Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Fri February 22 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

অচেনা চীনের তিক্ত অভিজ্ঞতা

Published:2013-05-23 03:04:31    

বাংলাসংবাদ ডেস্ক : জ্ঞান অর্জনের জন্যে সুদুর চীন পর্যন্ত যাবার জন্যে বলেছেন নবীজি। কেন বলেছেন চীনে যাবার চেষ্টা করার দিন থেকে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। চীনে যাওয়া সেদিন যেমন কষ্টকর ছিল এখনও তেমনই আছে। ভিসা নেবার জন্যে চীন এম্ব্যাসির বাঙালিদের কাছে বিস্তর ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। তারা প্রথম দিন আমার দিকে না তাকিয়েই বলে দিলেন কাগজ পত্র ঠিক নেই।
যেহেতু ব্যাবসায়িক কারনে যাচ্ছেন, যে কোম্পানিতে যাচ্ছেন সেই কোম্পানি যে প্রদেশে সেই প্রাদেশিক সরকারের নেমনতন্ন লাগবে।নিজের কোম্পানির ৬ মাসের ব্যাংক স্টেইট্মেন্ট লাগবে। কোম্পানির ভিসিটিং কারড লাগবে। আরও কিছু কাগজ পত্র লাগবে। সব নিয়ে হাজির হতে প্রায় ৫ দিন লেগে গেল। ৬ষ্ঠ দিনে ঢুকতে পারলাম না।

সূর্যের চেয়ে বালুর তাপ বেশি। যে ঘরে ভিসার কাগজ পত্র জমা হয় তার সামনে একজন দারোয়ান শ্রেণীর লোক আটকে দিল। পাসপোর্টের ফটো কপি চেয়ে। চৈনিক এম্বেসির সামনে ফটোকপির ব্যবস্থা নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে গুলশান দুই। ফিরে আসার পর এম্বেসির সদর দরজা বন্ধ। সেই দারোয়ান সাহেবের দেখা পাওয়া গেল তিনি নির্বিকারে বললেন বারোটার আগে আসবেন না। সেই মুহূর্তে এক অভিজ্ঞ লোকের কাছে জানলাম ফটোকপির আসলে দরকারই নেই।

পরদিন আবার গেলাম। এবার একজন অভিজ্ঞ ভিসা কেরানি বললেন, আপনারটা জমা নেওয়া যাবেনা। আপনার ৬মাসের স্টেইট্মেন্ট নেই। আমি দেখালাম জানুয়ারি ১ তারিখ থেকে জুলাই মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত আছে। উনি বললেন না এপ্রিল মাসে ট্রাঞ্জাকশন নাই।

আমি বললাম এপ্রিল মাসে ট্রাঞ্জাকশন হয়নি–
-এ কথা কাউন্সিলর কে কে বোঝাবে?
-আমি কেন বুঝাবো? আপনি বরং চায়না ইস্টার্ন এয়ার লাইন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।
চায়না ইস্টার্নে যাবার পর আসল রহস্য উন্মোচিত হল। ২৮০০০, টাকা লাগবে ভিসার জন্যে। চীন দেশের বিভিন্ন স্রেণীর ভিসা ফি আছে । তবে কোনটিই ৪৮০০ টাকার বেশি নয়। চায়না ইস্টার্নের সাথে ভিসা অফিসের মহারথিদের যোগাযোগ থাকাটা তাই বাংলাদেশর পরিস্থিতে খুবই তাৎপর্যময়। যাই হোক ভিসা শেষ পর্যন্ত হোল। তবে ভিসা আবেদনের দিন যে টিকেটের দাম ছিল ৪৭০০০/ সেটা ততদিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছ ৭১৮০০তে।

দুই।
জিয়া আন্তর্জাতিক থুড়ি হযরত শাহজালাল এয়ারপোরটে (আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবোনা বলে আইন পাশ করার বছরই ভিনদেশি এই ওলির নামে এয়ারপোর্টের নাম করণ করা হয়েছে, বার বার ভুলে যাই) পৌছে দেখি লোকে লোকারণ্য। এত লোক যে চায়না যায় আগে যানা ছিল না। রাত দুইটায় ফ্লাইট। চেক ইন হয়ে গেল সাড়ে বারোটায়। তার পর ডিঊটি ফ্রি শপে ঘোরা ঘুরি আর একটু পর পর ফ্লাইট সিডিউল দেখি। ঈলেক্ট্রনিক বোডে বার বার একই লেখা। চায়না ইস্টার্নের যাত্রীদের চেক ইন হচ্ছে।

