Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Sun September 15 2019 ,

  • Techno Haat Free Domain Offer

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও বিবিএ কোর্স স্বপ্ন দেখায় আকাশ ছোঁয়ার

Published:2013-06-17 17:22:29    

ঢাকাঃ নানা কারণে যারা যথাসময়ে শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত হয়েছেন, উন্মুক্ত শিক্ষা পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী তাদের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন যাবত ‘বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ নানাভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। দেশের সর্বস্তরের জনগণ এর দ্বারা দারুণভাবে উপকৃত হয়ে আসছেন। মূলত এটি একটি দূর শিক্ষণ পদ্ধতি। এ বিষয়ে সকলেই কম-বেশি অবগত আছেন।

নতুন কোর্স : চার বছর মেয়াদী অনার্স ও বিবিএ কোর্স

অনেকেই হয়তো জানেন না, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টি জনগণের একটি বহুল প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এখান থেকে বিগত তিন বছর যাবত অনার্স কোর্স পরিচালিত হয়ে আসছে। অতি সম্প্রতি এর সাথে যুক্ত হয়েছে উচ্চ শিক্ষার আরো একটি শাখা- বিবিএ ও এমবিএ কোর্স। এ কোর্স দুটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল সাড়া জাগিয়েছে। কর্তৃপক্ষও অতি চমৎকারভাবে কোর্স দুটিকে সাজিয়েছেন।





অনার্স কোর্স

চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সের যাত্রা শুরু হয় ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে। কম প্রচার ও নতুন চালু হওয়ায় প্রথম ব্যাচে তুলনামূলক কম সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। দ্বিতীয় ব্যাচে (শিক্ষাবর্ষ ২০১১-২০১২) তিনটি আঞ্চলিক কেন্দ্র- ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ভর্তির কার্যক্রম চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত অনার্স কোর্সকে ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এ ব্যাচে দেড় সহাস্রাধিক শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, সেখান থেকে চারশত একত্রিশজনকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়। এ বছরের শুরুর দিকে তৃতীয় ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০১২-২০১৩) কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে অনার্স কোর্সটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগানোর কারণে উত্তীর্ণ ৪০৩ জন শিক্ষার্থীকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।

শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন এত আগ্রহ?

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যায় হল দেশের ২৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। সকলেরই জানা আছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি। তা ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানে বয়সের কোনো বাধা নেই। এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের যথাসময়ে অনার্স করার সুযোগ হয়নি, তারা এখানে অনায়াসে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। আকর্ষণের আরেকটি অন্যতম কারণ হল এর শিক্ষার গুণগত মান।



কী আছে কোর্সে?

কী কারণে কোর্সটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে গুণগত মানে ভিন্ন ও উন্নত, নিচের বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকালে তা আপনি নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন:

♦ স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জনের জন্যে একজন শিক্ষার্থীকে মোট ৪০টি কোর্স বা ১২০ ক্রেডিট সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করতে হয়। (অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স সংখ্যা থাকে ২৪-৩০টি)

♦ ১ ক্রেডিট = শিক্ষার্থীকে (কম-বেশি) ৩০ ঘন্টা লেখাপড়ায় নিয়োজিত থাকতে হয়। ৩০ ঘন্টার মধ্যে ১৫ ঘন্টা নিজেকে তৈরি করতে হয় এবং ১৫ ঘন্টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।

♦ ৪০টি কোর্সের মধ্যে সম্মান বিষয়ের ২৫টি কোর্স এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ১৫টি কোর্স রয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত।

♦ প্রতি সিমেস্টারে (৬ মাসে ১ সিমেস্টার) ৫টি কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। তবে শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনে প্রতি সিমেস্টারে সর্বনিম্ন দুইটি কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করতে পারে।

♦ একজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ধারাবাহিকভাবে সবোর্চ্চ ০৮ একাডেমিকবর্ষ বা ১৬ সিমেস্টার পর্যন্ত বলবৎ থাকে।



অনুষদ

বর্তমানে শুধু ‘সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল’ নামক অনুষদে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হচ্ছে। এর আওতায় রয়েছে:

    ♦ ইতিহাস

    ♦ দর্শন

    ♦ ইসলামিক স্টাডিজ

    ♦ রাষ্ট্রবিজ্ঞান

    ♦ সমাজতত্ত্ব



ক্লাস, শিক্ষক ও অন্যান্য

প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত দুইদিন ক্লাস হয়। এ দুদিন হল শুক্র ও শনিবার। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সপ্তাহের অন্যান্য দিনেও নিয়মিত ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা আছে। শিক্ষকগণ অত্যন্ত যত্মবান ও হেল্পফুল। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকমণ্ডলি ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ নিয়মিত ক্লাস নিয়ে থাকেন।

ঢাকার অন্য তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যথা- ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষকগণ নিয়মিত ক্লাস নেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়ানো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকগণও এখানে ক্লাস নিয়ে থাকেন।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ভিত্তিক শ্রেষ্ঠ শিক্ষকমণ্ডলি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পাঠ্যবিষয়ের পুস্তক রচয়িতাগণের কাছে ক্লাস করার সৌভাগ্য একজন শিক্ষার্থীর জন্য এক অনন্য পাওয়া।

খরচপাতি

কোর্স ফি ♦ প্রতি কোর্স ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা।

রেজিস্ট্রেশন ফি ♦ প্রতি সিমেস্টার ২০০/- (দুইশত) টাকা।

সুতরাং প্রতি সিমেস্টারে পাঁচটি কোর্সের জন্য পাঁচ হাজার টাকা কোর্স ফি ও দুইশত টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি এবং সিমেস্টার শেষে ফরম ফিলাপের জন্য এক হাজার পাঁচশত টাকা ফি প্রদান করতে হবে।

প্রদত্ত কোর্স ফির বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে কিছু পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়।

শেষ কথা

অনেক সময় এমন হয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করার অভাবে মিস হয়ে যায় অনেক কিছু। সুতরাং যাদের সামর্থ্য আছে, তাদেরকে সুযোগটি হাত ছাড়া না করার অনুরোধ করবো।


আসুন, বদলে ফেলি নিজেকে

ছুঁয়ে দেখি আকাশের ঐ নীল সীমান্ত ...


বাংলাসংবাদ২৪/ব্লগার আশিক/এসএস

আরও সংবাদ