Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

নারীর সমঅধিকারের ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ

Published:2013-06-16 16:04:20    

নিউইয়র্ক : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া নারী হলেও তারা বাংলাদেশে নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিধিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবং খালেদা জিয়া প্রতিনিধিত্ব করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। নারীদের সমান অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ তিনি তার মেয়েদের নিয়ে ভয়ের মধ্যে ছিলেন। যে কারণে তাদের ছোট বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন। গত ১ জুন সন্ধ্যায় সাহিত্য পরিষদ (নিউইয়র্ক) আয়োজিত নারী-মুক্তি ভাবনায় ‘অধিকারের সমতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচকবৃন্দ একথা বলেন।

জ্যামাইকার পি এস ১৩১ স্কুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে কি-নোট স্পিকার ছিলেন ঠিকানা সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান। অধ্যাপিকা হুসনে আরার সঞ্চালনায় সুন্দর এই অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের সময় ডটকমের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদকও বিশিষ্ট সাহিত্যিক আনিসুল হক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ মীনাক্ষী দত্ত, বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহমেদ এবং নতুনপ্রজন্মের সিলভিয়া আব্দুল্লাহ।

প্রবাসের বিশিষ্ট আবৃত্তিকার জি এইচ আরজুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কন্সাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সহ-সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান, আভার প্রধান মেহের চৌধুরী, মজিব-উর রহমান, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, রোকেয়া আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ওবায়দুল্লাহ মামুন, ফাহিমা তাসনীন, জাকির হোসাইন (হীরু ভুইয়া), ছদরুন নূর প্রমুখ। অনুষ্ঠানের ব্যতিক্রমী এবং চমৎকার সূচনা করেন মুমু আনসারী কবিতায় এবং সঙ্গীত শিল্পী শিরিন রহমান আরা তার সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। সূচনা সঙ্গীত এবং কবিতার পর অতিথিবৃন্দ মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। এরপরপরই ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলসহ অতি সম্প্রতি যারা মারা গিয়েছেন তাদের সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আনিসুল হক বলেন, আমরা পুরুষবাদী রাষ্ট্র এবং সমজে বসবাস করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা নারী। কিন্তু আমরা এখনো বলি এই দুই মহিলাকে সরাতে পারলেই বাংলাদেশের মানুষ সমস্যার সমাধান হবে। এটাও নারীবিরোধী ব্যাখ্যা। এর ফলে ভেতরের পুরষটা জেগে ওঠে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, যতদিন পর্যন্ত মনের দীনতা এবং মানসিকতার পরিবর্তন না হবে পুরো মন্ত্রিসভা নারী হলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, নারীদের অধিকার নিয়ে কবি সাহিত্যিকসহ আমাদের সবার কাজ করা উচিত। নারী অধিকার আদায় করতে হলে আমাদের ইউনিভার্সেল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের সংবিধান। কারণ তিন মেয়েকে নিয়ে আমি নিজেও শঙ্কিত। আমার যেহেতু কোনো ছেলে নেই, আমার সম্পত্তি পাওয়া উচিত আমার মেয়েদের। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আমার সম্পত্তি আমার মেয়েদের পেতে হলে আমার ভাই-এর ছেলের অনুমতি নিতে হবে। এই আইন রেখে আমরা কীভাবে নারীদের সমান অধিকার আদায় করব? তিনি বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিনিধিত্ব এবং বেগম খালেদা জিয়া করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিনিধিত্ব।

রোকেয়া হায়দার বলেন, নারীরা পুরুষের কাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এটা ঠিক বলা যাবে না। মহিলাদেরই তাদের অধিকারহীনতার জন্য দায়ী। কারণ নারীদের অগ্রগতির জন্য তাদের অনীহা এবং অনিচ্ছা রয়েছে। তারা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করেন না, তারা কাঁদের দেয়াল ভাঙতে পারছেন না। তিনি বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাদের শিক্ষিত হতে হবে, লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। তিনি বলেন, নারীর অধিকারের কথা সংবিধনে লেখা আছে, ছাপার অক্ষরে। কিন্তু এর কোনো বাস্তবায়ন নেই।

কৌশিক আহমেদ বলেন, বর্তমানে আমেরিকায় ৪০ শতাংশ নারী তাদের সংসার চালান, ১৯৬০ সালে এই সংখ্যাি ছল মাত্র ১১ শতাংশ। আইন করে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এর জন্য নারীদের সচেতন হতে হবে, লেখাপড়া করতে হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।সিলভিয়া আব্দূল্লাহ বলেন, জাতিসংঘে, সিভিল রাইটস সোসাইটিসহ সকল দেশের আইনের নারীদের অধিকারের কথা রয়েছে কিন্তু তারপরেও নারীদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।

সেমিনারের পর কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন শহীদ হাসান, হোসেন জাব্বার শৈবাল, শাহ মাহবুব, মঞ্জুর কাদের, মিজানুর রহমান বিপ্লব। তবলায় ছিলেন পিনাকপানি গোস্বামী। অতিথিদের সম্মাননা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

বাংলাসংবাদ২৪/এমএস
 

আরও সংবাদ