Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sat October 23 2021 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

যমুনা চরের শিক্ষা বঞ্চিত শিশুরা মাঠে-ঘাটে কাজ করছে

Published:2013-05-01 19:36:09    

জামালপুর প্রতিনিধি : জন্ম দরিদ্র পরিবারে, পূর্বসূরিরা লেখাপড়া করেনি। সেই ধারাবাহিকতায় চলছে জীবন। ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার সংস্কৃতি নেই চরাঞ্চলে। পরিবারের বড়দের সঙ্গে সকাল থেকেই তাদের শিশুরা মাঠে-ঘাটে কাজ করে।
সরকার সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করলেও যমুনার বুকে জেগে উঠা জামালপুর জেলার ইসলামপুরের বিশরশি, বেড়কুশা ও প্রজাপতি চরের শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ নেই। কারন অন্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ প্রায় সবক’টি মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে বিশরশি, বেড়কুশা ও প্রজাপতিসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দুর্গম চরের অভাবী মানুষ গুলো দীর্ঘদিন যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ওইসব চর বসতি মানুষের ঘরে সারা বছর অভাব লেগেই থাকে। তাই চরের শিশুরা দলবেঁধে স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে মাঠে গরু-ছাগল চড়ায়, নদীতে মাছ ধরে অথবা রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে খেতে-খামারে কাজ করে। অনেকেই অভাবের তাড়নায় তাদের বাবা-মা’র সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও রেল লাইনের ধারে খুপড়ি বেঁধে আশ্রয় নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিসহ নানা শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন শহর-বন্দরে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কর্মরত শিশুদের অধিকাংশের বয়স ৯-১২ বছরের মধ্যে। ৭-১২ বছর বয়সের হাজার হাজার শিশু দেশের বিভিন্ন শহর ও পল্লীর বাজারগুলোতে নানা ধরনের পেশায় শ্রম দিয়ে দরিদ্র বাবা-মার অভাবের সংসারে অর্থের যোগান দিচ্ছে। এসব শিশুর অধিকাংশই হোটেল-রেস্তোরাঁ, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, গাড়ির হেল্পার, বাসা-বাড়ির শ্রমিক, ফার্নিচারের কাজ, বিড়ি ফ্যাক্টরির কাজ, রিকশা/ভ্যান চালানো, ওয়েল্ডিং, লেদ ইঞ্জিনিয়ারিং শ্রমিকসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকে অর্থ উপার্জন ও জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার অনেকেই শহর-বন্দর, হাট-বাজার ও ট্রেন-বাসে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে। যেখানে একজন বয়স্ক শ্রমিককে ১২০-১৫০ টাকা মজুরি দিতে হয়, সেখানে একটি শিশু শ্রমিককে ২০-৩০ টাকা দিয়ে অনায়াসেই কাজ করানো যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামপুরের চরাঞ্চলের শিশুদের একটি বিরাট অংশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এই শিশুদের অধিকাংশরাই তাদের অভাবী বাবা মায়ের সংসারের অভাব পূরণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে কাজ করছে। স্বল্প টাকায় খাটানো যায় বলে একশ্রেণীর মালিক এসব কোমলমতি শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করে। একদিন কাজে না গেলে তাদের না খেয়ে থাকতে হয়। অনন্যোপায় হয়ে ও অর্থের মোহে এরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঝুঁকে পড়ে শিশুশ্রমে অথবা ভিক্ষা বৃত্তিতে। রিকশা চালকের সন্তান ও দিনমজুরের সন্তানরাও এসব ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় সহজেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

সরকারি নিয়মে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজে খাটানো দন্ডনীয় অপরাধ। অথচ কেউ এ আইন মানছে না। ইসলামপুরের কিংজালা এলাকায় ইট ভাঙার কাজ করা ইদ্রিস (১২) বলে, সকাল থেকে কাজ করে যা পাই, তা দিয়েই পেট চলে। কাজ না করলে খাব কি? ইসলামপুর রেল গেইট এলাকায় চায়ের দোকানে কাজ করে  শাহীন(১১) ও রিপন (১০)। রিপনের বাবা ঢাকায় রিক্সা চালায় এবং মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। আর শাহীন তার বাবার সাথে চায়ের দোকানে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালায়।

বকশিগঞ্জের নিলাক্ষিয়া বাজারের হোটেল শ্রমিক শিশু রাজু (১১) জানায়, তার মা স্থানীয় বিএম কলেজে মাসিক ৩শ টাকা বেতনে ঝিয়ের কাজ করে। এতেই কোন রকমে মা-সন্তানের জীবন চলে।

ইসলামপুর নিত্য বাজারের হোটেলে কর্মরত বেড়কুশার শিশু শ্রমিক সালাম (১১) বলে, হোস্টেলে কাজ করি। ঠিকমত কাজ করতে না পারলে মালিকের হাতের মার খেতে হয়। দেওয়ানগঞ্জ থানা গেটের সামনে রাস্তার ধারে চায়ের দোকানে কাজ করে দৈনিক ২০ টাকা বেতন পায় বেড়কুশার শিশু শ্রমিক সুদু মিয়া (১২)। খেটে খাওয়া ওইসব শিশু শ্রমিকরা নানা অজুহাতে নির্যাতিত হয়। বড়দের মতো ওরা প্রতিবাদ করতে পারে না।

                                                     

বাংলাসংবাদ২৪/আজিজুর রহমান/একে কাব্য

আরও সংবাদ