Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

মাগুরার প্রাণিসম্পদ অফিসের ভবনে একাধিক ফাটল

Published:2013-05-04 18:53:59    

পরিত্যক্ত ঘোষণা
মাগুরা প্রতিনিধি : মহম্মদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে চারটি ভবনের দেয়াল ও ছাদ ধসে যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাপ্তরিক কাজ করছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

গত মঙ্গলবার ভবনগুলোর বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের একাধিক ফাটল দেখা দিলে ওই ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। সদরের বালিকা বিদ্যালয় এলাকায় ভাড়া করা ঘরে গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প পরিসরে প্রাণিসম্পদ অফিসের কার্যক্রম চলছে। এতে পশু চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
    
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চারটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে অফিস, প্রজনন কেন্দ্র ও অন্য দুটি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক ভবন। সবকটি ভবনেরই বেহাল অবস্থা। প্রায় চার বছর আগে এসব ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী ও বিপজ্জনক হলেও নিরুপায় হয়ে এসব ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোর দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা উঠে গিয়ে সুরকি, বালি ও সিমেন্ট খসে পড়ছে। ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে বিপজ্জনক একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে। ভেটেরিনারি সার্জনের (ভিএস) কক্ষ, কম্পাউন্ডারের কক্ষ, কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রের কক্ষ, গরু-ছাগল রাখার কক্ষ এবং অফিসকক্ষের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এসব কক্ষের ছাদ আংশিক ভেঙে গেছে। ভবনের সব কটি দরজা-জানালাও ভাঙা।
    
সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখে সেখানকার এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) মোবাইলে বিষয়টি জানান। মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল কুমার পাল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সামছু দ্দৌজা সরেজমিন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখে চারটি ভবন সিলগালা করে দেন।
অন্যত্র ভাড়া করা ভবনে অস্থায়িভাবে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। গণপূর্ত বিভাগকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
    
ওই কার্যালয়ের কর্মচারী আখিল উদ্দিন মোল্যা বলেন, প্রতিদিনই ছাদ ভেঙ্গে বালি-সিমেন্ট খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়া পানি পড়ে। মাথার ওপর ছাতা রেখে কাজ করি। বড় ফাটল দেখা দিলে আমরা ভবনের বাইরে বসে কাজ চালাতাম।

উপজেলা ধোয়াইল গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান গুরুও চিকিৎসা করাতে উপজেলা পশুসম্পদ অফিসে এসছেন, তিনি জানান, অফিসের সামনে গবাদি পশু রাখার জায়গা না থাকায় তাদের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে।
    
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৬৪ সালে ভবনটি নির্মিত হওয়ার পর আজ অবধি সংস্কার হয়নি। ভবনের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার পাল জানান, জেলা গণপূর্ত বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। প্রকৌশলী ভবনগুলো পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
 

বাংলাসংবাদ২৪/এসএ তুহিন/একে কাব্য