Widget by:Baiozid khan

ঢাকা Thu November 22 2018 ,

  • Advertisement

পঁচিশ বছর সুর্যের মুখ দেখেনি বন্দী আশরাফুল

Published:2013-05-28 13:39:09    

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: পঁচিশ বছর ধরে সুর্যের মুখ দেখেনি আপন গৃহে বন্দী আশরাফুল।

এই ২৫ বছরের মধ্যে ঘরের দরজা খুলে বাইরে পা রাখেনি সে। সুনশান একটি ঘরেই কাটিয়ে দিয়েছে জীবনের পঁচিশটি এই বসন্ত।

কোন মোহে, কি কারণে তার আপন গৃহে এই বন্দী জীবন তা আজও জানা যায়নি। কোটরাগত চোখ, জীর্নশীর্ন পাটকাঠির মতো হাত ঈশারা করে আশরাফুল স্মিত হাসিতে দর্শনার্থীদের দিকে তাকিয়ে থাকে অনিমেষ দৃষ্টিতে।
 
আশরাফুলের গাঁয়ের বাড়ী গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাড়ির পিছনের একটি বিচ্ছিন্ন চালাঘরে বসবাস করছে সে। অনেক হাঁক ডাকেও সাড়া না দিলে বাড়ীর লোকজন বাহির হতে তার দরজা খোলার ব্যবস্থা নেয়। ঘরের ভিতরে মেঝেতে খড় বিছানো ছেঁড়া কাঁথার বিছানায় কাপড় মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে আশরাফুল। বাড়ীর লোকজন এসে তাকে বাংলাসংবাদ২৪ এর সংবাদিকদের মুখোমুখী করে।

একজন সুস্থ ও সাধারণ মানুষের মতো আশরাফুল কথা বলে। ঘর হতে বাইরে কেন বের হয়না? সে এই প্রশ্নের উত্তরে জানায়- তার চেহারা ভালোনা, কেউ তাকে পছন্দ করেনা। তাছাড়া তার সারা শরীরে ব্যাথা, ব্যাথার কারণে সে পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতেও পারেনা। এক পর্যায়ে আশরাফ তার বিস্মৃত কিছু ঘটনার কথা জানায়।

সে সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৮৮ ইং সালে এসএসসি পাশ করে গাইবান্ধা সরকারী কলেজে ভর্তি হয়েছিল। যৌবনের প্রথম প্রহরেই সে পছন্দ করে বসে তার এক খালাতো বোনকে। কিন্তু সে কোনদিনই জানতো না আশরাফুল তার প্রতি আসক্ত। এক ধরনের স্বপ্ন ও বাস্তবের ঘোলাটে ভবিষ্যৎকে নিয়ে শুরু হয় তার নিঃসঙ্গ জীবন যাপন।

আশরাফের ছোটভাই মাসুদ মিয়া জানান, এ ব্যাপারে সে কাউকে কিছু জানায়নি। দিনের পর দিন একটি ঘরে নিঃসঙ্গ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে সে। অবশেষে পরিবারের সবাই যখন ঐ মেয়ের সাথে বিয়েতে সম্মতি দেয় তখন আশরাফুল একেবারেই ঘরকুনো এক অন্য জগতের মানুষ।

চিকিৎসকরা বলেন, আশরাফুল দুরারোগ্য বিষন্নতায় ভুগছে। জনতার মধ্যেই নির্জন বাসী আশরাফুলের জীবন চিত্র দেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপা হয় প্রায় এক যুগ আগে। তখন কিছু মানবতাবাদী সংগঠন আশরাফুলকে সুস্থ করার উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পুলিশ দিয়ে চেষ্টা করেও তাকে তার ঘর থেকে বাইরে বের করা সম্ভব হয়নি। আজকের স্বপ্নচারী আশরাফুল ছিল তার অঞ্চলের সেরা মেধাবী ছাত্র, সাইকেল চালনায় পারদর্শী এক সুঠাম তরুন।

মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মওলানা নবাব আলী খন্দকার জানান, তার ছাত্র আশরাফুল খুব নম্র, ভদ্র, ও মেধাবী ছিল।

এলাকাবাসী জানায়, প্রথম দিকে তাকে অনেকেই রাত-বিরেতে ঘর থেকে বেড়িয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখেছে। তার ভাই ও চাচা জানায়, সে অনেক রাতে জমিতে ধান বোনা, ধান কাটার কাজও করতো সবার অগোচরে। পঁচিশ বছর ধরে সুর্যের মুখ দেখেনিঁ আশরাফুল। হয়তো মৃত্যুর পর তাকে বাহিরে নিয়ে আসা হলে একচিলতে সুর্যের পরশ পাবে সে।

বাংলাসংবাদ২৪/এস এম ময়নুল হুদা/এনএম

আরও সংবাদ