Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Wed September 19 2018 ,

খুলনায় মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ

Published:2013-06-03 16:55:35    

খুলনা প্রতিনিধি: মহানগরীর সুনামধন্য সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষিকা নিজের পরিবারের উদ্ধৃতি টেনে বলেন ‘যে পরিবারে একজন মাদকাসক্ত আছে, সে পরিবারের কষ্টের কোন সীমা নেই’। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, ‘মাদকের অপব্যবহার মেধা ও মননকে শেষ করে দেয়। বিনষ্ট করে সুপ্ত প্রতিভা আর চিন্তাকে। নিজের ও পরিবারসহ আশপাশের মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ’।

এছাড়া নিয়মিত মাদক সেবনকারীর পরিনতি দৈহিক অসুস্থতা দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ হয় মানুষিক রোগ ও মৃত্যু দিয়ে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দেয়া তথ্য মতে, মাদক শুধু জীবনকেই ধবংস করে না, জড়িয়ে দেয় নানা অপরাধের সংঙ্গেও। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাদকসেবীরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে।

চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি খুনের মত গুরতর অপরাধ করছে মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে।
মাদক নামের যে দানবটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের জন্য অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই মাদকের বিস্তার রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সীমান্তরক্ষা বাহিনী তৎপর থাকলেও দেশে মাদক পরিস্থিতির কোন উন্নতি হচ্ছো না। বরং দিন দিন মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েই চলছে। শিল্প নগরী খুলনাও এর ব্যতিক্রম নয়। মাদক চোরাকারবারী বা মাদক বিক্রেতার তালিকা সরকারিভাবে না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় মাদকাসক্তদের তালিকা রয়েছে।

মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) জরিপ মতে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০ লাখ মাদক সেবী রয়েছে। যার মধ্যে খুলনায় রয়েছে প্রায় দেড় লাখ। এর ৪৪ ভাগ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে  জড়িত।
   
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হেলাল উদ্দিন বদরীর দেয়া তথ্য মতে, নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা শহীদ ইকবাল বিথার হত্যা মিশনের অন্যতম ক্যাডর চরমপন্থি জিয়াউর রহমান স্বাধীন পুলিশের কাছ স্বীকার করেছিলেন, তিনি ভাড়াটে খুনী হিসেবে বিথার হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। আর হত্যাকান্ডের পর চুক্তির যে ২০ হাজার টাকা তিনি অগ্রীম পেয়েছিলেন, তার পুরোটাই সে পলাতক অবস্থায় ফেন্সিডিল সেবনে ব্যয় করছেন।

এছাড়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বলেছেন, আমাদের হাতে গ্রেফতার হওয়া চোর ছিনতাইকারী এদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগার করতে এরা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাছড়া তাদের সিংহভাগ বয়সে তরুণ-যুবক।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, খুলনায় সংঘটিত অপরাধের ৪০ ভাগই কোন না কোনভাবে মাদক সংশ্লিষ্ট। নেশার টাকা জোগার করতে এরা এ ধরনের অপরাধ করছে বলে ওই কর্মকর্তা মনে করেন।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মতে, আমাদের দেশে আশির দশকের শুরু থেকে মাদকদ্রব্যের থাবা বিস্তার হতে শুরু করে। নব্বই দশকে এটি বিস্তার লাভ করে। এ পর্যায়ে মাদকের সঙ্গে পথশিশু থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মানুষও জড়িয়ে পড়েছে। বস্তির ছিন্নমূল মানুষ থেকে উচ্চশিক্ষিত সবাই মাদক গ্রহণ করছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীদের মাদক সেবন এখন ফ্যাশান হয়ে দাড়িয়েছে। এমনকি নারীরাও পিছেয়ে নেই মাদক সেবন থেকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে ১৮ বছরের ওপরে ০.৬৩ শতাংশ মানুষ মাদক সেবন করে। মাদকাসক্তদের ৮৩ শতাংশের বয়স ১৮-৩৫ বছরের মধ্যে। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার অনুপ কুমার বসু বলেন, বন্ধুর হাত থেকে সিগারেট নিয়ে এক টান-দু’টান-তারপর নিয়মিত ধুমপান শুরু। এর পর ধীরে ধীরে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবসহ অসংখ্য মাদকদ্রব্য সেবন।

তিনি জানান, মাদকাসক্তদের ৯৮ শশতাংশ ধুমপায়ী। এছাড়া অজ্ঞতা, কৌতুহল, কৈশর ও যৌবনের বিদ্রেহী, প্রচলিত কুসংস্কার, মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা, সহজলভ্যতা, হতাশা পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবসহ নানা কারনে মানুষ মাদক সেবন করে। তিনি আরো বলেন, নিয়মিত মাদক সেবনকারীর পরিনতি দৈহিক অসুস্থতা দিয়ে শুরু হয় এবং শেষ হয় মানুষিক রোগ ও মৃত্যু দিয়ে।
 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবু তালেব একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শুধু এ দেশে নয়, বিশ্বব্যাপী মাদক উৎপাদন, বিক্রি ও আসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে। দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে। অপরাধ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মাদকাসক্তদের সংখ্যা। কোন সুস্থ মানুষ অপরাধ করতে পারে না। সে অবশ্যই মানুষিকভাবে অসুস্থ।

তার দেয়া তথ্য মতে, দেশে ৯৯ ভাগ মামলা হয় মাদক নিয়ে। মাদক নিমূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজ এক সঙ্গে কাজ করলে এটি নিমূল হওয়া সম্ভাব। কারণ মাদকের ভয়াবহতা এবং ব্যাপ্তি এত বিশাল যে, শুধূ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রয় করা সম্ভাব নয়।

বাংলাসংবাদ২৪/কেএইচমনি/এনএম
 

আরও সংবাদ