Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

বিশ্বময় ইসলাম

Published:2013-05-10 17:56:32    

নাস্তিকবাদী চিন্তা-দর্শনের ধ্বংস অনিবার্য

অতীতে নাস্তিকতাবাদীরা ছিলেন এবং বর্তমানেও আছেন। অতীতে নাস্তিকবাদী চিন্তা দর্শনে বিশ্বাসীরা তাদেরও মতামত প্রচার করে সফলতা পাননি। বর্তমানেও পাচ্ছেন তাও নয়। ভবিষ্যতে নাস্তিক্যবাদ দর্শন সফল হবে বলে মনে করা একান্তই ভুল।
আস্তিক এবং নাস্তিকের সংজ্ঞা খুব পরিষ্কার। বর্তমান সময়ে আস্তিক আর নাস্তিক তর্ক-বিতর্কে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দার্শনিক আলোচনায় বলা যায়, আস্তিক হচ্ছেন সেই জনগোষ্ঠী যারা সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস করেন। আর নাস্তিক হচ্ছেন সেই জনগোষ্ঠী বা সমষ্টি যারা বিশ্বাস করেন না। এরা নীরশ্বরবাদী। পৃথিবী জুড়ে যত মানুষ আছেন তার অধিকাংশই আস্তিক। নাস্তিক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা খুব কম। পৃথিবীতে এরা সংখ্যালঘু। চিন্তাশীল মানুষ যারা কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না, তারা ধর্মবিশ্বাসী। সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাসী। সৃষ্টি কর্তাকে আল্লাহ এবং অন্যান্য গুণবাচক যে নামেই ডাকা হোক না কেন এরা আস্তিক। নীরশ্বরবাদীরা হলেন এদের বিপরীতে অবস্থানকারী।
আস্তিকদের ২টি মূলনীতি আছে। তা হলো- সৃষ্টিকর্তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। তাকে কেউ সৃষ্টি করেননি। তিনি পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।
নাস্তিকরা এটা মানতে চান না। তাদের মতে প্রকৃতির নিয়মে সব কিছু সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে কোন সৃষ্টিকর্তার হাত নেই। নাস্তিকদের চিন্তা সঠিক নয়। এটা নাস্তিকদের দার্শনিক যুক্তি। একজন মানুষ বা জনগোষ্ঠী নাস্তিক হতেই পারেন। তিনি বা তারা কোন সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাসী না হলে এতে সৃষ্টিকর্তার কিছু এসে যায় না। যিনি বা যে জনগোষ্ঠী  ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী তাদের বিশ্বাস মহান আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন। মৃত্যুর পর তাদের উত্থান হবে এবং রোজ (দিন) হাশরের ময়দানে পৃথিবীতে বসবাসকালে তাদের  পাপ-পুণ্যের বিচার করা হবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দেব-দেবীতে বিশ্বাস করেন তারা মুশরিক। ব্রহ্ম বিশ্বাস আসলে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস। এরা পুর্ণজন্মে বিশ্বাস করেন। তাহলে দার্শনিক যুক্তির দৃষ্টি থেকে দেখা যায়, তারা বিশ্বাসীদের দলভূক্ত। নাস্তিকদের দলের নন। যারা খ্রিস্ট ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাদের রয়েছে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, আছে যীশু খ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাস। যীশু খ্রিস্ট ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে নবী ইসা (আ.) হিসেবে পরিচিত। এ ক্ষেত্রেও দেখা যায় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা আস্তিক। নাস্তিক নন।
 পৃথিবীতে দু’একটি ধর্ম আছে যারা ধর্ম বিশ্বাস করেন কিন্তু পরোকালে বিশ্বাস করেন না। এদের মধ্যে চার্বাক, বৌদ্ধ এবং জৈন। তাদের ঠিক নাস্তিক বলা যুক্তি সংগত নয়। বরং বলা যায় এরা পরোকালের ক্ষেত্রে সংশয়বাদী। নাস্তিকবাদীরা যুক্তি দিয়ে এটাই বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নেই। তাদের (নাস্তিকবাদীদের) মূল চিন্তার ক্ষেত্র হলো মরিচিকার মত। কিন্তু আস্তিকবাদী মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং ‘তিনি’ মানুষের পাপ-পুণ্যের  বিচার করবেন। সঠিক এবং সত্যপথে পরিচালিত মানুষ মৃত্যুর পর জেগে উঠবে। তার কর্মফল ভালো হলে তিনি বেহেস্ত বা স্বর্গে অবস্থান করবেন। আদিপিতা আদম (আ.) এবং মা হাওয়া মহান আল্লাহ পাকের নিষেধ অমান্য করায় তাদের বেহেস্ত থেকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যেহেতু আল্লাহ পাক রাসূল পাকের নূর তৈরির পর আদমকে (মানুষ) সৃষ্টি করেন এবং আশরাফুল মখলুকাতের মর্যাদা দেন। সেই কারণে আল্লাহ পাকের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় ‘তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে হেদায়া পৌঁছাবে। যদি তোমরা তা অনুসরণ করো তাহলে সুপথে পরিচালিত হবে। একই সাথে ফেরেস্তাকুলের উস্তাদ পরবর্তী সময়ে আল্লাহ’র হুকুম পালন না করায় এবং তার প্ররোচনায় আদম (আ.)