Widget by:Baiozid khan
  • Advertisement

রাজনীতিবীদরা নিজেদেরকে আক্রমনের জন্য হিংস্র হয়ে যায় : সাকা চৌধুরী

Published:2013-06-20 17:07:22    

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি চতুর্থ দিনের মতো তার পক্ষে জবানবন্দিকালে বলেন রাজনীতিবীদরা নিজেদের সম্প্রদায়কে আক্রমনের জন্য হিংস্র প্রানীর মতো হয়ে যায়। একজন আরেকজনের মাথা কিভাবে খাবে এ নিয়ে ব্যাস্ত থাকে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার জবানবন্দি গ্রহণের সময় তিনি একথা বলেন। আজ জবানবন্দি গ্রহণ অসম্পূর্ন শেষে আগামী ২৩ জুন রোববার পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল।   
    
সালাহউদ্দিন আদালতে বলেন, তিনি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি এসময় বলেন, পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরে এমন একটি ঘটনা আমি মনে করতে পারছিনা যেখানে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা কারাগারে থাকা অবস্থায় দৈহিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গ্রেফতারের পর অন্য কারো দ্বারা কোন রকম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও শোনা যায়নি।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে আদালতের সুবিচার পেতে হাইকোর্টের বিচারকদের সীমাবন্ধতা ছিলনা। এসময় ট্রাইুব্যনাল বলেন, এ বক্তব্য লেখা হবেনা।

এসময় উপস্থিত প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন আদালতকে বলেন, এ বক্তব্য জুডিশিয়ারীর উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। রুলসে এ জবানবন্দি মামলায় ডিফেন্সকে সমর্থন করছেনা। এখানে একটি ওয়ার্ডও নাই ডিফেন্সকে সমর্থন সহযোগীতা করে। তখন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সীমনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনা। পরে জবানবন্দির এ অংশটুকু আদালতের রেকর্ডে রাখা হয়নি।

এসময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক সময়ে খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলীকে রাষ্ট্রদ্র্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। ওই মামলায় ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ আলী ২ মাস ২৪ দিন আমার মত দাড়িয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তখন আমরা ছিলাম পরাধীন। এখন এ স্বাধীন দেশে মাত্র তিন দিন পরই আমাকে টাইম ম্যানেজম্যান্টের কথা শুনানো হচ্ছে। আমি আড়াই বছর যাবত জেলে আছি।

তিনি বলেন, মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী তখন রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া। শারিরিকভাবে নির্য়াতনের শিকার হয়েছেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ সেলিম, ওবায়দুল কাদের, আবদুল জলিলের মতো উচ্চ সারির রাজনৈতিক নেতারাও।

তিনি বলেন, আমি ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে হওয়ার সুবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনের সর্বোচ্চ মঞ্চে আসন গ্রহনের সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি পেশাজিবী সম্পদায় নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য নিজেদের সংগঠন রয়েছে। কিন্ত শুধুমাত্র রাজনীতিবীদদের এমন কোন সংগঠন নেই।
 
রাজনীতিবীদরা নিজেদের সম্প্রদায়কে আক্রমনের জন্য হিংস্র প্রানীর মতো হয়ে যায়। একজন আরেকজনের মাথা কিভাবে খাবে এ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজের অতীত ইতিহাস থেকে বলেন, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির এমপি মন্ত্রীরা হুলিয়ার কারণে শপথ নিতে পারছিল না। আমার বন্ধু আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তখন আগের দিন রাতে সংসদ ভবনের ৭তলার রুমে চলে আসে। পরদিন আমি নিজে তাকে স্পীকারের কাছে নিয়ে শপথ করাই। এ নিয়ে তখন আওয়ামীলীগ এমপিরা সংসদে তীব্র প্রতিবাদ করেন। ওই সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। আমি তখন এনডিপি করতাম।

গত বছরের ৪ এপ্রিল সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সুনির্দিষ্ট ২৩টি ঘটনায় ৭২টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করা হয়। তাকে এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।


বাংলাসংবাদ২৪/এসএ/বিএইচ
 

আরও সংবাদ