Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 23 2018 ,

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

Published:2013-06-16 11:16:15    

এম.শাহজাহান: প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। সেই নিয়মানুসারেই এ বছর ১৬ জুন তৃতীয় রবিবার হওয়ায় আজ বিশ্বের ৫২টি দেশে এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে।  
‘বাবা দিবস’ পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথমদিকে। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবস পালন শুরু। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।
ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এই দিনটি পালিত হয়। ১৯০৮-এর ভার্জিনিয়ায় বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান এক গির্জায় পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু করেন।
আজ বাবা দিবস নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন হচ্ছে। ‘বাবা দিবস’ বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে ‘মা দিবস’ নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না, বরং ‘বাবা দিবস’ এর বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়, ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।
জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে "ফ্যাট্যা" আর ড্যানিশ ভাষায় "ফার"। আফ্রিকান ভাষায়, ‘ভাদের’ হচ্ছেন বাবা! চীনের ভাষায় চীনারা আবার ‘বাবা’ কেটে ‘বা’ বানিয়ে নিয়েছে! ক্রী (কানাডিয়ান) ভাষায় বাবা হচ্ছেন ‘পাপা’ তেমনি ক্রোয়েশিয়ান এ ‘ওটেক’ ভাগ্যিস! ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজ ভাষায় বাবা ডাক হচ্ছে ‘পাই’।
ডাচ ভাষায় পাপা, ভাডের আর পাপাই এই তিনটি হচ্ছে বাবা ডাক। সবচাইতে বেশি প্রতিশব্দ বোধহয় ইংরেজি ভাষাতেই! ইংরেজরা বাবাকে ডাকেন, ফাদার, ড্যাড, ড্যাডি, পপ, পপা বা পাপা! ফিলিপিনো ভাষাও কম যায় না, এ ভাষায় বাবা হচ্ছেন তাতেই, ইতেই, তেয় আর আমা। আমরা কিন্তু বাবাকে আদর করে হিব্রু ভাষাতেও ডাকি! হিব্রু ভাষায় বাবা হচ্ছে ’আব্বাহ্’ তার মানে আমরা যে ‘আব্বা’ বলে ডাকি তা-ই!
হিন্দি ভাষার বাবা ডাকটি পিতাজী! আবার ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় অর্থাৎ সেই ‘বাহাসা ইন্দোনেশিয়া’য় যদি বাবা ডাকি তাহলে সেটা হবে- বাপা কিংবা আইয়্যাহ! জাপানিরা তাদের ভাষায় বাবাকে ডাকেন- ওতোসান, পাপা। পূর্ব আফ্রিকায় অবশ্য বাবাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকা হয়!

বাবা দিবসের প্রয়োজনীয়তা:

আপাতদৃষ্টিতে অনেকের কাছেই মা দিবস বা বাবা দিবস পালনের বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পায় না। তাই বলে এ ধরনের দিবসগুলো একেবারেই যে অপ্রয়োজনীয়, তেমনটা কিন্তু মোটেও বলা যাবে না। সন্তানের জন্য পিতার ভালোবাসা অসীম।

মুঘল সাম্রাজ্যরের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। তিনি সন্তান হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। এমন স্বার্থহীন যার ভালোবাসা, সেই পিতাকে সন্তানের খুশির জন্য জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। বাবা দিবসে সন্তানদের সামনে সুযোগ আসে পিতাকে অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে ধন্যবাদ জানানোর।

তাছাড়া বাবা দিবস পালনের ফলে সমাজে এবং পরিবারে পিতাদের যে অবদান তা যে সমাজ এবং নিজের সন্তানরা মূল্যায়ন করছে, এ বিষয়টিও পিতাদের বেশ আনন্দ দেয়। তাছাড়া অনেক সন্তানই আছে, যারা পিতামাতার দেখাশোনার প্রতি খুব একটা মনোযোগী নয়। মা দিবস বা বাবা দিবস তাদের চোখের সামনের পর্দাটি খুলে ফেলে পিতামাতার প্রতি তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে তাই বলা যায়, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে মা দিবস বা বাবা দিবসের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মোটকথা, আমাদের পরিবার তথা সমাজে পিতার যে গুরুত্ব তা আলাদাভাবে তুলে ধরাই বাবা দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য।

