Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun July 22 2018 ,

দুদকের অনুসন্ধানে রানা শত কোটি টাকার মালিক

Published:2013-05-01 19:21:17    

ঢাকা: সাভারে ধসে যাওয়া রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানার শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রদত্ত আয়কর নথিতে মাসিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৯ হাজার ১৬৭ টাকা। অর্থ্যাৎ বছরে আয়ের পরিমাণ মাত্র সাড়ে ৯ লাখ টাকা, যার বিপরীতে ২০১১-১২ কর বর্ষে সোহেল রানা কর দিয়েছেন মাত্র ৬৭ হাজার টাকা। যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে শত শত কোটি টাকার সমপদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার পরিচালক উইং কমান্ডার তাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম সাভারে সরজমিন রানার সম্পদ পরিদর্শন করে বিপুল পরিমাণ বৈধ বা অবৈধ সমপদের খোঁজ পায়।

দুদকের তদন্ত টিম জানায়, সাভার সদরে সোহেল রানার নামে ১০তলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন রানা টাওয়ার, ৬ তলা আবাসিক ভবন, সিঙ্গাইরের জয়মণ্টপে দোতলা বাড়ি এবং সাভার সদরে সুমি টাওয়ার নামে একটি আবাসিক ভবনের সন্ধানও মিলেছে, যা তার বোনের নামে রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে ২টি ব্রিক ফিল্ড, রানা অয়েল মিল, জমি ও একাধিক দামি গাড়ি।

সাভারের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তৌহিদ মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত রানার যমুনা ব্যাংক রাজধানীর দিলকুশা শাখা, সাভার সদরে এঙ্মি, ন্যাশনাল ও ডাচবাংলা ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা গচ্ছিত আছে বলে তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রানার বিদেশি কোনো ব্যাংকে তার নামে হিসাব আছে কিনা বা তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন কিনা তা খতিবে দেখা হবে। তবে সকল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই শেষে সমপদের প্রকৃত হিসাব সমপর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা বলেও সূত্র জানায়।

একই সঙ্গে দুদক টিম রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম, ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে অনুসন্ধান শেষে আগামী সপ্তাহের মধ্যে রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ সমপর্কে প্রাথমিক প্রতিবেদন পেশ করার কথা রয়েছে।

টিমের অন্য দুজন সদস্য হলেন- উপ-পরিচালক মফিদুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম।

এদিকে সোহেল রানার কর ফাঁকির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এনবিআর গত ২৯ এপ্রিল কর বিভাগের পক্ষ থেকে আয়কর নথি তলব করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কর অঞ্চল-১২ এর কর্মকর্তারা প্রাথমিক হিসাব করে কর বিভাগে পাঠান।

এ হিসাবে বছরে আয়ের পরিমাণ সাড়ে ৯ লাখ টাকা। এ আয়ের বিপরীতে ২০১১-১২ কর বর্ষে সোহেল রানা কর দিয়েছেন মাত্র ৬৭ হাজার ১০৬ টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়, সোহেল রানা বছরের পর বছর ধরে আয়ের তথ্য গোপন করেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, ৯ তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ও রানা টাওয়ার থেকে যেখানে বছরে ২ কোটি টাকার বেশি ভাড়া আসে সেখানে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক রানা মাসিক আয় ১ লাখ টাকার কম। যা প্রকৃত পক্ষে অবাস্তব। তাই এনবিআর তার সম্ভাব্য কর ফাঁকির বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবে।

এ প্রসঙ্গে কর নীতি বিভাগের সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, আমরা  খোঁজখবর নেয়া শুরু করছি। রানার কর সংক্রান্ত বিষয়ের তদন্ত কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত, রাজউকের অনুমোদন না নিলেও ২০০৭ সালে স্থানীয় পৌর মেয়রের কাছ থেকে ৪ তলা করার অনুমতি নিয়ে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজার নির্মাণ শুরু হয়।। তারপর সরকারি দলের নেতা হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ৮ তলা নির্মাণ করেন। আরো এক তলার কাজ চলছিল। ২০০৭ সালে এর আগে জায়গাটি পরিত্যক্ত ছিল। পেছনে ছিল জলাশয়। ভবন নির্মাণের জন্য এগুলো দখল করে বালু ফেলে ভরাট করা হয়।

এ ছাড়া সাভার বাজার রোডে সোহেল রানার রয়েছে ৮ তলা ভবন ‘রানা টাওয়ার’। নির্মাণাধীন ভবনটিতে পিলারে ফাটল দেখা দিলে গত বৃহস্পতিবার ভবনটি বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। রানা টাওয়ারের পাশে রয়েছে তার আরো একটি ৬ তলা বাসভবন। ধামরাইয়ের কালামপুরে রানার পরিবারের একটি ইটভাটা রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের আগে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন বলেও জানা গেছে।

বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করায় ভবন মালিক রানার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা করেছে রাজউক। যদিও এতোদিন তারা চোখ থাকিতে অন্ধের ভূমিকায় ছিলেন।

গত ২৪ এপ্রিল ভবন ধসের পর সোহেল রানা আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২৮ এপ্রিল র‌্যাব সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়া পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে পৃথক দুটি মামলায় ১৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।

এদিকে রানার পিতা এক সময়ের তেল ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকও ঢাকার মালিবাগ থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। সোহেল রানার বাড়ি সাভার এলাকার বাজার রোডে।


বাংলাসংবাদ২৪/এনডি/বিএইচ