হঠাত শুনি মাইকে আমার নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। আমাকে ১৬ নম্বর গেটে দ্রুত যেতে বলা হচ্ছে। মিগ্রেশনের এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলাম গেট টি কোন দিকে তিনি, ফটিকের ওই হোথা জাতিয় একটা কিছু বললেন। আরও দুই একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে, সেই গেটের দিকে ছূটতে থকলাম। ততক্ষণে আমার সহযাত্রীরা বোর্ডিং শুরু করেছে মনে হল। বাঙালির একটা সহজাত ইন্টিঙ্কট আছে। তারা অনেক কিছু আন্দাজ করতে পারে। সেই ইন্সটঙ্কটের জোরেই তারা প্লেনে উঠে যাচ্ছে। আর আমি মহা দুশ্চিন্তায় ১৬ নম্বর গেটের দিকে আগাচ্ছি। বাড়িতে খুব আসুস্থ একজন রোগি রেখে এসেছি, তাঁরই কি কিছু হল, না কি আমার ভিসার গণ্ডগোল, আমাকে কি ফেরত যেতে হবে ভাবতে ভাবতে ১৬ নম্বর গেটে পৌছলাম। যেয়ে দেখি প্লেনের অথবা ইমিগ্রেশনের কোন লোক দাঁড়িয়ে তিনি বললেন সবাই তো ঊঠে যাচ্ছে আপনার দেরি দেখে ভাবলাম ফ্লাইট মিস করবেন। তখনও কিন্তু ডিস প্লে তে আমাদের চেকিং ই দেখাচ্ছে। সেদিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি বললেন সম্ভবতঃ ভুল দেখানো হচ্ছে। এই সব ঘটনা অঘটনের মধ্যে দিয়ে কুনমিং পৌছে দেখলাম সারা এয়ারপোর্ট জুড়ে মানুষের ছড়া ছড়ি। পরে জেনেছি উইকেন্ডের জন্যে এত ভিড়। এদের মধ্যে দুই একজন বাঙালি ছাড়া কথা বলা কিম্বা সাহায্য করার মত কেউ নেই। এরকম জায়গাতেও ইংরেজি জানা চীনা লোকের অভাবে অহেতুক ছোটা ছুটি করতে হল। কোন লাইনে দাঁড়িয়ে কুনমিং এর টিকেট কনফারম করবো সেটাই খুজে পাচ্ছি না। শেষ মেষ একটা লাইন খুজে পেলাম কিন্তু সেই লাইন যখন কাউন্টারে পৌছাল ততক্ষণে সিস্টেম বিকল। অতঃপর আবার লাইনের খোঁজে ছুটলাম। এবার ও একই ঘটনা ঘটলো। প্লেন ছাড়ার আরমাত্র ৩২ মিনিট বাকি। একটু পরপরই ইলেক্ট্রিওনিক বোর্ডে লেখা উঠছে, ফ্লাইট ছাড়ার ৩০ ইনিট আগে চেক ইন বন্ধ হয়ে যাবে। এই প্লেন মিস হলে আমার সমূহ বিপদ। চীন দেশে আমি কিছুই চিনি না। কুনমিঙ্গের কিছু বাঙালি ব্যবসায়িকে আগে এয়ারপোর্টে দেকেহছিলাম কিন্তু ততক্ষনে তারাও এয়ারপোর্ট ছেড়েছে। বোরডিং পাশ হাতে নিয়ে ছূটতে লাগলাম ৬৪ নম্বর গেটের দিকে।

তিন।
সেনঝেন পৌছে পড়লাম আরেক বিড়ম্বনায়। কুনমিং থেকে আমার লাগেজ পৌছেনি। লস্ট এন্ড ফাউন্ডে গিয়ে নিজেঈ লস্ট হয়ে গেলাম। এরা চৈনিক ছাড়া অন্য কোন ভাষা বোঝে না। আর আমার চৈনিক জ্ঞান নি হাঊ ( কেমন আছেন?) পর্যন্ত।


বাংলাসংবাদ২৪/এনডি/একে কাব্য