বাবাকে খুঁজে বেড়াই:
বাবা নেই। আমার জীবনে এখন এটা এক মহাসত্য। পৃথিবীর সাদাশুভ্র দাড়িওয়ালা লোকগুলোর মাঝে তাই আমি আমার বাবাকে খুঁজে বেড়াই। শ্রদ্ধা পোষণ করি বাবার বয়সী সব মানুষগুলোর প্রতি। আমিও তো এখন বাবা হয়েছি। পৃথিবীতে এখনো অনেক শিশুসন্তান আছে, যারা তাদের বাবাকে হারিয়েছে। আমি সেসব শিশুর মাথায় হাত রেখে পিতৃস্নেহে আদর করি। হয়তো তারাও ক্ষণিকের জন্য পিতৃস্নেহের কথা স্মরণ করবে।
আজকের এই দিনে আমি প্রাণভরে আমার বাবার জন্য দোয়া করি। আমার সৃষ্টিকর্তা যেন বাবাকে জান্নাতে রাখেন। জীবনের সেই অপ্রাপ্তিটুকু আমি সেখানেই পূরণ করতে চাই। আমার বাবা সেখানে পাখি হয়ে ঘুরে বেড়াক- বাবা দিবসে এই আমার প্রত্যাশা।

মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ডেপুটি চিফ এডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম।
 
আমার প্রিয় বাবা:
ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন কারণে বাবাকে অনেক ভয় পেতাম। সেই তুলনায় মাকে একটুও ভয় পেতাম না। আমার বাবা অন্যদের বাবা থেকে একেবারেই আলাদা। বাবার মতো জনদরদী এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্ট হবে। আমার বাবা ধার্মিক ছিলেন। জন্মের পর থেকেই যাকে আপন বলে জানতাম তা হলো মায়ের পরে বাবা। বাবা কোথাও গেলে আমি কেঁদে কেঁদে জর্জরিত হতাম। বাবাকে একনজর দেখার জন্য আমি এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করতাম। তারপর ধীরে ধীরে যতই বড় হতে লাগলাম ততই আমি আমার বাবার কাছাকাছি চলে আসলাম। অর্থের অভাবে কাকা ক্লাস নাইন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তারপর সংসারজীবন শুরু করে অভাবের সংসারের গ্লানি টেনে যাচ্ছেন। এখন আমিও যদি বাবার মতো পড়াশোনা না করি, তাহলে কিভাবে এই দেশ-জাতির উন্নতি হবে। সবসময় বাবা আমার লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। তার ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। বাবা সবসময় আমাকে একটা কথা বলতেন, সৎ পথে চলার চেষ্টা করবি, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবি না। বাবার সেই কথাগুলো আমার আজো মনে পড়ে। বাবার শূন্যতা আমি এখন অনুভব করতে পারি।

শাহাদাত শরীফ, সাব-এডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম।  

আমার বাবা আমার বন্ধু
আমার বাবা আমার প্রিয় বন্ধু। হৃদয়ের অতল গহব্বর থেকে ভেসে উঠা একটি নাম। আপনার চেয়ে আপন, হৃদয়ের অণুতে শিলালিপি দিয়ে লেখা একটি নাম। জীবননামক অধ্যায়ের সূচনা যার মাধ্যমে, এটি সেই নাম, যে আমার প্রিয় বন্ধু, আমার বাবা।
শত দুঃখের সাগরে বিলিয়ে দিতে পারে নিজেকে, শুধু আমার সুখে। আমার মুখের চন্দ্র কণিকা যেন সদা সন্ধ্যায় আলো দেয়, এটাই তার চাওয়া, এটাই তার তৃপ্তি। আমার হাজারো অপরাধ, হাজারো অন্যায় এবং শত শত চাওয়া তার কাছে তুচ্ছ বালুকণামাত্র। তার প্রত্যেকটি দান নিঃস্বার্থ এক অবাক পৃথিবীর মতো, যা শুধু দিয়ে যায়।
আজও হে বাবা, এই দূর প্রবাসে তোমায় স্মরি। তোমার স্মৃতির সাথে খেলা করি কোন এক ঝিঁ-ঝিঁ ডাকা রাতে, যে রাতে তুমি আমায় ঘুম পাড়াতে।
আজও ভুলিনি হে বন্ধু, তোমার সেই মদুমাখা আদর, নিজের পাতের ভালো খাবারটি আমার পাতে তুলে দেয়ার কথা। অন্ধকারে তুমি অনেক কেঁদেছ, আমায় আলোয় রেখে। তাই হে বাবা, হে আমার প্রিয় বন্ধু, তুমি কোনো একটি দিবস নয়। তুমি আমার কাছে সারা দিন, সারা রাত, সমস্ত সকাল-সন্ধ্যার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

