Widget by:Baiozid khan
শিরোনাম:

ঢাকা Mon June 18 2018 ,

২৫ অক্টোবরের আগে আমাকে ফাঁসি দিতে পারবেন?

Published:2013-06-23 18:59:15    

ঢাকা: প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমনকে উদ্দেশ্য করে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, সিমন সাহেব ২৫ অক্টোবরের আগে আমাকে ফাঁসি দিতে পারবেন? জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, না সম্ভব না। পরে সাকা বলেন, আমাকে দেয়া সম্ভব না হলে আর কাউকে ফাঁসি দেয়া সম্ভব না।

বস্তুত এই সরকার সাংবিধানিকভাবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। তারপর সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হবে।

রোববার মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপির এই নেতা নিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পঞ্চম দিনের মতো সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য পেশ করেন। জবানবন্দি পেশ করার পরে মামলার কার্যক্রম ১ঘন্টা বিরতি দেয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমার তো নয়ই, বরং ট্রাইব্যুনালের মামলায় কারো ফাঁসির দেয়া সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।


ওই সময় সাকা সাক্ষ্যের স্টেটমেন্টে সাক্ষর দেয়ার জন্য বসে থাকেন। সাক্ষর দিয়ে এজলাস থেকে বের হওয়ার আগে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেন। এছাড়া তিনি ট্রাইব্যুনালের জবানবন্দিতে বিভিন্ন প্রসঙ্গে বলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে আনিত চার্জ বিষয়ে কোন কথা বলেন না। তখন ট্রাব্যুনাল তকে চার্জ বিষয়ে কথা বলার তাগিদ দেন।
 

তার দেয়া সাক্ষ্যে ব্যক্তি জীবনের রাজনৈতিক  নির্যাতনের পাশাপশি দক্ষিণ এশিয়ার ও ১/১১এর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতনের কথা বলেন।

তিনি এসব অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেয়ার সময় প্রসিকিউশন থেকে আপত্তি তোলা হয়, এসময় ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ আপত্তিতে বলেন,(ট্রাইব্যুনালস-অ্রাক্ট-১৯৭৩) আইন নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিষয়টি সংসদের। সংসদের  বাইরে আদালত আইন নিয়ে ট্রাইব্যুনালের শোনানির এখতিয়ার আছে।

তুরিন আফরোজ বলেন, তিনি (সাকা) কতখানী রেলিভেন্সী বক্তব্য দিচ্ছেন। আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। ডিফেন্সের আইনজীবী ও প্রসিকিউশন বসে আছেন। তিনি ১০ সেশন বক্তব্য দিয়েছেন। তা চার্জের সাথে রেলিভিন্সী না। তিনি ১০ কার্যদিবস বলুক তবে সেটা হতে হবে অভিযোগ(চার্জ) সম্পৃক্ত।

পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর জানতে চান, মিস্টার সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী  আপনি ফ্যাক্টে আসেন। জবাবে সাকা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অীভযোগে শুধু ভুমিকাই ছিল ১৬ পাতার।

তিনি ট্রাইব্যুনালে কাছে প্রশ্ন করেন এই আইনের কোথাও কি সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে, দ্রুত বিচার আদালতের জন্য যেমন ৯০দিন উল্লেখ আছে। ট্রাইব্যুনালে তেমন কোন টাইম ফ্রেমতো আইনের কোথাও নেই।  সাকা বলেন অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে আড়াই মাস হয়েছে কি করলেন? কোথাও কি টাইম দেয়া আছে?

তিনি ট্রাইব্যুনাল কে বলেন, আপনি যদি বলেন, জবানবন্দি শেষ করে দেই। কালকে ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি ডিপোজিশন দিচ্ছি যে তাতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন এর আগে আমি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক সময়ে খেলাফত আন্দোলন নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীকে রাষ্ট্রদ্র্রোহিতার মামলা দেয়া হয়েছিল। ওই মামলায় ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে মাওলানা মোহাম্মদ আলী ২ মাস ২৪ দিন তার নিজের মামলায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তখন আমরা ছিলাম পরাধীন। আর একটি স্বাধীন দেশে জবানবন্দির মাত্র ১০ সেশন বলে খোটা দেয়া হচ্ছে।

আমার বিরুদ্ধে দেড় বছর ধরে ৪০জন সাক্ষী দিয়েছেন।  তার মধ্যে ২১ জন শোনা ওঝা যারা শুনে সাক্ষী দিয়েছেন।  ট্রাইব্যুনাল বলেন আপনি রেলিভেন্সী বক্তব্য দেন আমরা শোনবো। সাকা বলেন বিরক্ত হলে চলবে না। আপনাদের কাজ ধৈর্য্যরে। আমার তো ধের্য্য নেই।

তিনি আদালতকে প্রশ্ন করে বলেন, শাহবাগ চত্ত্বরের আওয়াজে ট্রাইব্যুনালের আইন পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আপিলে আটকে গেছে দেখছেন ৮ জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩৪ দিন ওয়াকিং দিন আছে। জানি কি হবে এই কেইসে। তিনি প্রসিকিউটর কে বলেন এতো কিছু বলতে নেই। আমি ট্রাইব্যুনালের বিষয়ের বাইরে যাব না। ট্রাইব্যুনাল বলেন, আপনার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করুণ। সাকা বলেন, সংক্ষিপ্ত করবো কিভাবে। ৪২ বছরের ঘটনা তো।

চেয়ারম্যান জানতে চান যে আপনার কত দিন লাগবে। সাকা বলেন, আমি বলতে পারবো না। আমাকে যে তিনটা প্যারামিটার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে সে তিনটা বিষয়ের বাইরে যাবো না।  আমার জীবন বিপন্ন। আমি কোথায় ছিলাম সেটা প্রমাণ করতে হবে। কোথায় ছিলাম না সেটা প্রমাণ করতে হবে না। আমি বিদেশ থেকে সাক্ষী আনতে চাই। এবং পরোয়ানা প্রয়োজন। পরোয়ানা জারির পরে আমার সাক্ষীদের হাজির করবো। প্রসিকিটর বলেন আপনার সাক্ষীর তালিকা তো জমা দেন নি। দিয়েছি আমি কি নির্দিষ্ট ৪ জনের নাম দিব যারা ভয়ে বাড়ী-ঘর ছেড়ে চলে যাবে। আমার সাক্ষী যে কলকাতার জেলে পাওয়া যাবেনা তার নিশ্চয়তা কি?  

রোববার ট্রাইব্যুনাল-১এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ফজলে কবীরের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দি পেশ করেন।  জবানবন্দি অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন তবে ট্রাইব্যুনাল তাকে দুই দিনের মধ্যে তার জবানবন্দি শেষ করার তাগিদ দেন।  জবাবে সাকা বলেন, আমি পারবো না।



বাংলাসংবাদ২৪/এসএ/বিএইচ
 

আরও সংবাদ