Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon September 24 2018 ,

মাগুরার শ্রীপুরের সোনাতুন্দি এখন পোল্ট্রি গ্রাম

Published:2013-05-27 18:45:19    

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সোনাতুন্দী গ্রামের ঘরে ঘরে এখন গ’ড়ে উঠেছে পোল্ট্রি খামার। যা এ এলাকার অর্ধশতাধিক পরিবারকে করেছে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও সাবলম্বী। দুই দশক আগে দাউদ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে তার বাড়িতে একটি পোল্ট্রি খামার গড়ে এই ক্ষূদ্র শিল্পের সুচনা করেছিলেন। তার অব্যাহত সাফল্যই বিস্তৃত হয়ে গোটা গ্রামকে এখন রুপান্তরিত করেছে পোল্ট্রি গ্রামে। এনে দিয়েছে সাফল্যের অনন্য স্বীকৃতি।
    
মাগুরা জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দুরে শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নে এই সোনাতুন্দী গ্রাম। সেখানকার এই মহৎ কর্মযজ্ঞের পথিকৃত দাউদ হোসেন জানান, ১৯৯১ সালে একটি সেডে ৮০০ লেয়ার মুরগী দিয়ে খামার শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩ টিতে। যা থেকে প্রতি মাসে তার আয় হচ্ছে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। তার সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এখন প্রায় প্রতিটি বড়িতেই গড়ে উঠেছে লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগীর খামার। গোটা গ্রামে মোট খামারের সংখ্যা প্রায় ১০০ টি।      
    
সোনাতুন্দি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে স্থাপিত হয়েছে ছোট বড় লেয়ার ও ব্রয়লার পোল্ট্রি খামার। হোসেনের মত বড় খামারী হিসাবে আরো যারা পোল্ট্রি খামার গড়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন কবির হোসেন, রশিদ বিশ্বাস, অহিদ মিয়া। তাদের প্রত্যেকেরই ৩ থেকে ৪টি করে লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগীর খামার রয়েছে।

এ ছাড়া কাজি মিজানুর রহমান, মাহমুদ হোসেন, ইকবালসহ অনেকের একের অধিক ব্রয়লার খামার রয়েছে। গ্রামের সফল খামারীদের পাশাপশি প্রাণী সম্পদ বিভাগের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুরগী পালনের জন্য ঘর নির্মান, প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, মুরগীর রোগ ব্যাধি সনাক্তকরণ ও তার প্রতিকার বিভিন্ন বিষয়ে এ গ্রামের খামার মালিক ও শ্রমিকরা নিজেরাই পরিচর্যার বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞ ও দক্ষতা অর্জন করেছেন।  
    
গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বড় লেয়ার খামারের এক একটিতে গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার মুরগী রয়েছে। এ ছাড়া ছোট ও মাঝারি খামার গুলোতে গড়ে ৪০০ থেকে ৮০০ মুরগী রয়েছে। যা থেকে একজন বড় লেয়ার  খামারি বর্তমানে প্রতিদিন পাইকারদের কাছে প্রায় ২ হাজার ২০০ ডিম ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।

লেয়ারের ডিম পাড়া শেষ হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মুরগী মাংশ হিসেবে কেজি দরে বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ আয় করছেন খামারিরা।  এ ছাড়া ব্রয়লার খামারিরা মুরগীর খামারে বাচ্চা তুলে ১ থেকে ২ মাস মুরগীর পালনের পর দেড় থেকে ২ কেজির একটি মুরগী বর্তমান বাজার দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন ১৯০ থেকে ২৬০ টাকায়।

এ গ্রামের খামারিরা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ডিম ও মুরগী বিক্রি করে থাকে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকায় বেচা কেনায় বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের কোন ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। তবে গ্রামের খামার মালিকরা দাবি,খাবার ওষুধসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাদের লাভ কিছুটা কম হচ্ছে।
    
এ গ্রামের খামার মালিক খবির হোসেন বলেন, ‘আমার ২ একর জমির উপর  ৪টি খামারে  প্রায় ৫ হাজার লেয়ার মুরগী আছে। প্রতিদিন মুরগী থেকে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০টি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। যা ১৪ থেকে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করছি।’  
    
এদিকে সোনাতুন্দি গ্রামের এই খামার গুলো ঘিরে এলাকার অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বড় খামার গুলোতে কাজ করে ২ থেকে ৪ জন কর্মচারি। যাদের বেতন মাসে ৬ হাজার ৫০০ থেকে হাজার টাকা। এ ছাড়া ছোট ও মাঝারি খামারে এলাকার লোকেরা দিন মজুর হিসেবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করছেন।                                                                                        
খবির হোসেনের খামারে কর্মরত শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম বলেন,‘ আমি খামারে কাজ করে ৭ হাজার টাকা আয় করছি। যা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলে মেয়দের লেখা পাড়ার খরচ বহন করে আসছি। অপর খামার শ্রমিক সিদ্দিক বলেন, ‘আমি মুরগী খামারে কাজ করে ৬ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। এই আয় দিয়ে আমার সংসার চলছে।’   
    
শ্রীপুর উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. অমল সরকার বলেন, ‘উপজেলার সোনাতুন্দী গ্রামটি মুরগী খামের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমরা মুরগী পালনের জন্য ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে খামারিদের সহযোগিতা করছি।  গ্রামটিতে এ ধরনের খামার গড়ে ওঠায় মালিকদের পাশপাশি এলাকার দরিদ্র মানুষ অর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।’
                            

বাংলাসংবাদ২৪/এসএ তুহিন/একে কাব্য

আরও সংবাদ