একে কাব্য, সাব-এডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম।

আমার বাবা একজন মাটির মানুষ
আমার বাবা খুব ভালো মানুষ, তিনি খুব সহজ-সরল বলা চলে তিনি একজন মাটির মানুষ। তিনি আমাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসে। তিনি আমাকে দিনে দুই থেকে তিন বার মোবাইল করে খোঁজ-খবর নেন। ছোট বেলায় তিনি আমাকে ভাতের পরিবর্তে প্রচুর মিষ্টি জাতীয় খাবার খাইয়েছেন। আমিও অপেক্ষায় থাকতাম, কখন বাবা বাজার থেকে সদাই নিয়ে আসবেন। আমাকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাথে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। আমাকে পড়াশোনার বিষয়ে কঠোরভাবে ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এরকম না করলে হয়তো আমার পড়াশোনাই হতো না। তার জন্য আমি আজ এ জায়গায় আসতে পেরেছি। তার কথা আমি মনোযোগ দিয়ে শুনি এবং পালন করার চেষ্টা করি। তার কথায় আমি বিয়ে করেছি তারই দেখা পাত্রীকে। আমার মায়ের মতো বাবাকেও অনেক বেশি ভালবাসি। আমার বাবা শিশুকালে আমাকে যেভাবে লালন-পালন করেছেন, আল্লাহ আমার বাবাকেও যেন তেমনিভাবে লালন-পালন করেন।

জিসান, ক্রাইম রিপোর্টার, বাংলাসংবাদ২৪.কম

ভয়ের সাথে লুকিয়ে থাকতো বাবার ভালবাসা
পৃথিবীর প্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে বাবা প্রথম। আমি আমার বাবাকে ভালবাসি হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা দিয়ে। আমার কাছে একজন শ্রেষ্ঠ সম্মনিত ব্যক্তি। বুকের বাম পাশে হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি রক্তবিন্দু সবসময় বাবাকে মিস করে। আমি মনে করি, একশ ভাল ও আদর্শবান শিক্ষকের চেয়ে একজন আদর্শবান পিতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আমার বাবা বেঁচে আছেন। বাবা তার শতভাগ ভালবাসা আমাকে দিয়ে থাকেন, যা কখনো পরিমাপ করা যায় না। একজন সন্তান হয়ে কখনো বাবাকে তার সমপরিমাণ ভালবাসা সম্ভব নয়। আমি মায়ের কাছে শুনেছি, শিশুকালে প্রথম বাবার নাম নিয়ে কথা বলা শুরু করি।
বাবা যেন আমার কাছে বন্ধুর মত। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আমি বাবার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকি। কারণ বাবা আমার থেকে অনেক অনেক জ্ঞানী। প্রথম স্কুলে যাই বাবার হাত ধরে। বাবার হাত ধরে আমি প্রথম মসজিদে যাই ও নামাজ পড়া শিখি।
আমার কাছে মনে হয়, বাবার আর এক নাম ‘এটিএম বুথ’। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত বাবার কাছে যতবার যা কিছু চেয়েছি বা আবদার করেছি সবকিছুই তিনি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কখনো জানতে চাইনি বাবা কিভাবে তা ব্যবস্থা করেছেন।
বাবার নামের সাথে লুকিয়ে আছে ‘শাসন’। ছোটবেলা থেকে সবচেয়ে ভয় পেতাম বাবাকে। কোন প্রকার অন্যায় করলে খুব ভয় লাগত, যদি বাবা কিছু বলেন। এই ভয়ের সাথে লুকিয়ে থাকতো বাবার ভালবাসা। আজ বাবা দিবসে বাবাকে লাখ-কোটি সালাম ও একটি কথা বলতে চাই, ‘বাবা তোমাকে খুব ভালবাসি’।
নুরুজ্জামান ফারাবী, সাব-এডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম।

ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাই জন্মদাতার অবদান
আমার বাবা একজন সাধারণ মানুষ তাকে আমি খুবই ভালবাসি। সেই সাধারণ মানুষটিকে ভালবাসার জন্য আমার বিশেষ কোন দিন বা দিবসের দরকার নেই। যারা ক্ষণে ক্ষণে ভুলে যাই জন্মদাতার অবদান তাদের জন্য বোধকরি, দিনক্ষণ স্থির করে দিতে হয়। ভুলেও যেন বাবার কখা ভুলে না যায় সেজন্যই দিবসের আনুষ্ঠানিকতা এছাড়া আর কিছুই নয়।
বাবার প্রতি ভালবাসা লিখে প্রকাশ করার মত ভাষা নেই আমার। ভাষার মালা গেঁথে কতগুলো শব্দের বন্দনায় প্রকাশ করতে পারব না ভালবাসা। লোক দেখানো কোন ভালবাসা নয়, লোক জানানো কোন মেকি নয়, আমার বাবাই বলে দিবেন তাকে আমি কতটুকু ভালবাসি। আমার ভালবাসা তার হৃদয়কে কতটুকু পুলকিত করে তা একমাত্র তার কাছ থেকেই জানা সম্ভব।
বৃদ্ধাশ্রম গানটি আমাকে অনেক দুঃখ দেয়। আর তখন মন বলে ওঠে বাবা তোমাকে ভালবাসি তোমাকে ইচ্ছায় আর অনিচ্ছায় কষ্ট দিতে চাই না। আমার প্রভূর কাছে প্রার্থনা, কোনদিন যেন আমার মাধ্যমে বাবা কষ্ট না পায়।
বাবাকে কষ্ট দেয়ার জন্য নাকি মানুষ আরেকজন মানুষের সহযোগিতা নেয়। সেই মানবী তথা পরের মেয়ে আমার জীবনে যেহেতু আসেনি তাই যদি এখন বলা কথাগুলো তখন গিয়ে নিছক বুলিতে পরিণত না হয় সে প্রত্যাশাই করি।
যে মানুষটি আমাকে পৃথিবীতে বেড়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন আশা করি তাকে ভালবাসার জন্য আমি আমার বাকি ভাইদের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারব।
বাবা আমাকে নিয়ে যে রকম স্বপ্ন দেখেছেন নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে আমি সেরকম কোন মানুষ হতে পারিনি। তবে বাবাকে নিশ্চিত করতে পারি বাবা তোমার ছেলে কোন মন্দ মানুষ হয়নি। কর্মক্ষেত্রের বিবেচনায় তোমার ছেলে বড় কিছু না হলেও মনের দিক থেকে সে মোটেও ছোট নয়।
যাহোক, বাবাক ভালবাসার জন্য আমার কোন দিবস পালনের দরকার নেই। এসব দিবস আমাকে হতাশ করে জন্মদাতাকে ভালবাসতে আবার দিবস কিসের!
আমার হৃদয়ের কোণে ক্ষণে অনুক্ষণে সারা দিনমান দিনরাত সমানে সমান বাবার প্রতি ভালবাসা বিদ্যমান। আমি ভালবাসি বাবাকে কথায় নয় কাজে দিতে চাই এ প্রমাণ।

সাখাওয়াত হোসেন সুজন, সাব-এডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম।

বাবা দিবসে বাবাকে স্মরণ
দুই অক্ষরের বাবা নামটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নামগুলোর মধ্যে অন্যতম। সন্তানের কাছে মায়ের পরই বাবার স্থান। কারণ যার মাধ্যমে সুন্দর এই পৃথিবীতে আগমন তিনি হলেন বাবা। সন্তান জন্মগ্রহণের পর থেকে বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত একজন বাবা যে ধরনের পরিশ্রম করে থাকেন তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। জীবনের যে কোন পরিস্থিতিতে একজন বাবা সন্তানের কল্যাণ কামনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সন্তান অসুস্থ হলে বা বিপদে পড়লে বাবার দুঃখের আর সীমা থাকে না। তিনি সন্তানের সকল বিপদকে নিজের কাঁধে নিয়ে সন্তাকে সম্পূর্ণভাবে বিপদমুক্ত রাখতে চান। তাই আজকের এই বাবা দিবসে বাবাকে স্মরণ করছি হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর শ্রদ্ধা-ভালবাসার স্থান থেকে। যার আদর, যত্ন, স্নেহ-ভালবাসায় আমার জীবন পূর্ণ হলো, সেই বাবাই আমার কাছে পৃথিবীর মুল্যবান সম্পদ। বিশ্ব বাবা দিবসে আমার দৃপ্ত শপথ, জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাবাকে সবচেয়ে বড় গুরু মেনে তার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।
ওমর ফারুক, সাব এডিটর,বাংলাসংবাদ২৪.কম

সম্পাদনায় : এম.শাহজাহান. সাব-এডিটর, বাংলাসংবাদ২৪.কম ০১৫৫৭৩৭২০৯৮।