ও মা হাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ফল খাওয়ায় ইবলিশ (শয়তান) নামে অবহিত হয় এবং তাকেও ক্ষমতা প্রদান করেন পৃথিবীর বুকে। কিন্তু আল্লাহপাক ঘোষণা করেন আমার মুমিন বান্দারে তুমি কিছুই করতে পারবে না। এই না পারার কারণ হলো আল্লাহ আলিমুল গায়েব, তার সেরা সৃষ্টি তার হেদায়াকে ধরে থাকবে। ফলে শয়তানের ফেরেববাজীতে তারা পথভ্রষ্ট হবে না। তবে পথহারা হবে তারাই যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকবে না। আবার অন্য ধর্মের মানুষও বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তা আছেন। পাপপুণ্যের বিচার করবেন। অধিকাংশ মানুষ কোন না কোন ধর্মে বিশ্বাসী। ধর্মে বিশ্বাসী মানুষই আস্তিক। কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসীদের নাস্তিক বলার কোন সুযোগ নেই। ধর্ম শুধু মানুষ ইহলৌকিক আর  পারলৌকিক জগতের সুখ-শান্তির জন্য পালন করে তা নয়। ধর্মের আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করার ক্ষমতা আছে। ইহলৌকিক জগতে মানুষের আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি সাধনে ধর্মের গুরুত্ব অপরিসিম।  ধর্ম পালনকারী মানুষ পাপ কর্ম থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টাও করেন। এ ব্যতিরেকেও ধর্ম একটি সামাজিক অনুশাসনও বটে।  সকল ধর্মের মোরালিটি এবং এথিক্স এক। কোন ধর্ম বলে না অন্যের মাথায় বাড়ি মারো, চুরি কর, অনৈতিক কাজ করো। তাই ধর্মহীন সমাজের চিন্তা না করাটাই যুক্তি সংগত। আস্তিক এবং নাস্তিক এই দুই পক্ষের মাঝে আর একটি পক্ষ আছেন, তাদের বলা হয় সংশয়বাদী। এরা সন্দিহানদের মধ্যে পড়েন। এরা দোদুল্যমান চিত্তের দল। তাদের ধারণা সৃষ্টিকর্তা থাকতেও পারেন; আবার নাও থাকতে পারেন। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এদের দর্শন চিন্তাটা দোদুল্যমানতায় ভরপুর। তারা একান্তই পথভ্রষ্ট।
ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে নাস্তিকদের কোন স্থান নেই। লাউহে মাফুজ থেকে আল্লাহ’র হাবিব (বন্ধু) আখেরী নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উপর কোরআন মজিদ নাজিল হয়। কোরআন পাকে ঐশীবাণী দু’ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। রাসূল (সা.) মক্কায় থাকাকালে যে সূরা নাযিল হয়েছে যা মক্কী সূরা নামে অবহিত। হিযরতের পর মদিনায় অবতীর্ণ সূরা। এই সূরাসমূহ মাদানী সূরা হিসেবে অবহিত। হীরাপর্বতের গুহায় আল্লাহ’র হাবিব রাসূল (সা.) কাছে জিব্রাইল ফেরেস্তা যে বাণী নিয়ে আসেন, তা হলো- ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকালাজি খালাক।’
রাসূল (সা.) এই প্রথম ওহী (ঐশীবাণী) পেয়ে ভয় পেয়েছিলেন। তিনি ফিরে এলেন, তার প্রথমা স্ত্রী খাদিজাতুল কুবরা (রা.) কাছে। তার গায়ে জ্বর এসে গেল। আল্লাহ’র রাসূল গায়ে চাদর জড়িয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন।
এরপরই জিব্রাইল (আ.) আবার এলেন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বাণী ঘোষণা করলেন, ইয়া আইয়ুহাল মুদ্দাচ্ছির, কুম ফাআনযির, ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির।
হে চাদর আবৃতব্যক্তি বা (শয্যাগ্রহণকারী ব্যক্তি) উঠুন সাবধান করুন ওই লোকদিগকে, আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন। (সূরা মুদ্দাসির)। কোরআন পাক নাযেল হওয়ার আগে অনেক ঐশী কেতাব ও বাণী নাযিল হয়। এর মধ্যে বলা যায়, তাওরাত, যাবুর, ঈঞ্জিল (বাইবেল) সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

মুরশাদ সুবহানী


বাংলাসংবাদ২৪/এনডি/বিএইচ

আরও সংবাদ