারকে। গৃহবধু ও তার স্বামী অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে অনড় থাকলে ঘটনার প্রায় দেড় মাস পরে থানা মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেন।

নগ্ন ছবি ও ভিডিও চিত্র মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ ইন্টারনেটে প্রকাশ হওয়ায় লোকলজ্জায় ও পুলিশের অসহযোগিতার কারনে কয়েকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন ওই গৃহবধু।

এ ঘটনায় গৃহবধুটির স্বামী আজ কাঁদতে কাঁদতে অনেক উদারতার পরিচয় দিয়ে বলেন, “ধর্ষন ঘটনায় আমার স্ত্রীর কোন দোষ নাই, আমি স্বামী হয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমিও অনেক কষ্ট করেই সব সহ্য করছি, পুলিশকে এসব নগ্ন ছবি ও ভিডিও এর কপি দিয়েছি। পুলিশ এসব উদ্ধারতো করেইনি, উল্টো এ ঘটনা আপোষের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু আমি ও আমার স্ত্রী অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে অনড় থাকায় এজাহার করার ৫২ দিন পরে মামলা রেকর্ড করেছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার, ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করাসহ স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ তো করেইনি, উল্টো এখনো হুমকি দিচ্ছে আপোষ না করলে উল্লেখিত আসামীদের বাদ দিয়েই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”

পুলিশের এমন আচরনের প্রতিবাদ করে ন্যায্য বিচার চেয়ে ও প্রচারিত নগ্ন ছবি ও ভিডিও উদ্ধারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য আজ ওই দম্পত্তি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন।

আদালত পুলিশকে কারন দর্শানোর নোটিশসহ ঘটনার শিকার নারীটির জবানবন্দী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জজকোর্টের সিনিয়র এডভোকেট এন্তাজুল হক বলেন, এতবড় চাঞ্চল্যকর একটি বিষয়ে পুলিশের এমন ভূমিকা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা না করায় আলামত নষ্ট করার অপরাধ করেছে। অপরদিকে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে এবং সংশ্লিষ্ট নগ্ন ছবি ও ভিডিও উদ্ধার না করেও শাস্তি পাবার মতই অপরাধ করেছে পুলিশ। নারীর সম্ভ্রমকে অবজ্ঞা করার অপরাধে দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশেরও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন এ আইনজীবি।

এদিকে সেনুয়া গ্রামে আজকে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ রেল লাইনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সেনুয়া বাজার। ওই বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি ঘরকে গোডাউন হিসেবে ব্যাবহার করেন শফিকুল ইসলাম ও একরামুল। রাত নামতেই ওই ঘরটিতে বসে মাদক সেবন আর জুয়ার আড্ডা।
এলাকার লোকজন ওই আড্ডার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও পুলিশ তার ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান, সেনুয়া বাজারের ব্যবসায়ি লোকমান আলী, ফরিদ উদ্দীন, নবাব আলীসহ আরো লোকজন এবং ভোমরাদহ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কহিনুর বেগম।

তারা আরো জানান, ধর্ষনের ঘটনার পরপরই তারা জেনেছেন ওই গৃহবধুকে শুধু ধর্ষনই নয়, গৃহবধুটির নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারন করে মোবাইল ফোনসহ ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচিত। তারা অপরাধীদের শাস্তির দাবি করেন।

এ ব্যাপারে ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হাসান কবির আপোষের জন্য চাপ প্রয়োগ, মামলা দেরিতে রেকর্ড করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করেই মামলা অভিযোগপত্র দাখিল করবো।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানার অফিসারইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, মামলা বাদী ও ঘটনার শিকার ওই গৃহবধু ডাক্তারী পরীক্ষা করোনোর জন্য রাজী না থাকায় ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়নি।

এদিকে অফিসার ইন্চার্জের এমন কথা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে এ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বলেন, ধর্ষনের শিকার কেউ ডাক্তারী পরীক্ষা করতে না চাইলে ডাক্তারের কাছেই একটি ফরম রয়েছে-সেখানে স্বাক্ষর করে ধর্ষনের শিকার কেউ ডাক্তারী পরীক্ষার বিষয়ে মতামত দিবেন। ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই মামলা রেকর্ড করে ডাক্তারী পরীক্ষা করাতে হবে। এরকম কেউ যদি ডাক্তারের কাছে যেতে না চায় প্রয়োজনে তাকে গ্রেপ্তার করে হলেও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নিয়ে যেতে হবে। এ মামলাটিতে ধর্ষকরা যতটুকু অপরাধী পুলিশের অপরাধও কম নয়।

আদালতে বিচার চাইতে আসা গৃহবধুটি আচলে মুখ লুকিয়ে একনাগারে শুধুই কাঁদছিলেন। আদালতে বিচার চাইতে আসা আশপাশের কয়েকজন নারী যেন ব্যস্ত ওই নারীর মুখ যেন দেখা না যায়, এজন্য মুখ ঢেকে রাখতে। তাদের দাবি একটাই-যারা এ নারীর সম্ভ্রম এমন করে বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের শাস্তিসহ ওই অপরাধীদের সহযোগিতাকারী পুলিশেরও বিচার করতে হবে।

অপরাধের সাথে জড়িতদের সাথে কথা বলতে সেনুয়া বাজারে দক্ষিন পাশে  অভিযুক্ত শফিকুল ও একরামুলের বাড়িতে গেলে ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলেননি।
 
 

বাংলাসংবাদ২৪/রাফিক সরকার/একে কাব্য

আরও সংবাদ